George achik · CC BY-SA 4.0২টির ১

পাহাড়, শেরপুর

পানিহাটা-তারানি পাহাড়Panihata-Tarani hills

সময় লাগে
এক-দুই ঘণ্টা।
সেরা মাস
অক্টো–ফেব্রু
খরচ
বিনা মূল্যে। নালিতাবাড়ী থেকে মোটরসাইকেলে আসা-যাওয়া প্রায় ১৫০ টাকা (২০২৫)।

মেঘালয়ের তুরা পাহাড়ের পাদদেশে দুই সীমান্ত গ্রাম, যেখানে ভোগাই নদী নুড়ির বিছানার ওপর দিয়ে পাহাড় থেকে বেরিয়ে আসে; শেরপুরে পাহাড়ের সবচেয়ে পরিষ্কার আর সবচেয়ে নিরিবিলি দৃশ্য।

ভ্রমণের পরিকল্পনা

সেরা সময়
পরিষ্কার পাহাড়ের জন্য নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি; বর্ষার পরে নদী ভরা আর পাহাড় সবচেয়ে সবুজ।

এক নজরে

কোথায়
রামচন্দ্রকুড়া ইউনিয়ন, নালিতাবাড়ী, মেঘালয় সীমান্তে
নদী
ভোগাই, যেখানে পাহাড় থেকে বেরিয়েছে
নালিতাবাড়ী থেকে
প্রায় ১৩ কিলোমিটার, ৩৫–৪৫ মিনিট

সম্পর্কে

পানিহাটা আর তারানি রামচন্দ্রকুড়া ইউনিয়নে, নালিতাবাড়ী শহর থেকে প্রায় ১৩ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে আর শেরপুর থেকে ২৫ কিলোমিটার, নাকুগাঁও স্থলবন্দর পেরিয়েই। দর্শনার্থীর জন্য এখানে কিছু বানানো হয়নি, আর সেটাই এর আকর্ষণ। কয়েকশ মিটার দূরে মেঘালয় থেকে বেরিয়ে ভোগাই নদী গ্রামের সামনে দিয়ে পশ্চিমে বয়ে যায়; অগভীর, স্বচ্ছ, নিচে গোল নুড়ি রোদে চকচক করে। ওপারে তুরা পাহাড় খাড়া উঠে গেছে, উঁচু চূড়াগুলোয় প্রায়ই মেঘ বসে থাকে।

বাংলাদেশের দিকে একটা নিচু টিলা থেকে দৃশ্যটা পাওয়া যায়: নদী, সীমান্ত পিলার, পেছনে পাহাড়ের সবুজ দেয়াল। গ্রামে গারো আর বাঙালি দুই-ই আছেন; নদীর পাশে ক্যাথলিক মিশনের গির্জা, ছোট চিকিৎসা কেন্দ্র, স্কুল আর পাহাড়ি গ্রামের ছাত্রছাত্রীদের হোস্টেল।

মানুষ আসে নুড়ির ওপর বসতে, ঠান্ডা পানিতে পা ভেজাতে, আর পাহাড়ে আলো বদলানো দেখতে। একই রাস্তায় মধুটিলা বা বারোমারির সঙ্গে মিলিয়ে নিন।

যাওয়ার পথ: নালিতাবাড়ীর গড়কান্দা চৌরাস্তা থেকে উত্তরে নাকুগাঁও স্থলবন্দরের কাছাকাছি গিয়ে পূর্বে ভোগাই সেতু পার হোন, প্রায় ৩ কিলোমিটার গিয়ে চায়না মোড়, সেখান থেকে ১ কিলোমিটার উত্তরে; সিএনজি, অটো বা ভাড়ার মোটরসাইকেলে ৩৫–৪৫ মিনিট। ঢাকা থেকে এলে শেরপুর শহর না ঘুরে নকলা–নালিতাবাড়ী সড়ক ধরলে পথ কম।

যা করতে পারেন

  • ভোগাইয়ের নুড়ির বিছানায় হাঁটুন, অগভীর পানিতে পা ভেজান।
  • টিলায় উঠে তুরা পাহাড়ের দৃশ্য দেখুন।

