পার্ক ও পিকনিক স্পট, শেরপুর

মধুটিলা ইকোপার্কMadhutila Eco Park

সময় লাগে
দুই থেকে তিন ঘণ্টা।
সেরা মাস
নভে–ফেব্রু
খরচ
প্রবেশ জনপ্রতি প্রায় ২০ টাকা আর ওয়াচ টাওয়ার প্রায় ১০ টাকা (২০২৫); রাইড ২০–৪০ টাকা।

নালিতাবাড়ী সীমান্তের পোড়াগাঁওয়ে বন বিভাগের ৩৮৩ একরের পাহাড়ি বনে ইকোপার্ক: বনের মাথার ওপর ওয়াচ টাওয়ার, নৌকাসহ লেক, স্টার ব্রিজ, মিনি চিড়িয়াখানা আর নিরিবিলি বনপথ।

ভ্রমণের পরিকল্পনা

সেরা সময়
নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি; সকালে টাওয়ার থেকে দৃশ্য সবচেয়ে পরিষ্কার।

এক নজরে

ঘোষণা
১৯৯৯, বাংলাদেশ বন বিভাগ
আয়তন
৩৮৩ একর
নালিতাবাড়ী থেকে
নন্নী বাজার হয়ে অটোতে ২০–২৫ মিনিট

সম্পর্কে

শেরপুরের দুই পাহাড়ি পার্কের মধ্যে মধুটিলাই শান্ত। বন বিভাগ ১৯৯৯ সালে মধুটিলা রেঞ্জের এই অংশকে ইকোপার্ক ঘোষণা করে, আর এখনো এটা একটা পরিচর্যা করা বনের মতোই: ঢালে শাল আর গজারি, বিশ একরের ঔষধি গাছের বাগান, গেটের কাছে গোলাপ আর মৌসুমি ফুলের কেয়ারি, আর গাছের ভেতর দিয়ে টিলার মাথায় ওঠা পথ।

সবচেয়ে উঁচু জায়গায় ওয়াচ টাওয়ার। লম্বা সিঁড়ি বেয়ে উঠতে হয়; ওপর থেকে এক পাশে মেঘালয়ের পাহাড় পর্যন্ত বন, অন্য পাশে নালিতাবাড়ীর ধানখেত; জেলার সবচেয়ে খোলা দৃশ্য এটাই। নিচে দুই ঢালের মাঝের খাদে লেক, ভাড়ার কয়েকটা দেশি নৌকা আর প্যাডেল বোট, আর এক মাথায় পার্কের ‘স্টার ব্রিজ’। পথের ধারে প্রাণীর ভাস্কর্য, ছোট চিড়িয়াখানা, শিশুদের কোণ, ক্যান্টিন আর মহুয়া রেস্ট হাউস; রেস্ট হাউস শুধু দিনে, জেলা প্রশাসকের অফিসের অনুমতিতে, রাতে কেউ থাকে না।

অনেকে ঢাকা থেকে দিনে গিয়ে দিনে ফেরেন। তবে সীমান্ত সড়ক ধরে ঘণ্টাখানেক দূরের গজনী, আর আরও পূর্বে পানিহাটা ও বারোমারির সঙ্গে মিলিয়ে ঘোরাই ভালো।

যাওয়ার পথ: শেরপুর শহরের শাপলা চত্বর থেকে লোকাল বাস বা সিএনজিতে নালিতাবাড়ীর নন্নী বাজার, তারপর অটো বা মোটরসাইকেলে গেট পর্যন্ত; অথবা মহাখালী থেকে গেটলক বাসে নালিতাবাড়ী, সেখান থেকে অটোতে ২০–২৫ মিনিট।

যা করতে পারেন

  • সিঁড়ি বেয়ে ওয়াচ টাওয়ারে উঠে বনের ওপারে মেঘালয় দেখুন।
  • দেশি নৌকায় লেক পার হোন।
  • বনপথ আর ঔষধি গাছের বাগানে হাঁটুন।

