জেলা গাইড

জামালপুরJamalpur

ময়মনসিংহ বিভাগ

৭

জায়গা

নভে–ফেব্রু

সেরা মাস

প্রায় ৪ ঘণ্টা

ঢাকা থেকে

যার জন্য পরিচিত

  1. ১

    দুই নদীর মাঝে।

    যমুনা জেলার পশ্চিম সীমানা, আর সেখান থেকেই পুরোনো ব্রহ্মপুত্র বেরিয়ে জামালপুর শহর ঘুরে পূর্বে চলে গেছে। ঘাট, চর আর বর্ষার নৌকাবাইচ এই জেলার ছন্দ; বাহাদুরাবাদ ঘাট, যেখানে একসময় গোটা ট্রেন ফেরিতে যমুনা পার হতো, জেলার পুরোনো সদর দরজা।

  2. ২

    এক সাধকের নামে।

    প্রচলিত মতে হযরত শাহ জামাল আকবরের আমলে দুইশ অনুসারী নিয়ে ইয়েমেন থেকে এসে ব্রহ্মপুত্রের তীরে থিতু হন; সিংহজানী নামের শহরটা তাঁর নাম নেয়। নদীর ধারে তাঁর মাজারেই মানুষ আজও প্রথমে আসে।

  3. ৩

    নকশি কাঁথার দেশ।

    সেলাই করা কাঁথা সারা বাংলায় হয়, কিন্তু জামালপুরের নকশি কাঁথা ২০২৪ সালে নিজের জিআই স্বীকৃতি পেয়েছে। মেলান্দহ আর শহরের আশপাশে হাজারো নারী এটা সেলাই করেন; সঙ্গে নেওয়ার জিনিস এটাই।

  4. ৪

    গারো পাহাড়ের এক কোণ।

    বকশীগঞ্জে জেলা মেঘালয় ছুঁয়েছে: ওয়াচ টাওয়ারসহ লাউচাপড়ার টিলা, ঢালে গারো আর কোচদের গ্রাম, আর কামালপুর সীমান্ত, যেখানে ১৯৭১-এর দীর্ঘতম যুদ্ধগুলোর একটা হয়েছিল।

  5. ৫

    পুরোনো মন্দির আর স্বাধীনতা সংগ্রামের আশ্রম।

    শহরের মাঝের দয়াময়ী মন্দির ১৬৯০-এর দশকের, দুর্গাপূজায় ভক্তে ভরে যায়; কাপাসহাটিয়ার ১৯৩৪ সালের গান্ধী আশ্রম এখন স্বাধীনতা আন্দোলনের ছোট জাদুঘর।

  6. ৬

    কলাপাতায় পিঠালি।

    জেলার নিজস্ব খাবার পিঠালি, যাকে মিল্লি বা ম্যান্দাও বলে: চালের গুঁড়া আর মাংসের ঘন মসলাদার ঝোল ভাতের ওপর ঢেলে, বিয়ে আর মেলায় কলাপাতায় পরিবেশন।

সেরা মৌসুম

জানু
ফেব্রু
মার্চ
এপ্রি
মে
জুন
জুলা
আগ
সেপ্টে
অক্টো
নভে
ডিসে

ভালোমোটামুটিনভে–ফেব্রু

  • দুরমুঠের ওরস ও বৈশাখী মেলা বৈশাখ জুড়ে এক মাস (মাঝ এপ্রিল থেকে মাঝ মে), মেলান্দহের শাহ কামালের মাজারে
  • হযরত শাহ জামালের ওরস প্রতি বছর নয় দিন, জামালপুর শহরের মাজারে, শহরে শোভাযাত্রাসহ
  • চৈত্রের স্নান উৎসব ও মেলা মাঝ এপ্রিলে ব্রহ্মপুত্রে, তারপর দয়াময়ী মন্দির ঘিরে চার দিনের মেলা
  • যমুনায় নৌকাবাইচ বর্ষায়, দেওয়ানগঞ্জ, ইসলামপুর ও সরিষাবাড়ীর নদীতে

নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি সবকিছুর জন্য ভালো: লাউচাপড়ার টিলা পরিষ্কার, নদীর পাড় শুকনো আর হাঁটার মতো, আর বৈশাখী মেলা তখনো মাস কয়েক দূরে। দুরমুঠের ওরস আর মেলা চলে বৈশাখ জুড়ে, মাঝ এপ্রিল থেকে মাঝ মে, তখন গরম পড়ে গেছে।

