পার্ক ও পিকনিক স্পট, শেরপুর

গজনী অবকাশ কেন্দ্রGajni Obokash Kendra

সময় লাগে
আধা দিন; মধুটিলাসহ পুরো দিন।
সেরা মাস
নভে–ফেব্রু
খরচ
প্রবেশ জনপ্রতি প্রায় ২০ টাকা আর ওয়াচ টাওয়ার প্রায় ২০ টাকা (২০২৫); রাইড ৫–৬০ টাকা; গাড়ি নিলে উপজেলা চেকপোস্ট থেকে গেটপাস লাগে।

শেরপুরের প্রধান পাহাড়ি অবকাশ কেন্দ্র: গারো পাহাড়ের পাদদেশে প্রায় ৯০ একর শাল-গজারির বন, বাঁধ দেওয়া লেক, মেঘালয় দেখার ওয়াচ টাওয়ার, ক্যাবল কার, জিপলাইন আর ছোট একটা চিড়িয়াখানা।

ভ্রমণের পরিকল্পনা

সেরা সময়
নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি; পিকনিকের বাস আসার আগে শীতের সকাল।

এক নজরে

চালু
১৯৯৩, জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে
আয়তন
প্রায় ৯০ একর
শেরপুর শহর থেকে
প্রায় ৩০ কিলোমিটার, ঝিনাইগাতী ও রাংটিয়া হয়ে

সম্পর্কে

ঝিনাইগাতীর কাংশা ইউনিয়নে, ঠিক যেখানে সমতল শেষ হয়ে গারো পাহাড়ের লাল টিলা শুরু, সেখানে গজনী; কয়েকশ মিটার উত্তরেই মেঘালয়। জেলা প্রশাসন ১৯৯৩ সালে প্রায় ৯০ একর পাহাড়ি বনে এটি চালু করে, আর তিরিশ বছরে এটি বৃহত্তর ময়মনসিংহের সবচেয়ে ভিড়ের পিকনিক স্পট হয়ে উঠেছে।

রাংটিয়া বাজার থেকে ভেতরের রাস্তা গজারি আর শালের ছায়ায় ঢাকা, শেষ হয়েছে লেকের সামনে। দুই টিলার মাঝের পাহাড়ি ছড়ায় বাঁধ দিয়ে লেকটা বানানো। দোদুল্যমান সেতু পেরিয়ে দ্বীপের ওপর পেন্টাগন প্যাভিলিয়ন, পাড় থেকে প্যাডেল বোট আর রঙিন নৌকা, আর সম্প্রতি পানির ওপর একটা ভাসমান সেতুও হয়েছে। টিলার ওপরের রেস্ট হাউস থেকে আঁকাবাঁকা পদ্মসিঁড়ি নেমে গেছে পাহাড়ের পাদদেশে, পথে কৃত্রিম ঝরনা আর পাতালপুরী নামের সুড়ঙ্গ।

ওয়াচ টাওয়ারে ওঠা না করলে গজনী দেখা হয় না: ওপর থেকে পুরো কেন্দ্র, মেঘালয়ের টিলা পর্যন্ত উঠে যাওয়া বন, আর ভাগ্য ভালো থাকলে সীমান্তের ঢালে বুনো হাতি দেখা যায়। বাকিটা ছোটদের জন্য: কংক্রিটের ডাইনোসর, ড্রাগন সুড়ঙ্গ, জিরাফ, উপত্যকার ওপর ক্যাবল কার আর জিপলাইন, প্রায় চল্লিশ প্রজাতির প্রাণীর মিনি চিড়িয়াখানা, অ্যাকুয়ারিয়াম, ছোট জাদুঘরসহ মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ, আর গারো গ্রামের জীবন তুলে ধরা ভাস্কর্যের ‘আদিবাসী পল্লী’।

যাওয়ার পথ: শেরপুর শহরের শাপলা চত্বর থেকে লোকাল বাস বা সিএনজিতে ঝিনাইগাতী হয়ে রাংটিয়া বাজার, তারপর পার্কের রাস্তা; অথবা সারাদিনের জন্য অটো বা মাইক্রোবাস রিজার্ভ করুন, বেশিরভাগ মানুষ মধুটিলাসহ ঘোরেন।