জেনে রাখা ভালো

  • পানি আর হালকা খাবার সঙ্গে নিন; ক্যান্টিন ছোট, রেস্তোরাঁ নেই।
  • রেস্ট হাউস শুধু দিনের জন্য, আগে থেকে শেরপুরের ডিসি অফিসের অনুমতি লাগে।

কীভাবে যাবেন

শেরপুর গাইড পড়ুন

কাছাকাছি

গির্জা

বারোমারি ফাতেমা রানীর তীর্থস্থান

৪ কিমি, শেরপুর

নালিতাবাড়ী সীমান্তে ১৯৪২ সালের ক্যাথলিক ধর্মপল্লী, ১৯৯৮ সালে মারীয় তীর্থস্থান ঘোষিত; অক্টোবরের শেষে দুই দিনের তীর্থোৎসবে হাজার হাজার মানুষ আসেন।

পাহাড়George achik · CC BY-SA 4.0

পানিহাটা-তারানি পাহাড়

১০ কিমি, শেরপুর

মেঘালয়ের তুরা পাহাড়ের পাদদেশে দুই সীমান্ত গ্রাম, যেখানে ভোগাই নদী নুড়ির বিছানার ওপর দিয়ে পাহাড় থেকে বেরিয়ে আসে; শেরপুরে পাহাড়ের সবচেয়ে পরিষ্কার আর সবচেয়ে নিরিবিলি দৃশ্য।

পার্ক ও পিকনিক স্পটমোঃ চঞ্চল মাহামুদ ভারুয়া · CC BY-SA 4.0

গজনী অবকাশ কেন্দ্র

১২ কিমি, শেরপুর

শেরপুরের প্রধান পাহাড়ি অবকাশ কেন্দ্র: গারো পাহাড়ের পাদদেশে প্রায় ৯০ একর শাল-গজারির বন, বাঁধ দেওয়া লেক, মেঘালয় দেখার ওয়াচ টাওয়ার, ক্যাবল কার, জিপলাইন আর ছোট একটা চিড়িয়াখানা।

মসজিদ ও মাজারAyman Nakib Badhan · CC BY-SA 4.0

ঘাঘড়া খান বাড়ি জামে মসজিদ

১৫ কিমি, শেরপুর

ঝিনাইগাতীর ঘাঘড়া লস্কর গ্রামে এক গম্বুজের ছোট মুঘল আমলের মসজিদ, ১৯৯৯ সাল থেকে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সংরক্ষণে; স্থানীয় কথায় প্রায় ৬০০ বছর আগে পরাজিত দুই সেনাপতি বনের ভেতর এটি গড়েছিলেন।

মসজিদ ও মাজারBhoboghure · CC BY 4.0

গড়জরিপা বারো দুয়ারী মসজিদ

১৮ কিমি, শেরপুর

শ্রীবরদীর গড়জরিপায় বারো দরজার মসজিদ, গড় জরিপা দুর্গের পুরোনো জায়গায়: প্রচলিত মতে শত শত বছর আগে জরিপ শাহের গড়া, ভূমিকম্পে মাটির নিচে, ১৯৬৩ সালে খুঁড়ে তুলে নতুন করে গড়া, এখন বড় দিঘির পাশে পাঁচতলা মসজিদ।

স্মৃতিস্তম্ভ ও স্মৃতিসৌধBhoboghure · CC BY 4.0

শের আলী গাজীর মাজার

১৯ কিমি, শেরপুর

শেরপুর পরগনার শেষ গাজী জমিদার, যাঁর নামে জেলার নাম, তাঁর কবর শহর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে গাজীর খামারে; প্রতি ১ ফাল্গুন ওরস আর গ্রামীণ মেলা।

অবস্থান

মধুটিলা ইকোপার্ক, শেরপুর

সংশোধন জানান

সময়, ভাড়া আর খোলার সময় বদলায়। যাওয়ার আগে একবার যাচাই করে নিন।

গিয়েছেন? অ্যাপে চিহ্নিত করুন।

আপনার ঘুরে আসা জায়গা আর জেলা মানচিত্রে ভরে ওঠে, ব্যাজ অর্জন হয়, আর অফলাইনেও আপনার সঙ্গে থাকে।