গির্জা, শেরপুর

বারোমারি ফাতেমা রানীর তীর্থস্থানBaromari shrine of Mary, Queen of Fatima

সময় লাগে
এক ঘণ্টা; তীর্থোৎসবে দুই দিন।
সেরা মাস
অক্টো–ফেব্রু

নালিতাবাড়ী সীমান্তে ১৯৪২ সালের ক্যাথলিক ধর্মপল্লী, ১৯৯৮ সালে মারীয় তীর্থস্থান ঘোষিত; অক্টোবরের শেষে দুই দিনের তীর্থোৎসবে হাজার হাজার মানুষ আসেন।

ভ্রমণের পরিকল্পনা

সেরা সময়
তীর্থোৎসবের জন্য অক্টোবরের শেষ দিনগুলো; নিরিবিলির জন্য শীতের যেকোনো সকাল।

এক নজরে

ধর্মপল্লী প্রতিষ্ঠা
১৯৪২ (সাধু লিও)
তীর্থস্থান
নির্মাণ ১৯৯৭, ঘোষণা ১৯৯৮
তীর্থোৎসব
অক্টোবরের শেষে দুই দিন

সম্পর্কে

মেঘালয় সীমান্তের এই অংশের গারো ও অন্য ক্যাথলিক গ্রামগুলোর জন্য ১৯৪২ সালে বারোমারিতে সাধু লিওর ধর্মপল্লী প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০০ সালের জুবিলির আগে বিশ্বাসের তীর্থযাত্রার আহ্বানে ১৯৯৭ সালে ধর্মপল্লী টিলার ঢালে পর্তুগালের ফাতেমার আদলে ফাতেমা রানী মা মারিয়ার তীর্থস্থান গড়ে, আর ১৯৯৮ সালে ময়মনসিংহ ধর্মপ্রদেশ এটিকে তীর্থস্থান ঘোষণা করে। এরপর থেকে এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় মারীয় তীর্থ।

তীর্থোৎসব অক্টোবরের শেষে দুই দিন। প্রথম দিনে পাপস্বীকার, খ্রিস্টযাগ, জপমালা, সন্ধ্যার পর মোমবাতি হাতে আলোক শোভাযাত্রা, আরাধনা, নিরাময় অনুষ্ঠান আর নিশিজাগরণ; দ্বিতীয় দিন সকালে জীবন্ত ক্রুশের পথ টিলা বেয়ে ওঠে, তারপর দশটায় সমাপনী মহাখ্রিস্টযাগ। মানুষের হিসাব তিরিশ হাজার থেকে ষাট হাজারের বেশি: দেশের প্রতিটি ধর্মপ্রদেশের ক্যাথলিক, আর শোভাযাত্রা ও তার ঘিরে বসা মেলা দেখতে আসা অনেক মুসলিম ও হিন্দু প্রতিবেশী।

এই দুই দিনের বাইরে এটা একটা শান্ত ধর্মপল্লী: গির্জা, গ্রোটো, ঢালে ক্রুশের পথের স্টেশন, পেছনেই পাহাড়। নাকুগাঁও থেকে কয়েক কিলোমিটার, পানিহাটা যাওয়ার পথে।

যাওয়ার পথ: নালিতাবাড়ীর গড়কান্দা চৌরাস্তা থেকে উত্তরে নাকুগাঁও স্থলবন্দরের দিকে; মিশন বন্দর থেকে কয়েক কিলোমিটার, সীমান্ত সড়কে। নালিতাবাড়ী থেকে অটো আর মোটরসাইকেল যায়।

যা করতে পারেন

  • ঢাল বেয়ে ক্রুশের পথ ধরে গ্রোটো পর্যন্ত হাঁটুন।
  • তীর্থোৎসবের প্রথম সন্ধ্যায় মোমবাতির জপমালা শোভাযাত্রায় যোগ দিন।

জেনে রাখা ভালো

  • তীর্থোৎসবের সময় নালিতাবাড়ীর হোটেল ভরে যায়; অনেক তীর্থযাত্রী ক্যাম্প করেন বা নিশিজাগরণে রাত কাটান।
  • শালীন পোশাক পরুন, গির্জার ভেতরে আর গ্রোটোর আশপাশে চুপ থাকুন; এটা প্রথমত প্রার্থনার জায়গা।

