যার জন্য পরিচিত
- ১
মসজিদের হারানো নগরী।
পনেরো শতকে তুর্কি বংশোদ্ভূত শাসক ও সুফি খান জাহান আলী এখানকার সুন্দরবন কেটে গড়ে তোলেন খলিফাতাবাদ: ইটের মসজিদ, সমাধি, রাস্তা আর বিশাল দিঘি। তাঁর মৃত্যুর পর বন নগরীটিকে গ্রাস করে; যা টিকে আছে তা-ই আজ ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য "মসজিদের শহর বাগেরহাট"।
- ২
ষাট গম্বুজ মসজিদ।
বাংলার সুলতানি আমলের সবচেয়ে বড় মসজিদ: ৬০টি পাথরের স্তম্ভ, ৮১টি গম্বুজ আর কুঁড়েঘরের মতো বাঁকানো ছাদ, ঘোড়া দিঘির পাড়ে খোলা মাঠের মাঝে।
- ৩
পীর, কুমির আর মেলা।
খান জাহান আলীর মাজারে আজও সব ধর্মের মানুষ আসেন। তাঁর দিঘিতে শত শত বছর ধরে মিঠা পানির কুমির বাস করে, আর চৈত্রের পূর্ণিমায় বসে তিন দিনের মেলা, যেখানে লাখের বেশি মানুষ জড়ো হন।
- ৪
সুন্দরবনের প্রবেশদ্বার।
মোংলা বন্দর থেকে নৌকায় পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনে: এক ঘণ্টায় করমজলের কুমির প্রজনন কেন্দ্র, এক দিনে হাড়বাড়িয়ার গভীর বনের কাঠের পথ, আর লঞ্চে কটকা, কচিখালী ও দুবলার চরের রাসমেলা।
- ৫
ভৈরবের পাড়ে পোড়ামাটির মিনার।
কোদলা মঠ, সতেরো শতকের ১৮ মিটার উঁচু ইটের স্মৃতিসৌধ, অযোধ্যা গ্রামের ওপরে একা দাঁড়িয়ে; এর প্রতিটি দেয়াল খোদাই করা।
- ৬
চুইঝাল আর চিংড়ি।
দক্ষিণ-পশ্চিমের রান্না: ঝাঁঝালো চুই লতার সঙ্গে ধীরে কষানো গরু বা খাসির মাংস, আর এই উপকূলের বিখ্যাত বাগদা ও গলদা চিংড়ি।
সেরা মৌসুম
ভালোমোটামুটিনভে–ফেব্রু
- খান জাহান আলীর মেলা চৈত্রের পূর্ণিমা থেকে তিন দিন (মার্চের শেষ বা এপ্রিলের শুরু)
- দুবলার চরের রাসমেলা কার্তিকের রাস পূর্ণিমায় (নভেম্বর), ভোরে সমুদ্রস্নান
- সুন্দরবন বন্ধ জুন থেকে আগস্ট, প্রজনন মৌসুম: বনে পর্যটক প্রবেশ বন্ধ
নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি বাগেরহাটের মৌসুম। দিন থাকে মৃদু (প্রায় ১৩ থেকে ২৫ ডিগ্রি), বাতাস শুকনো আর নদী শান্ত, সুন্দরবনে নৌকাভ্রমণের জন্য যা দরকার। নভেম্বর থেকে মার্চে বন্যপ্রাণী দেখার সুযোগ সবচেয়ে বেশি, কারণ তখন প্রাণীরা পানির ধারে আসে।
দুটি উৎসব মাথায় রেখে পরিকল্পনা করা যায়। খান জাহান আলীর মাজারের মেলা চৈত্রের পূর্ণিমা থেকে তিন দিন চলে (মার্চের শেষ বা এপ্রিলের শুরু; তারিখ চাঁদের হিসাবে বদলায়)। দুবলার চরের রাসমেলা কার্তিক মাসের রাস পূর্ণিমায় (নভেম্বর); ভোরে পুণ্যার্থীরা সমুদ্রে স্নান করেন, আর বন বিভাগ এ সময় নির্ধারিত পথে নৌযান চলাচলের ব্যবস্থা রাখে।