বর্ষা নদীর মৌসুম। জেলার প্রায় অর্ধেক চর আর প্লাবনভূমি; জুন থেকে যমুনা আর পুরোনো ব্রহ্মপুত্র বাড়ে, আর ইসলামপুর, দেওয়ানগঞ্জ, মাদারগঞ্জের কিছু অংশ প্রায় প্রতি বছর ডোবে। তখন আসবেন শুধু নদী, নৌকাবাইচ আর সবুজের জন্য; চরের রাস্তা বন্ধ থাকতে পারে ধরে নেবেন।

দুর্গাপূজা (সেপ্টেম্বরের শেষ বা অক্টোবর) দয়াময়ী মন্দিরের সময়, আর মাঝ এপ্রিলে ব্রহ্মপুত্রে চৈত্রের স্নান উৎসবের সঙ্গে মন্দির ঘিরে চার দিনের মেলা।

কীভাবে যাবেন

ট্রেন

ঢাকা থেকে

প্রায় ৪ ঘণ্টা

কমলাপুর থেকে তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র, যমুনা বা জামালপুর এক্সপ্রেস; ট্রেন দেওয়ানগঞ্জ পর্যন্ত যায়।

বাস

ঢাকা থেকে

৪–৫ ঘণ্টা

মহাখালী থেকে ময়মনসিংহ হয়ে জামালপুর শহর।

ঘুরে বেড়ানো

জামালপুর শহর থেকে উপজেলায়

প্রতিটি উপজেলায় সিএনজি আর লোকাল বাস; লাউচাপড়া ও কামালপুরের জন্য বকশীগঞ্জ প্রায় ৫০ কিলোমিটার।

ট্রেনে যাওয়াই আরামের: জামালপুর ঢাকা–দেওয়ানগঞ্জ লাইনে, কমলাপুর থেকে তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র, যমুনা বা জামালপুর এক্সপ্রেসে প্রায় চার ঘণ্টা। ট্রেন মেলান্দহ, ইসলামপুর আর দেওয়ানগঞ্জ পর্যন্ত যায়, তাই উত্তরের উপজেলাগুলোয় বাস ছাড়াই পৌঁছানো যায়। সরিষাবাড়ীর জগন্নাথগঞ্জ ঘাটের আলাদা শাখা লাইন আছে।

বাসে ঢাকার মহাখালী থেকে ময়মনসিংহ হয়ে জামালপুর শহর, প্রায় ১৪০ কিলোমিটার, শহর থেকে বেরোনোর জ্যাম অনুযায়ী চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা।

জেলার ভেতরে জামালপুর শহর থেকে প্রতিটি উপজেলায় সিএনজি আর লোকাল বাস চলে। লাউচাপড়া আর কামালপুরের জন্য বকশীগঞ্জ প্রায় ৫০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে; সরাসরি কামালপুরের রাস্তা অনেক দিন খারাপ বলে অনেকে শেরপুরের দিক থেকে শ্রীবরদী হয়ে লাউচাপড়ায় যান। বাহাদুরাবাদ ঘাট দেওয়ানগঞ্জে রেললাইনের শেষ মাথায়।

স্থানীয় খাবার

  • পিঠালি (মিল্লি / ম্যান্দা)অবশ্যই চেখে দেখুন

    চালের গুঁড়া আর মাংসের ঘন মসলাদার ঝোল ভাতের ওপর, বিয়ে আর মেলায় কলাপাতায়।

পিঠালি, মিল্লি, ম্যান্দা: একই খাবারের তিন নাম। চালের গুঁড়া গরু বা খাসির মাংস, পেঁয়াজ, রসুন আর অনেক মসলা দিয়ে জ্বাল দিয়ে ঘন করা হয়, আর বিয়ে, ওরস আর গ্রামের মেলায় কলাপাতায় ভাতের ওপর ঢেলে দেওয়া হয়। পথে কোনো অনুষ্ঠান পড়লে চেয়ে নিন; রেস্তোরাঁর তালিকায় এটা প্রায় থাকে না।

