পাহাড়, জামালপুর

লাউচাপড়া পাহাড়Lauchapra hills

সময় লাগে
দুই থেকে তিন ঘণ্টা।
সেরা মাস
নভে–ফেব্রু

বকশীগঞ্জে গারো পাহাড়ের জামালপুর অংশ: মেঘালয় সীমান্তে বনে ঢাকা টিলা, ১৯৯৪ সালের একটা বিনোদন কেন্দ্র, ভারত দেখা যায় এমন ওয়াচ টাওয়ার, ছোট লেক আর ঢালে গারো ও কোচদের গ্রাম।

ভ্রমণের পরিকল্পনা

সেরা সময়
নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি; ভোরে পাহাড়ে কুয়াশা।

এক নজরে

চালু
১৯৯৪, জামালপুর জেলা পরিষদ
আয়তন
অনেক বড় বনে ঢাকা টিলার প্রায় ১১ একর
বকশীগঞ্জ থেকে
প্রায় ১৫ কিলোমিটার; জামালপুর শহর থেকে ৫৫

সম্পর্কে

লাউচাপড়ায় জামালপুরের সমতল ফুরিয়ে যায়। বকশীগঞ্জ শহর থেকে প্রায় ১৫ আর জামালপুর থেকে ৫৫ কিলোমিটার, এখানে জমি উঠে গেছে গারো পাহাড়ের প্রথম লাল টিলায়, শাল-গজারিতে ঢাকা, কয়েক কিলোমিটার পেছনে মেঘালয়ের উঁচু পাহাড়। জেলা পরিষদ ১৯৯৪ সালে প্রায় এগারো একরে এখানে বিনোদন কেন্দ্র খোলে: টিলার মাথায় দুটো ভিউ টাওয়ার আর আঁকাবাঁকা সিঁড়িতে ওঠা একটা উঁচু টাওয়ার, পিকনিকের মাঠ, দুটো সেতুসহ লেক, রেস্ট হাউস আর শিশুদের কোণ। টাওয়ার থেকে বনের ওপারে ভারত দেখা যায়; মানুষ আসে সেজন্যই।

ঢাল বরাবর লাউচাপড়া, পলাশতলা, দিঘলাকোনা গ্রামে গারো, হাজং আর কোচরা থাকেন; ভিড়ের দিনে তাঁদের নারীরা পাহাড়ের পাদদেশে বোনা কাপড় আর হস্তশিল্প বেচেন। কেন্দ্রটার খারাপ সময় গেছে, বিদ্যুৎ, পানি আর যাওয়ার রাস্তা কোনোটাই ভরসার নয়; তাই রিসোর্ট না ভেবে পাহাড়ে এক দিনের বেড়ানো ভাবুন: ওঠার পথ, দৃশ্য আর নীরবতার জন্য।

কামালপুর সীমান্ত কাছেই, আর পাহাড়ের ওপারে শেরপুরের রাজার পাহাড়।

যাওয়ার পথ: জামালপুর শহর থেকে বাস বা সিএনজিতে বকশীগঞ্জ, তারপর শেষ ১৫ কিলোমিটার সিএনজি বা মোটরসাইকেলে; অথবা শেরপুর থেকে শ্রীবরদী হয়ে, প্রায় ২৫ কিলোমিটার ভালো রাস্তা।

যা করতে পারেন

  • আঁকাবাঁকা সিঁড়ি বেয়ে উঁচু টাওয়ারে উঠে মেঘালয়ের দিকটা দেখুন।
  • শালবনের ভেতর দিয়ে টিলার পথে হাঁটুন।
  • পাহাড়ের পাদদেশে গারো নারীদের কাছ থেকে বোনা কাপড় কিনুন।

জেনে রাখা ভালো

  • পানি আর খাবার সঙ্গে নিন; কেনার মতো কিছু নেই, রাতে রেস্ট হাউসও ভরসার নয়।
  • মোবাইল নেটওয়ার্ক দুর্বল; কাউকে পরিকল্পনা জানিয়ে যান, সন্ধ্যার আগে নামুন।
  • অনেক চালক শেরপুরের শ্রীবরদী হয়ে ঘুরে যান; রওনার আগে সরাসরি কামালপুর রাস্তার অবস্থা জিজ্ঞেস করুন।