মার্চ থেকে মে গরম ও ভ্যাপসা, তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রির কাছাকাছি ওঠে, বিকেলে ঝড় হয়। খুব সকালে মসজিদগুলো দেখা তখনো আরামদায়ক; বনের জন্য সময়টা ভালো নয়।
জুন থেকে অক্টোবর বর্ষা। জুলাই সবচেয়ে বেশি বৃষ্টির মাস, রাস্তায় পানি ওঠে আর পশুর নদী উত্তাল হয়। মাছ ও বন্যপ্রাণীর প্রজনন মৌসুমে, জুন থেকে আগস্ট, বন বিভাগ সুন্দরবনে পর্যটকদের প্রবেশ বন্ধ রাখে; তাই বনের ভ্রমণ এই মাসগুলোর বাইরে রাখুন।
কীভাবে যাবেন
বাস
ঢাকা থেকে
৪–৫ ঘণ্টা, ৳৬৫০–৮০০ নন-এসি
সায়েদাবাদ থেকে খুব সকালে ও সন্ধ্যায়, পদ্মা সেতু হয়ে: মেঘনা, বনফুল, ফাল্গুনী, আরা, পর্যটক, বলেশ্বর, হামিম, দোলা। গাবতলী থেকে: সোহাগ, শাকুরা, হানিফ, ঈগল।
ট্রেন
ঢাকা থেকে, খুলনা হয়ে
খুলনা পর্যন্ত ৪ ঘণ্টার কম, তারপর ১ ঘণ্টা
বাগেরহাটে স্টেশন নেই। পদ্মা সেতু হয়ে জাহানাবাদ এক্সপ্রেস (সুন্দরবন এক্সপ্রেস পুরোনো পথে, প্রায় সাড়ে ৭ ঘণ্টা); তারপর খুলনার বাসস্ট্যান্ড থেকে বাস বা শেয়ার সিএনজি।
আকাশপথ
যশোর বিমানবন্দর হয়ে
নামার পর সড়কে আড়াই–৩ ঘণ্টা
প্রায় ১১০ কিলোমিটার, খুলনা হয়ে, গাড়ি বা বাসে।
লঞ্চ
মোংলা ঘাট থেকে সুন্দরবনে
করমজল গিয়ে ফেরা নৌকায় ৳১,০০০–১,৫০০
মোংলা শহর থেকে ৫০ কিলোমিটার দক্ষিণে, বাসে এক ঘণ্টা। ইঞ্জিন নৌকায় দশজন; দীর্ঘ ভ্রমণে ট্যুর অপারেটরের লঞ্চ, বনের অনুমতির ব্যবস্থাও তাঁরাই করেন।
ঘুরে বেড়ানো
মসজিদগুলোর মধ্যে
এক সকালের জন্য ব্যাটারি রিকশা রিজার্ভ, খরচ সামান্য
পুরোনো নগরী বাসস্ট্যান্ড থেকে ৩–৫ কিলোমিটার পশ্চিমে, খুলনা সড়কে; ষাট গম্বুজ মসজিদ ও মাজারের দূরত্ব ৬ কিলোমিটার।
বাগেরহাট ঢাকা থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে আর খুলনা থেকে ৩০ কিলোমিটার পূর্বে। পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর রাজধানী থেকে এটি আধা দিনের পথ।
ঢাকা থেকে বাসে। সায়েদাবাদ টার্মিনাল থেকে খুব সকালে এবং আবার সন্ধ্যায় সরাসরি বাস ছাড়ে, পদ্মা সেতু পার হয়ে পৌঁছাতে প্রায় ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা লাগে। এই পথে মেঘনা, বনফুল, ফাল্গুনী, আরা, পর্যটক, বলেশ্বর, হামিম ও দোলা চলে; গাবতলী থেকে সোহাগ, শাকুরা, হানিফ ও ঈগল। নন-এসি ভাড়া মোটামুটি ৬৫০ থেকে ৮০০ টাকা; ভাড়া বদলায়, তাই কাউন্টারে জেনে নিন। মোংলাগামী বাসও (সুন্দরবন, দিগন্ত পরিবহন) বাগেরহাটে থামে।
