মসজিদ ও মাজার, শেরপুর

ঘাঘড়া খান বাড়ি জামে মসজিদGhagra Khan Bari Mosque

সময় লাগে
আধা ঘণ্টা।

ঝিনাইগাতীর ঘাঘড়া লস্কর গ্রামে এক গম্বুজের ছোট মুঘল আমলের মসজিদ, ১৯৯৯ সাল থেকে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সংরক্ষণে; স্থানীয় কথায় প্রায় ৬০০ বছর আগে পরাজিত দুই সেনাপতি বনের ভেতর এটি গড়েছিলেন।

এক নজরে

আমল
মুঘল; স্থানীয় প্রচলিত মতে প্রায় ৬০০ বছর
গড়ন
এক গম্বুজ, চার কোণে বুরুজ
অবস্থা
১৯৯৯ থেকে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সংরক্ষিত

সম্পর্কে

শেরপুর থেকে ঝিনাইগাতী যাওয়ার পথে ঘাঘড়া লস্কর গ্রামে খান পরিবারের ঘরবাড়ির মাঝে ঝরে যাওয়া ইটের একটা মসজিদ: চৌকো ঘরের ওপর একটা গম্বুজ, চার কোণে ছোট আটকোনা বুরুজ, একটাই দরজা, সামনের দেয়ালে পলেস্তারার নকশার চিহ্ন, আর সামনে ঘাসে ঢাকা ঈদগাহ। জেলার সবচেয়ে ভালো টিকে থাকা পুরোনো স্থাপনা এটাই; ১৯৯৯ সালে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর মুঘল আমলের নিদর্শন হিসেবে এটিকে সংরক্ষণে নেয়।

গ্রামের গল্প আরও পুরোনো। পালানো খাঁ আর জব্বার খাঁ নামে দুই ভাই কোনো এক রাজ্যের সেনাপতি ছিলেন, যুদ্ধে হেরে তখনকার এই বনে পালিয়ে এসে থিতু হন; মসজিদটা তাঁদের, বয়স প্রায় ছয়শ বছর, এমনই বলা হয়। পরিবার এখনো এর চারপাশে থাকে, এখনো এখানে নামাজ পড়ে। তাই নাম খান বাড়ি, খাঁদের বাড়ি, আর তাই জায়গাটা সংরক্ষিত পুরাকীর্তির চেয়ে বসতবাড়ির মতোই লাগে।

শেরপুর শহর আর গজনীর মাঝে অল্প সময়ের থামার জায়গা; বিকেলের পড়ন্ত আলোয় ইট যখন জ্বলে, তখনই সবচেয়ে ভালো।

যাওয়ার পথ: শেরপুর–ঝিনাইগাতী সড়কে, শেরপুর শহর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার; ঝিনাইগাতীগামী যেকোনো বাস বা সিএনজি ঘাঘড়ায় নামিয়ে দেবে, সেখান থেকে গ্রামে একটু হাঁটা।

যা করতে পারেন

  • দরজার চারপাশের পলেস্তারার নকশা আর কোণের বুরুজগুলো দেখুন।
  • পরিবারের কাছে দুই ভাইয়ের গল্পটা শুনুন।

জেনে রাখা ভালো

  • এটা একটা পরিবারের উঠানের ভেতরে আর রোজ ব্যবহার হয়: বাড়ির লোককে সালাম দিন, জুতা খুলুন, নামাজের সময় এড়িয়ে চলুন।

কীভাবে যাবেন

শেরপুর গাইড পড়ুন

কাছাকাছি

মসজিদ ও মাজারBhoboghure · CC BY 4.0

গড়জরিপা বারো দুয়ারী মসজিদ

৩ কিমি, শেরপুর

শ্রীবরদীর গড়জরিপায় বারো দরজার মসজিদ, গড় জরিপা দুর্গের পুরোনো জায়গায়: প্রচলিত মতে শত শত বছর আগে জরিপ শাহের গড়া, ভূমিকম্পে মাটির নিচে, ১৯৬৩ সালে খুঁড়ে তুলে নতুন করে গড়া, এখন বড় দিঘির পাশে পাঁচতলা মসজিদ।

স্মৃতিস্তম্ভ ও স্মৃতিসৌধBhoboghure · CC BY 4.0

শের আলী গাজীর মাজার

১০ কিমি, শেরপুর

শেরপুর পরগনার শেষ গাজী জমিদার, যাঁর নামে জেলার নাম, তাঁর কবর শহর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে গাজীর খামারে; প্রতি ১ ফাল্গুন ওরস আর গ্রামীণ মেলা।

মসজিদ ও মাজারSkmalamgir · CC BY-SA 4.0

মাইসাহেবা জামে মসজিদ

১১ কিমি, শেরপুর

শেরপুরের সবচেয়ে বড় মসজিদ, প্রচলিত মতে প্রায় ২৫০ বছরের পুরোনো আর বহুবার নতুন করে গড়া; শহরের যেকোনো প্রান্ত থেকে দেখা যায় এর দুই উঁচু মিনার, আর আছে এক হাতির গল্প।

পার্ক ও পিকনিক স্পটমোঃ চঞ্চল মাহামুদ ভারুয়া · CC BY-SA 4.0

গজনী অবকাশ কেন্দ্র

১৫ কিমি, শেরপুর

শেরপুরের প্রধান পাহাড়ি অবকাশ কেন্দ্র: গারো পাহাড়ের পাদদেশে প্রায় ৯০ একর শাল-গজারির বন, বাঁধ দেওয়া লেক, মেঘালয় দেখার ওয়াচ টাওয়ার, ক্যাবল কার, জিপলাইন আর ছোট একটা চিড়িয়াখানা।

পার্ক ও পিকনিক স্পটShariful Islam Masum · CC BY-SA 4.0

মধুটিলা ইকোপার্ক

১৫ কিমি, শেরপুর

নালিতাবাড়ী সীমান্তের পোড়াগাঁওয়ে বন বিভাগের ৩৮৩ একরের পাহাড়ি বনে ইকোপার্ক: বনের মাথার ওপর ওয়াচ টাওয়ার, নৌকাসহ লেক, স্টার ব্রিজ, মিনি চিড়িয়াখানা আর নিরিবিলি বনপথ।

গির্জা

বারোমারি ফাতেমা রানীর তীর্থস্থান

১৮ কিমি, শেরপুর

নালিতাবাড়ী সীমান্তে ১৯৪২ সালের ক্যাথলিক ধর্মপল্লী, ১৯৯৮ সালে মারীয় তীর্থস্থান ঘোষিত; অক্টোবরের শেষে দুই দিনের তীর্থোৎসবে হাজার হাজার মানুষ আসেন।

অবস্থান

ঘাঘড়া খান বাড়ি জামে মসজিদ, শেরপুর

সংশোধন জানান

সময়, ভাড়া আর খোলার সময় বদলায়। যাওয়ার আগে একবার যাচাই করে নিন।

গিয়েছেন? অ্যাপে চিহ্নিত করুন।

আপনার ঘুরে আসা জায়গা আর জেলা মানচিত্রে ভরে ওঠে, ব্যাজ অর্জন হয়, আর অফলাইনেও আপনার সঙ্গে থাকে।