পাহাড়, শেরপুর

রাজার পাহাড় ও বাবেলাকোনাRajar Pahar and Babelakona

সময় লাগে
দুই থেকে তিন ঘণ্টা, যাওয়া-আসা বাদে।
সেরা মাস
নভে–ফেব্রু

গারো পাহাড়ের শেরপুর অংশের সবচেয়ে উঁচু টিলা, ঢেউফা নদীর ওপরে প্রায় একশ হেক্টরের সমতল চূড়া, আর পাদদেশে গারো, হাজং ও কোচদের গ্রাম বাবেলাকোনা।

ভ্রমণের পরিকল্পনা

সেরা সময়
নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি; গরমের মাসে দুপুরে চূড়ায় রোদে দাঁড়ানো যায় না।

এক নজরে

কোথায়
সিংগাবরুণা ইউনিয়ন, শ্রীবরদী, মেঘালয় সীমান্তে
শেরপুর শহর থেকে
কর্ণঝোরা বাজার হয়ে প্রায় ৩৩ কিলোমিটার
পাদদেশে
বাবেলাকোনা: গারো, হাজং ও কোচদের গ্রাম, কালচারাল একাডেমিসহ

সম্পর্কে

রাজার পাহাড় শ্রীবরদীর একেবারে উত্তরে সিংগাবরুণা ইউনিয়নে, শ্রীবরদী শহর থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার আর শেরপুর থেকে কর্ণঝোরা বাজার হয়ে ৩৩ কিলোমিটার। কোন রাজার নামে নাম, কেউ নিশ্চিত নয়; শুধু জানা যায় নামটা পুরোনো। সীমান্তের অন্য টিলাগুলো থেকে এর তফাত চূড়ায়: প্রায় একশ হেক্টরের চওড়া, প্রায় সমতল মাঠ। নিচে ঢেউফা নদী আর তার বালুচর, চারপাশে কর্ণঝোরা, মালাকোচা, দিঘলাকোনা, হারিয়াকোনা গ্রাম, আর সীমান্ত পিলারের ওপারেই মেঘালয়ের পাহাড়।

পাদদেশে বাবেলাকোনা: গারো, হাজং আর কোচ পরিবারের গ্রাম। গির্জা, ছোট মন্দির, জাদুঘর ও লাইব্রেরিসহ একটা কালচারাল একাডেমি, আর পাহাড়ি গ্রামের ঘরবাড়ি ও সবজির বাগান। কারিতাস, ওয়ার্ল্ড ভিশন আর বন বিভাগের বিট অফিসও এখানে; বিজিবি ক্যাম্পের পেছনের ঢালে রাবার বাগান।

এটা রাইডের জায়গা নয়, হাঁটার জায়গা: পথ ধরে চূড়ায়, কিনার ধরে দৃশ্য দেখতে দেখতে, তারপর নেমে নদীর বালুতে। সীমান্ত সড়ক থেকে শেষ এক কিলোমিটার কাঁচা, নদী পার হতে এখন দুটো সেতু আছে, আর আলো থাকতে থাকতেই ফিরে আসার নিয়ম।

যাওয়ার পথ: শেরপুর শহর থেকে বাস বা সিএনজিতে শ্রীবরদী হয়ে কর্ণঝোরা বাজার, তারপর শেষটুকু সিএনজি বা মোটরসাইকেলে; শ্রীবরদী শহর থেকে পাহাড় প্রায় ১৪ কিলোমিটার উত্তরে।

যা করতে পারেন

  • চূড়ার মাঠে উঠে কিনার ধরে হাঁটুন; ঢেউফা আর মেঘালয়ের দিকটা দেখুন।
  • বাবেলাকোনার কালচারাল একাডেমি আর ছোট জাদুঘরটা দেখুন।
  • ঢেউফার বালুচরে নামুন।

জেনে রাখা ভালো

  • সকাল সকাল যান, সন্ধ্যার আগে ফিরুন; আলো নেই, থাকার জায়গাও নেই।
  • শেষ অংশ কাঁচা, বৃষ্টির পর কাদা; গাড়ির চেয়ে মোটরসাইকেল বা সিএনজি ভালো।
  • বাবেলাকোনা পার্ক নয়, গ্রাম: মানুষের ছবি তোলার বা গির্জা ও বাড়িতে ঢোকার আগে অনুমতি নিন।