ট্রেনে। বাগেরহাট শহরে রেলস্টেশন নেই। খুলনা পর্যন্ত ট্রেনে যান: জাহানাবাদ এক্সপ্রেস পদ্মা সেতু হয়ে চার ঘণ্টারও কম সময়ে পৌঁছায়, সুন্দরবন এক্সপ্রেস পুরোনো পথে প্রায় সাড়ে সাত ঘণ্টায়। খুলনার বাসস্ট্যান্ড থেকে লোকাল বাস বা সিএনজিতে বাগেরহাট ৪৫ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা। ২০২৪ সালে খুলনা-মোংলা কমিউটার ট্রেন চালু হয়েছে, পথে কাটাখালী ও চুলকাঠিতে থামে; চলছে কি না, খুলনা স্টেশনে জেনে নিন।
আকাশপথে। সবচেয়ে কাছের বিমানবন্দর যশোর, প্রায় ১১০ কিলোমিটার দূরে; সেখান থেকে খুলনা হয়ে সড়কপথে আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা।
শহরে ও আশপাশে। পুরোনো নগরী বাসস্ট্যান্ড থেকে ৩ থেকে ৫ কিলোমিটার পশ্চিমে, খুলনা সড়ক ধরে। ষাট গম্বুজ মসজিদ, মাজার ও অন্য মসজিদগুলোর মধ্যে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও সিএনজি চলে; এক সকালের জন্য একটি রিজার্ভ করতে খরচ সামান্য। মোংলা শহর থেকে ৫০ কিলোমিটার দক্ষিণে, বাসে প্রায় এক ঘণ্টা। সুন্দরবনের নৌকা ছাড়ে মোংলা ফেরিঘাট থেকে: দশজনের একটি ইঞ্জিন নৌকায় করমজল গিয়ে ফেরা প্রায় ১,০০০ থেকে ১,৫০০ টাকা; দীর্ঘ ভ্রমণে লঞ্চ লাগে, যা ট্যুর অপারেটরের মাধ্যমে ঠিক করা হয়, আর বনের অনুমতির ব্যবস্থাও তাঁরাই করেন।
স্থানীয় খাবার
চুইঝাল গোশতঅবশ্যই চেখে দেখুন
ঝাঁঝালো চুই লতার সঙ্গে ধীরে কষানো গরু বা খাসির মাংস
চিংড়ির মালাইকারিঅবশ্যই চেখে দেখুন
রামপালের ঘেরের বাগদা বা গলদা চিংড়ি, নারকেলের দুধে
সুন্দরবনের মধু
এপ্রিলে সংগ্রহ করা খলিশা ফুলের মধু; বন বিভাগের অফিস বা পরিচিত সমবায় থেকে কিনুন
গোলপাতার ফল
নিপা পামের জেলির মতো বীজ, মৌসুমে রাস্তার দোকানে
দুবলার চরের শুঁটকি
রোদে শুকানো লইট্যা, ছুরি ও ছোট চিংড়ি, ঝাল ভর্তার জন্য
গুড়ের সন্দেশ
শীতে খেজুর গুড়ের সন্দেশ, শহরের মিষ্টির দোকানে
চুইঝাল। দক্ষিণ-পশ্চিমের নিজস্ব পদ। চুই একটি লতানো গোলমরিচ জাতীয় গাছ; এর কাঠের মতো ডাঁটা কুচিয়ে গরু বা খাসির মাংসে দিয়ে ধীরে কষানো হয়, আর ঝোল পায় এমন এক ঝাঁঝ ও সুগন্ধ, যা কোনো মরিচে মেলে না। বাগেরহাট বা খুলনায় চুই ছাড়া মাংস রান্নার কথা কেউ ভাবেন না। সড়কের পাশের হোটেলে সাদা ভাত আর পাতলা ডালের সঙ্গে পাবেন; খুলনা সড়কের চুকনগরের হোটেলগুলো এর জন্য বিখ্যাত।
চিংড়ি। রামপাল ও ফকিরহাট চিংড়ির এলাকা: লোনা ঘেরের বাগদা আর মিঠা পানির গলদা। নারকেলের দুধে চিংড়ির মালাইকারি, কিংবা নারকেল বাটা দিয়ে চিংড়ি খুঁজে দেখুন।