কীভাবে যাবেন

জামালপুর গাইড পড়ুন

কাছাকাছি

পাহাড়

রাজার পাহাড় ও বাবেলাকোনা

৪ কিমি, শেরপুর

গারো পাহাড়ের শেরপুর অংশের সবচেয়ে উঁচু টিলা, ঢেউফা নদীর ওপরে প্রায় একশ হেক্টরের সমতল চূড়া, আর পাদদেশে গারো, হাজং ও কোচদের গ্রাম বাবেলাকোনা।

স্মৃতিস্তম্ভ ও স্মৃতিসৌধFiruz Ahmmed · CC BY-SA 4.0

কামালপুর রণাঙ্গন ও স্মৃতিসৌধ

৬ কিমি, জামালপুর

বকশীগঞ্জের ধানুয়া কামালপুর সীমান্ত ঘাঁটি, যেখানে ১১ নম্বর সেক্টর ১৯৭১-এর জুলাই থেকে ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে লড়েছিল, যুদ্ধের দীর্ঘতম লড়াইগুলোর একটা; স্মৃতিসৌধ, শহীদদের কবর আর পাশে এখন স্থলবন্দর।

পার্ক ও পিকনিক স্পটমোঃ চঞ্চল মাহামুদ ভারুয়া · CC BY-SA 4.0

গজনী অবকাশ কেন্দ্র

১৩ কিমি, শেরপুর

শেরপুরের প্রধান পাহাড়ি অবকাশ কেন্দ্র: গারো পাহাড়ের পাদদেশে প্রায় ৯০ একর শাল-গজারির বন, বাঁধ দেওয়া লেক, মেঘালয় দেখার ওয়াচ টাওয়ার, ক্যাবল কার, জিপলাইন আর ছোট একটা চিড়িয়াখানা।

মসজিদ ও মাজারBhoboghure · CC BY 4.0

গড়জরিপা বারো দুয়ারী মসজিদ

২২ কিমি, শেরপুর

শ্রীবরদীর গড়জরিপায় বারো দরজার মসজিদ, গড় জরিপা দুর্গের পুরোনো জায়গায়: প্রচলিত মতে শত শত বছর আগে জরিপ শাহের গড়া, ভূমিকম্পে মাটির নিচে, ১৯৬৩ সালে খুঁড়ে তুলে নতুন করে গড়া, এখন বড় দিঘির পাশে পাঁচতলা মসজিদ।

মসজিদ ও মাজারAyman Nakib Badhan · CC BY-SA 4.0

ঘাঘড়া খান বাড়ি জামে মসজিদ

২২ কিমি, শেরপুর

ঝিনাইগাতীর ঘাঘড়া লস্কর গ্রামে এক গম্বুজের ছোট মুঘল আমলের মসজিদ, ১৯৯৯ সাল থেকে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সংরক্ষণে; স্থানীয় কথায় প্রায় ৬০০ বছর আগে পরাজিত দুই সেনাপতি বনের ভেতর এটি গড়েছিলেন।

নদী, হ্রদ ও হাওর

বাহাদুরাবাদ ঘাট

২৩ কিমি, জামালপুর

দেওয়ানগঞ্জে রেললাইনের শেষ মাথায় যমুনার ঘাট, যেখানে ১৯১২ থেকে গোটা ট্রেন ফেরিতে নদী পার হয়ে তিস্তামুখ যেত; যমুনা সেতুর পর রেল ফেরি নেই, নদী আর ঘাট আছে।

অবস্থান

লাউচাপড়া পাহাড়, জামালপুর

সংশোধন জানান

সময়, ভাড়া আর খোলার সময় বদলায়। যাওয়ার আগে একবার যাচাই করে নিন।

গিয়েছেন? অ্যাপে চিহ্নিত করুন।

আপনার ঘুরে আসা জায়গা আর জেলা মানচিত্রে ভরে ওঠে, ব্যাজ অর্জন হয়, আর অফলাইনেও আপনার সঙ্গে থাকে।