কীভাবে যাবেন

শেরপুর গাইড পড়ুন

কাছাকাছি

পাহাড়

লাউচাপড়া পাহাড়

৪ কিমি, জামালপুর

বকশীগঞ্জে গারো পাহাড়ের জামালপুর অংশ: মেঘালয় সীমান্তে বনে ঢাকা টিলা, ১৯৯৪ সালের একটা বিনোদন কেন্দ্র, ভারত দেখা যায় এমন ওয়াচ টাওয়ার, ছোট লেক আর ঢালে গারো ও কোচদের গ্রাম।

স্মৃতিস্তম্ভ ও স্মৃতিসৌধFiruz Ahmmed · CC BY-SA 4.0

কামালপুর রণাঙ্গন ও স্মৃতিসৌধ

৮ কিমি, জামালপুর

বকশীগঞ্জের ধানুয়া কামালপুর সীমান্ত ঘাঁটি, যেখানে ১১ নম্বর সেক্টর ১৯৭১-এর জুলাই থেকে ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে লড়েছিল, যুদ্ধের দীর্ঘতম লড়াইগুলোর একটা; স্মৃতিসৌধ, শহীদদের কবর আর পাশে এখন স্থলবন্দর।

পার্ক ও পিকনিক স্পটমোঃ চঞ্চল মাহামুদ ভারুয়া · CC BY-SA 4.0

গজনী অবকাশ কেন্দ্র

১০ কিমি, শেরপুর

শেরপুরের প্রধান পাহাড়ি অবকাশ কেন্দ্র: গারো পাহাড়ের পাদদেশে প্রায় ৯০ একর শাল-গজারির বন, বাঁধ দেওয়া লেক, মেঘালয় দেখার ওয়াচ টাওয়ার, ক্যাবল কার, জিপলাইন আর ছোট একটা চিড়িয়াখানা।

মসজিদ ও মাজারBhoboghure · CC BY 4.0

গড়জরিপা বারো দুয়ারী মসজিদ

১৮ কিমি, শেরপুর

শ্রীবরদীর গড়জরিপায় বারো দরজার মসজিদ, গড় জরিপা দুর্গের পুরোনো জায়গায়: প্রচলিত মতে শত শত বছর আগে জরিপ শাহের গড়া, ভূমিকম্পে মাটির নিচে, ১৯৬৩ সালে খুঁড়ে তুলে নতুন করে গড়া, এখন বড় দিঘির পাশে পাঁচতলা মসজিদ।

মসজিদ ও মাজারAyman Nakib Badhan · CC BY-SA 4.0

ঘাঘড়া খান বাড়ি জামে মসজিদ

১৯ কিমি, শেরপুর

ঝিনাইগাতীর ঘাঘড়া লস্কর গ্রামে এক গম্বুজের ছোট মুঘল আমলের মসজিদ, ১৯৯৯ সাল থেকে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সংরক্ষণে; স্থানীয় কথায় প্রায় ৬০০ বছর আগে পরাজিত দুই সেনাপতি বনের ভেতর এটি গড়েছিলেন।

পার্ক ও পিকনিক স্পটShariful Islam Masum · CC BY-SA 4.0

মধুটিলা ইকোপার্ক

২২ কিমি, শেরপুর

নালিতাবাড়ী সীমান্তের পোড়াগাঁওয়ে বন বিভাগের ৩৮৩ একরের পাহাড়ি বনে ইকোপার্ক: বনের মাথার ওপর ওয়াচ টাওয়ার, নৌকাসহ লেক, স্টার ব্রিজ, মিনি চিড়িয়াখানা আর নিরিবিলি বনপথ।

অবস্থান

রাজার পাহাড় ও বাবেলাকোনা, শেরপুর

সংশোধন জানান

সময়, ভাড়া আর খোলার সময় বদলায়। যাওয়ার আগে একবার যাচাই করে নিন।

গিয়েছেন? অ্যাপে চিহ্নিত করুন।

আপনার ঘুরে আসা জায়গা আর জেলা মানচিত্রে ভরে ওঠে, ব্যাজ অর্জন হয়, আর অফলাইনেও আপনার সঙ্গে থাকে।