স্মৃতিস্তম্ভ ও স্মৃতিসৌধ, জামালপুর

কামালপুর রণাঙ্গন ও স্মৃতিসৌধKamalpur battlefield and memorial

সময় লাগে
আধা থেকে এক ঘণ্টা।

বকশীগঞ্জের ধানুয়া কামালপুর সীমান্ত ঘাঁটি, যেখানে ১১ নম্বর সেক্টর ১৯৭১-এর জুলাই থেকে ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে লড়েছিল, যুদ্ধের দীর্ঘতম লড়াইগুলোর একটা; স্মৃতিসৌধ, শহীদদের কবর আর পাশে এখন স্থলবন্দর।

এক নজরে

যুদ্ধ
৩১ জুলাই থেকে ৪ ডিসেম্বর ১৯৭১, ১১ নম্বর সেক্টর
আত্মসমর্পণ
৪ ডিসেম্বর ১৯৭১, ক্যাপ্টেন আহসান মালিকের ২২০ সৈন্য
বকশীগঞ্জ থেকে
প্রায় ১১ কিলোমিটার, বকশীগঞ্জ–কামালপুর–রৌমারী সড়কে

সম্পর্কে

মেঘালয় থেকে জামালপুরে ঢোকার রাস্তায় কামালপুর ছিল পাকিস্তানি সীমান্ত ঘাঁটি, আর যার হাতে এটা, উত্তর থেকে ঢাকার পথ তার। ১৯৭১-এর ৩১ জুলাই জেড ফোর্সের ১ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট হামলা চালায়, ক্যাপ্টেন সালাহউদ্দিন মমতাজসহ প্রায় পঁয়ত্রিশজন শহীদ হন; ১৩ নভেম্বর সেক্টর কমান্ডার কর্নেল আবু তাহের আরেক হামলার নেতৃত্ব দেন, মাইনে একটা পা হারান। নভেম্বরের শেষ থেকে মুক্তিবাহিনী আর ভারতীয় সেনা এগারো দিন ঘাঁটি ঘিরে রাখে, আর ৪ ডিসেম্বর ক্যাপ্টেন আহসান মালিক ২২০ জন নিয়ে আত্মসমর্পণ করেন; আত্মসমর্পণের চিঠি পৌঁছে দিয়েছিল কিশোর বশির আহমেদ, পরে বীর প্রতীক। কামালপুরের পতনে জামালপুর আর ঢাকার পথ খোলে।

আজ ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়নে রণাঙ্গনে স্মৃতিসৌধ, কাছেই শহীদদের কবর, আর একই সীমান্ত পারাপারে ২০২৩ সালে খোলা ধানুয়া কামালপুর স্থলবন্দর এক নিরিবিলি সীমান্তে ট্রাক আর ব্যবসায়ী এনেছে। বকশীগঞ্জ শহর ১১ কিলোমিটার, একই সীমান্তে কাছেই লাউচাপড়া পাহাড়।

যাওয়ার পথ: জামালপুর শহর থেকে বাস বা সিএনজিতে বকশীগঞ্জ, তারপর কামালপুর সড়কে সিএনজিতে প্রায় ১১ কিলোমিটার।

যা করতে পারেন

  • স্মৃতিসৌধ আর মুক্তিযোদ্ধাদের কবরে শ্রদ্ধা জানান।
  • একই সীমান্তের লাউচাপড়ার সঙ্গে মিলিয়ে নিন।

জেনে রাখা ভালো

  • এটা চালু সীমান্ত আর স্থলবন্দর: পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখুন, বিজিবি চৌকির ছবি তুলবেন না।

কীভাবে যাবেন

জামালপুর গাইড পড়ুন

কাছাকাছি

পাহাড়

লাউচাপড়া পাহাড়

৬ কিমি, জামালপুর

বকশীগঞ্জে গারো পাহাড়ের জামালপুর অংশ: মেঘালয় সীমান্তে বনে ঢাকা টিলা, ১৯৯৪ সালের একটা বিনোদন কেন্দ্র, ভারত দেখা যায় এমন ওয়াচ টাওয়ার, ছোট লেক আর ঢালে গারো ও কোচদের গ্রাম।

পাহাড়

রাজার পাহাড় ও বাবেলাকোনা

৮ কিমি, শেরপুর

গারো পাহাড়ের শেরপুর অংশের সবচেয়ে উঁচু টিলা, ঢেউফা নদীর ওপরে প্রায় একশ হেক্টরের সমতল চূড়া, আর পাদদেশে গারো, হাজং ও কোচদের গ্রাম বাবেলাকোনা।

নদী, হ্রদ ও হাওর

বাহাদুরাবাদ ঘাট

১৮ কিমি, জামালপুর

দেওয়ানগঞ্জে রেললাইনের শেষ মাথায় যমুনার ঘাট, যেখানে ১৯১২ থেকে গোটা ট্রেন ফেরিতে নদী পার হয়ে তিস্তামুখ যেত; যমুনা সেতুর পর রেল ফেরি নেই, নদী আর ঘাট আছে।

পার্ক ও পিকনিক স্পটমোঃ চঞ্চল মাহামুদ ভারুয়া · CC BY-SA 4.0

গজনী অবকাশ কেন্দ্র

১৯ কিমি, শেরপুর

শেরপুরের প্রধান পাহাড়ি অবকাশ কেন্দ্র: গারো পাহাড়ের পাদদেশে প্রায় ৯০ একর শাল-গজারির বন, বাঁধ দেওয়া লেক, মেঘালয় দেখার ওয়াচ টাওয়ার, ক্যাবল কার, জিপলাইন আর ছোট একটা চিড়িয়াখানা।

মসজিদ ও মাজারBhoboghure · CC BY 4.0

গড়জরিপা বারো দুয়ারী মসজিদ

২৪ কিমি, শেরপুর

শ্রীবরদীর গড়জরিপায় বারো দরজার মসজিদ, গড় জরিপা দুর্গের পুরোনো জায়গায়: প্রচলিত মতে শত শত বছর আগে জরিপ শাহের গড়া, ভূমিকম্পে মাটির নিচে, ১৯৬৩ সালে খুঁড়ে তুলে নতুন করে গড়া, এখন বড় দিঘির পাশে পাঁচতলা মসজিদ।

নদী, হ্রদ ও হাওরEmon Monzurul · CC BY-SA 4.0

বালাসী ঘাট

২৫ কিমি, গাইবান্ধা

ফুলছড়িতে যমুনার ঘাট, যেখান থেকে জামালপুরের বাহাদুরাবাদে ফেরি যায় আর দেশি নৌকা চরে যায়: চওড়া পানি, বালুচর আর নদীর জীবন।

অবস্থান

কামালপুর রণাঙ্গন ও স্মৃতিসৌধ, জামালপুর

সংশোধন জানান

সময়, ভাড়া আর খোলার সময় বদলায়। যাওয়ার আগে একবার যাচাই করে নিন।

গিয়েছেন? অ্যাপে চিহ্নিত করুন।

আপনার ঘুরে আসা জায়গা আর জেলা মানচিত্রে ভরে ওঠে, ব্যাজ অর্জন হয়, আর অফলাইনেও আপনার সঙ্গে থাকে।