মসজিদ ও মাজার, শেরপুর
গড়জরিপা বারো দুয়ারী মসজিদBarduari Mosque at Garjaripa
- সময় লাগে
- মাজারগুলোসহ আধা থেকে এক ঘণ্টা।
শ্রীবরদীর গড়জরিপায় বারো দরজার মসজিদ, গড় জরিপা দুর্গের পুরোনো জায়গায়: প্রচলিত মতে শত শত বছর আগে জরিপ শাহের গড়া, ভূমিকম্পে মাটির নিচে, ১৯৬৩ সালে খুঁড়ে তুলে নতুন করে গড়া, এখন বড় দিঘির পাশে পাঁচতলা মসজিদ।
এক নজরে
- দরজা
- বারোটি: পূর্বে নয়, দক্ষিণে দুই, উত্তরে এক
- পুনর্নির্মাণ
- ১৯৬৩, প্রায় দশ ফুট নিচে পাওয়া দেয়ালের ওপর
- দুর্গ
- গড় জরিপা, ১৪৯১ সালে মজলিস খান হুমায়ুনের দখলে
সম্পর্কে
শেরপুর শহর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার উত্তরে শ্রীবরদীর গড়জরিপা জেলার সবচেয়ে পুরোনো নামওয়ালা জায়গা। কামরূপ রাজ্যের প্রান্তে কোচ রাজা দলিপ সামন্তের মাটির দুর্গ ছিল এখানে, গড় দলিপা; ১৪৯১ সালে মজলিস খান হুমায়ুনের নেতৃত্বে বাংলার সুলতানি বাহিনী এটি দখল করে নাম দেয় গড় জরিপা। জরিপ শাহ, শাহ কামাল (১৬৪৪) আর শের আলী গাজীর মাজার আর এই মসজিদই সেই ইতিহাসের যা বাকি; দুর্গ নিজে এখন জমির আকারে একটা স্মৃতি মাত্র।
মসজিদের নাম তার বারো দরজা থেকে: পূর্বে নয়টা, দক্ষিণে দুটো, উত্তরে একটা। প্রচলিত মতে জরিপ শাহের গড়া, বয়স ছয়শ থেকে আটশ বছর যা-ই বলা হোক। স্থানীয়রা বলেন ভূমিকম্পে এটি মাটির নিচে চাপা পড়ে; ১৯৬০-এর দশকে জামালপুরের এক মাওলানা স্বপ্নে এর জায়গা জানেন, প্রায় দশ ফুট নিচে দেয়াল পাওয়া যায়, আর ১৯৬৩ সালে সেই দেয়ালের ওপর মসজিদ নতুন করে গড়া হয়। এরপর তা বেড়ে পাঁচতলা, তিন-চার হাজার মানুষের জায়গা, আর এখানকার ঈদের জামাত জেলার সবচেয়ে বড়গুলোর একটা। পাশের বড় দিঘিটাও পুরোনো।
পুরোনো গাঁথুনি দেখতে নয়, জায়গা আর গল্পের জন্য আসুন: আদি কাঠামোর প্রায় কিছুই দেখা যায় না, কিন্তু জায়গাটা, দিঘি আর মাজারগুলো মিলিয়ে এটাই শেরপুরের শুরু।
যাওয়ার পথ: শেরপুর শহর থেকে শ্রীবরদীর রাস্তায় সিএনজি বা বাসে গড়জরিপা, প্রায় ১০ কিলোমিটার; সড়ক থেকে মসজিদ একটু ভেতরে।
যা করতে পারেন
- বারোটা দরজা গুনুন, তারপর বড় দিঘির পাড় ঘুরে আসুন।
- কাছের জরিপ শাহ আর শাহ কামালের মাজার খুঁজে দেখুন।
জেনে রাখা ভালো
- চালু মসজিদ, শুক্রবারে বড় ভিড়; নামাজের সময়ের মাঝে যান, শালীন পোশাক পরুন।