শহরের স্টেশন আর বড় বাজারের আশপাশের খাবার হোটেলে ভাত, নদীর মাছ আর ডাল; দেওয়ানগঞ্জ আর ইসলামপুরে চরের মিঠা পানির মাছ। দেওয়ানগঞ্জের জিল বাংলা চিনিকলের চিনি আর মৌসুমে আখের রসও এখানকার।

নকশি কাঁথা খাবার নয়, তবে সঙ্গে নেওয়ার জিনিস এটাই: মেলান্দহ আর জামালপুর শহরের আশপাশের নারী দলগুলোর সেলাই করা কাঁথা, কুশন কভার আর শাড়ি, শহরের দোকানে পাবেন।

দেখার মতো জায়গা

নদী, হ্রদ ও হাওর

বাহাদুরাবাদ ঘাট

দেওয়ানগঞ্জে রেললাইনের শেষ মাথায় যমুনার ঘাট, যেখানে ১৯১২ থেকে গোটা ট্রেন ফেরিতে নদী পার হয়ে তিস্তামুখ যেত; যমুনা সেতুর পর রেল ফেরি নেই, নদী আর ঘাট আছে।

মন্দিরParvezahmed · CC BY-SA 4.0

দয়াময়ী মন্দির

জামালপুর শহরের মাঝে ১৬৯০-এর দশকের মন্দির, মুঘল আমলের এক জায়গিরদারের প্রতিষ্ঠা, চারপাশে শিব, কালী, মনসা আর নাটমন্দির; দুর্গাপূজায় ভক্তে ঠাসা, চৈত্রের স্নান উৎসবের পর চার দিনের মেলা।

জাদুঘর

গান্ধী আশ্রম ও স্বাধীনতা সংগ্রাম জাদুঘর

মেলান্দহের কাপাসহাটিয়ায় ঝিনাই নদীর তীরে ১৯৩৪ সালের আশ্রম, যেখানে গ্রামের মানুষ চরকায় সুতা কাটত আর স্বাধীনতা সংগ্রামীরা মিলিত হতেন; ১৯৪৮-এ ভাঙা, এখন স্বাধীনতার বছরগুলোর ছোট জাদুঘর।

স্মৃতিস্তম্ভ ও স্মৃতিসৌধFiruz Ahmmed · CC BY-SA 4.0

কামালপুর রণাঙ্গন ও স্মৃতিসৌধ

বকশীগঞ্জের ধানুয়া কামালপুর সীমান্ত ঘাঁটি, যেখানে ১১ নম্বর সেক্টর ১৯৭১-এর জুলাই থেকে ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে লড়েছিল, যুদ্ধের দীর্ঘতম লড়াইগুলোর একটা; স্মৃতিসৌধ, শহীদদের কবর আর পাশে এখন স্থলবন্দর।

পাহাড়

লাউচাপড়া পাহাড়

বকশীগঞ্জে গারো পাহাড়ের জামালপুর অংশ: মেঘালয় সীমান্তে বনে ঢাকা টিলা, ১৯৯৪ সালের একটা বিনোদন কেন্দ্র, ভারত দেখা যায় এমন ওয়াচ টাওয়ার, ছোট লেক আর ঢালে গারো ও কোচদের গ্রাম।

স্মৃতিস্তম্ভ ও স্মৃতিসৌধNahian · CC BY-SA 4.0

হযরত শাহ জামালের মাজার

যাঁর নামে জেলার নাম, সেই সাধকের মাজার, জামালপুর শহরের উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে ব্রহ্মপুত্রের তীরে; মসজিদ, কবর আর প্রতি বছর নয় দিনের ওরস।

স্মৃতিস্তম্ভ ও স্মৃতিসৌধ

দুরমুঠের শাহ কামালের মাজার

মেলান্দহের দুরমুঠে হযরত শাহ কামালের মাজার, প্রতি বৈশাখে মাসব্যাপী ওরস আর বৈশাখী মেলার জন্য পরিচিত, জেলার সবচেয়ে বড় গ্রামীণ মেলাগুলোর একটা।

সূত্র 12

সংশোধন জানান

সময়, ভাড়া আর খোলার সময় বদলায়। যাওয়ার আগে একবার যাচাই করে নিন।

এই গাইডটি অফলাইনে নিয়ে যান।

একই গাইড, প্রতিটি জায়গা আর ছবি, ইন্টারনেট ছাড়াই আপনার ফোনে। পৌঁছে জেলাটি চিহ্নিত করুন।