জেনে রাখা ভালো

  • সীমান্ত পিলারের এপারে থাকুন; এখানে বিজিবির টহল চলে।
  • মেঘালয়ে বৃষ্টি হলে এখানে শুকনো দিনেও নদী হঠাৎ বেড়ে যায়।
  • মূল পয়েন্টে দোকান নেই: পানি সঙ্গে নিন।

কীভাবে যাবেন

শেরপুর গাইড পড়ুন

কাছাকাছি

গির্জা

বারোমারি ফাতেমা রানীর তীর্থস্থান

৬ কিমি, শেরপুর

নালিতাবাড়ী সীমান্তে ১৯৪২ সালের ক্যাথলিক ধর্মপল্লী, ১৯৯৮ সালে মারীয় তীর্থস্থান ঘোষিত; অক্টোবরের শেষে দুই দিনের তীর্থোৎসবে হাজার হাজার মানুষ আসেন।

পার্ক ও পিকনিক স্পটShariful Islam Masum · CC BY-SA 4.0

মধুটিলা ইকোপার্ক

১০ কিমি, শেরপুর

নালিতাবাড়ী সীমান্তের পোড়াগাঁওয়ে বন বিভাগের ৩৮৩ একরের পাহাড়ি বনে ইকোপার্ক: বনের মাথার ওপর ওয়াচ টাওয়ার, নৌকাসহ লেক, স্টার ব্রিজ, মিনি চিড়িয়াখানা আর নিরিবিলি বনপথ।

পার্ক ও পিকনিক স্পটমোঃ চঞ্চল মাহামুদ ভারুয়া · CC BY-SA 4.0

গজনী অবকাশ কেন্দ্র

২১ কিমি, শেরপুর

শেরপুরের প্রধান পাহাড়ি অবকাশ কেন্দ্র: গারো পাহাড়ের পাদদেশে প্রায় ৯০ একর শাল-গজারির বন, বাঁধ দেওয়া লেক, মেঘালয় দেখার ওয়াচ টাওয়ার, ক্যাবল কার, জিপলাইন আর ছোট একটা চিড়িয়াখানা।

পাহাড়

গাবরাখালী গারো পাহাড় পর্যটন কেন্দ্র

২২ কিমি, ময়মনসিংহ

হালুয়াঘাটে ভারত সীমান্তে গারো পাহাড়ের ১৬৭টি সবুজ টিলা; চূড়া থেকে মেঘালয়ের পাহাড়, নিচে লেক আর গারো জাদুঘর।

মসজিদ ও মাজারAyman Nakib Badhan · CC BY-SA 4.0

ঘাঘড়া খান বাড়ি জামে মসজিদ

২৩ কিমি, শেরপুর

ঝিনাইগাতীর ঘাঘড়া লস্কর গ্রামে এক গম্বুজের ছোট মুঘল আমলের মসজিদ, ১৯৯৯ সাল থেকে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সংরক্ষণে; স্থানীয় কথায় প্রায় ৬০০ বছর আগে পরাজিত দুই সেনাপতি বনের ভেতর এটি গড়েছিলেন।

স্মৃতিস্তম্ভ ও স্মৃতিসৌধBhoboghure · CC BY 4.0

শের আলী গাজীর মাজার

২৪ কিমি, শেরপুর

শেরপুর পরগনার শেষ গাজী জমিদার, যাঁর নামে জেলার নাম, তাঁর কবর শহর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে গাজীর খামারে; প্রতি ১ ফাল্গুন ওরস আর গ্রামীণ মেলা।

অবস্থান

পানিহাটা-তারানি পাহাড়, শেরপুর

সংশোধন জানান

সময়, ভাড়া আর খোলার সময় বদলায়। যাওয়ার আগে একবার যাচাই করে নিন।

গিয়েছেন? অ্যাপে চিহ্নিত করুন।

আপনার ঘুরে আসা জায়গা আর জেলা মানচিত্রে ভরে ওঠে, ব্যাজ অর্জন হয়, আর অফলাইনেও আপনার সঙ্গে থাকে।