যা করতে পারেন

  • ওয়াচ টাওয়ারে উঠে মেঘালয়ের দিকটা দেখুন।
  • দোদুল্যমান সেতু পেরিয়ে লেকের পেন্টাগনে যান, তারপর নৌকায় ঘুরুন।
  • ক্যাবল কার বা জিপলাইনে উপত্যকা পার হোন।
  • মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ আর আদিবাসী পল্লীর ভাস্কর্য দেখুন।

জেনে রাখা ভালো

  • গাড়ির গেটপাস রাখুন: সীমান্তের নকশী বিজিবি ক্যাম্পে দেখাতে হয়।
  • সীমান্ত পিলারের ওপারে বা একা বনে ঢুকবেন না; এখানে বুনো হাতি চলাচল করে।
  • শীতের ছুটিতে পিকনিকের ভিড় আর মাইক; সপ্তাহের কাজের দিনে নিরিবিলি।

কীভাবে যাবেন

শেরপুর গাইড পড়ুন

কাছাকাছি

পাহাড়

রাজার পাহাড় ও বাবেলাকোনা

১০ কিমি, শেরপুর

গারো পাহাড়ের শেরপুর অংশের সবচেয়ে উঁচু টিলা, ঢেউফা নদীর ওপরে প্রায় একশ হেক্টরের সমতল চূড়া, আর পাদদেশে গারো, হাজং ও কোচদের গ্রাম বাবেলাকোনা।

পার্ক ও পিকনিক স্পটShariful Islam Masum · CC BY-SA 4.0

মধুটিলা ইকোপার্ক

১২ কিমি, শেরপুর

নালিতাবাড়ী সীমান্তের পোড়াগাঁওয়ে বন বিভাগের ৩৮৩ একরের পাহাড়ি বনে ইকোপার্ক: বনের মাথার ওপর ওয়াচ টাওয়ার, নৌকাসহ লেক, স্টার ব্রিজ, মিনি চিড়িয়াখানা আর নিরিবিলি বনপথ।

পাহাড়

লাউচাপড়া পাহাড়

১৩ কিমি, জামালপুর

বকশীগঞ্জে গারো পাহাড়ের জামালপুর অংশ: মেঘালয় সীমান্তে বনে ঢাকা টিলা, ১৯৯৪ সালের একটা বিনোদন কেন্দ্র, ভারত দেখা যায় এমন ওয়াচ টাওয়ার, ছোট লেক আর ঢালে গারো ও কোচদের গ্রাম।

মসজিদ ও মাজারAyman Nakib Badhan · CC BY-SA 4.0

ঘাঘড়া খান বাড়ি জামে মসজিদ

১৫ কিমি, শেরপুর

ঝিনাইগাতীর ঘাঘড়া লস্কর গ্রামে এক গম্বুজের ছোট মুঘল আমলের মসজিদ, ১৯৯৯ সাল থেকে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সংরক্ষণে; স্থানীয় কথায় প্রায় ৬০০ বছর আগে পরাজিত দুই সেনাপতি বনের ভেতর এটি গড়েছিলেন।

গির্জা

বারোমারি ফাতেমা রানীর তীর্থস্থান

১৫ কিমি, শেরপুর

নালিতাবাড়ী সীমান্তে ১৯৪২ সালের ক্যাথলিক ধর্মপল্লী, ১৯৯৮ সালে মারীয় তীর্থস্থান ঘোষিত; অক্টোবরের শেষে দুই দিনের তীর্থোৎসবে হাজার হাজার মানুষ আসেন।

মসজিদ ও মাজারBhoboghure · CC BY 4.0

গড়জরিপা বারো দুয়ারী মসজিদ

১৬ কিমি, শেরপুর

শ্রীবরদীর গড়জরিপায় বারো দরজার মসজিদ, গড় জরিপা দুর্গের পুরোনো জায়গায়: প্রচলিত মতে শত শত বছর আগে জরিপ শাহের গড়া, ভূমিকম্পে মাটির নিচে, ১৯৬৩ সালে খুঁড়ে তুলে নতুন করে গড়া, এখন বড় দিঘির পাশে পাঁচতলা মসজিদ।

অবস্থান

গজনী অবকাশ কেন্দ্র, শেরপুর

সংশোধন জানান

সময়, ভাড়া আর খোলার সময় বদলায়। যাওয়ার আগে একবার যাচাই করে নিন।

গিয়েছেন? অ্যাপে চিহ্নিত করুন।

আপনার ঘুরে আসা জায়গা আর জেলা মানচিত্রে ভরে ওঠে, ব্যাজ অর্জন হয়, আর অফলাইনেও আপনার সঙ্গে থাকে।