কীভাবে যাবেন

শেরপুর গাইড পড়ুন

কাছাকাছি

পার্ক ও পিকনিক স্পটShariful Islam Masum · CC BY-SA 4.0

মধুটিলা ইকোপার্ক

৪ কিমি, শেরপুর

নালিতাবাড়ী সীমান্তের পোড়াগাঁওয়ে বন বিভাগের ৩৮৩ একরের পাহাড়ি বনে ইকোপার্ক: বনের মাথার ওপর ওয়াচ টাওয়ার, নৌকাসহ লেক, স্টার ব্রিজ, মিনি চিড়িয়াখানা আর নিরিবিলি বনপথ।

পাহাড়George achik · CC BY-SA 4.0

পানিহাটা-তারানি পাহাড়

৬ কিমি, শেরপুর

মেঘালয়ের তুরা পাহাড়ের পাদদেশে দুই সীমান্ত গ্রাম, যেখানে ভোগাই নদী নুড়ির বিছানার ওপর দিয়ে পাহাড় থেকে বেরিয়ে আসে; শেরপুরে পাহাড়ের সবচেয়ে পরিষ্কার আর সবচেয়ে নিরিবিলি দৃশ্য।

পার্ক ও পিকনিক স্পটমোঃ চঞ্চল মাহামুদ ভারুয়া · CC BY-SA 4.0

গজনী অবকাশ কেন্দ্র

১৫ কিমি, শেরপুর

শেরপুরের প্রধান পাহাড়ি অবকাশ কেন্দ্র: গারো পাহাড়ের পাদদেশে প্রায় ৯০ একর শাল-গজারির বন, বাঁধ দেওয়া লেক, মেঘালয় দেখার ওয়াচ টাওয়ার, ক্যাবল কার, জিপলাইন আর ছোট একটা চিড়িয়াখানা।

মসজিদ ও মাজারAyman Nakib Badhan · CC BY-SA 4.0

ঘাঘড়া খান বাড়ি জামে মসজিদ

১৮ কিমি, শেরপুর

ঝিনাইগাতীর ঘাঘড়া লস্কর গ্রামে এক গম্বুজের ছোট মুঘল আমলের মসজিদ, ১৯৯৯ সাল থেকে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সংরক্ষণে; স্থানীয় কথায় প্রায় ৬০০ বছর আগে পরাজিত দুই সেনাপতি বনের ভেতর এটি গড়েছিলেন।

স্মৃতিস্তম্ভ ও স্মৃতিসৌধBhoboghure · CC BY 4.0

শের আলী গাজীর মাজার

২০ কিমি, শেরপুর

শেরপুর পরগনার শেষ গাজী জমিদার, যাঁর নামে জেলার নাম, তাঁর কবর শহর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে গাজীর খামারে; প্রতি ১ ফাল্গুন ওরস আর গ্রামীণ মেলা।

মসজিদ ও মাজারBhoboghure · CC BY 4.0

গড়জরিপা বারো দুয়ারী মসজিদ

২১ কিমি, শেরপুর

শ্রীবরদীর গড়জরিপায় বারো দরজার মসজিদ, গড় জরিপা দুর্গের পুরোনো জায়গায়: প্রচলিত মতে শত শত বছর আগে জরিপ শাহের গড়া, ভূমিকম্পে মাটির নিচে, ১৯৬৩ সালে খুঁড়ে তুলে নতুন করে গড়া, এখন বড় দিঘির পাশে পাঁচতলা মসজিদ।

অবস্থান

বারোমারি ফাতেমা রানীর তীর্থস্থান, শেরপুর

সংশোধন জানান

সময়, ভাড়া আর খোলার সময় বদলায়। যাওয়ার আগে একবার যাচাই করে নিন।

গিয়েছেন? অ্যাপে চিহ্নিত করুন।

আপনার ঘুরে আসা জায়গা আর জেলা মানচিত্রে ভরে ওঠে, ব্যাজ অর্জন হয়, আর অফলাইনেও আপনার সঙ্গে থাকে।