সুন্দরবন থেকে। বনের মধু: এপ্রিলে সংগ্রহ করা খলিশা ফুলের মধুই সেরা। ভেজাল মধু অনেক, তাই বন বিভাগের অফিস বা পরিচিত সমবায় থেকে কিনুন। মৌসুমে রাস্তার দোকানে গোলপাতার ফল, নিপা পামের জেলির মতো বীজ। আর শুঁটকি: দুবলার চরে রোদে শুকানো লইট্যা, ছুরি ও ছোট চিংড়ি, যা দিয়ে হয় ঝাল ভর্তা।
বাকি পাত। নারকেল, সুপারি আর ধান এ জেলার ফসল; তাই তরকারিতে নারকেল আসে, আসে নারকেলের নাড়ুতেও। শহরের মিষ্টির দোকানে সন্দেশ ও রসগোল্লা, আর শীতে খেজুর গুড়ের সন্দেশ।
দেখার মতো জায়গা
জাদুঘরAminul joy · CC BY-SA 4.0বাগেরহাট জাদুঘর
ষাট গম্বুজ মসজিদের পাশে ছোট প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর: তিনটি গ্যালারিতে শিলালিপি, মৃৎপাত্র, পোড়ামাটির নিদর্শন আর খলিফাতাবাদের গল্প।
মসজিদ ও মাজারDiego Tirira from Quito, Ecuador · CC BY-SA 2.0বিবি বেগনী মসজিদ
ঘোড়া দিঘির ওপারে ভারী গঠনের এক গম্বুজের মসজিদ; খান জাহানের স্ত্রীর নামে বলে কথিত, তিন মিটার পুরু দেয়াল আর ফারসি রীতির ইটের জালি।
পার্ক ও পিকনিক স্পটNayan Farmer · CC BY-SA 4.0চন্দ্রমহল ইকো পার্ক
রণজিতপুরে ৩৫ একরের ব্যক্তিগত পার্ক: হ্রদের ওপরে তাজমহলের আদলে প্রাসাদ, কাচের সুড়ঙ্গ দিয়ে যেতে হয়, প্রাচীন জিনিসের ভাণ্ডার, বাগান, মিনি চিড়িয়াখানা আর পিকনিকের মাঠ।
মসজিদ ও মাজারyeowatzup · CC BY 2.0চুনাখোলা মসজিদ
ধানখেতের মাঝে একা দাঁড়ানো এক গম্বুজের মসজিদ; মসজিদ-নগরীর ছোট ভবনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছবি তোলা হয় এটির।
বনmohammad fahim · CC BY-SA 4.0ঢাংমারি
মোংলার ঠিক নিচে বনের কিনারের গ্রাম ও অভয়ারণ্য, যেখানে কাঠের নৌকায় নিঃশব্দে ম্যানগ্রোভের সরু খালে বইঠা বাওয়া যায়।
দ্বীপNayeem16736665 · CC0দুবলার চর
সুন্দরবনের সাগর-কিনারে জেলেদের দ্বীপ, বছরে পাঁচ মাস শুঁটকির শহর, আর রাসমেলার স্থান, যখন নভেম্বরের পূর্ণিমায় পুণ্যার্থীরা সাগরে স্নান করেন।
নদী, হ্রদ ও হাওরAnup Sadi · CC BY-SA 4.0ঘোড়া দিঘি
ষাট গম্বুজ মসজিদের পাশের 'ঘোড়া দিঘি', পনেরো শতকে খনন করা প্রায় আধা কিলোমিটার লম্বা জলরাশি; পূর্ব পাড়ে মসজিদের প্রতিবিম্ব, পশ্চিম পাড়ে বিবি বেগনী।
বনHiroki Ogawa · CC BY 3.0হাড়বাড়িয়া
গভীর বনে দিনের ভ্রমণ: চাঁদপাই রেঞ্জে এক কিলোমিটার কাঠের পথের শেষে পর্যবেক্ষণ টাওয়ার, মোংলা থেকে পশুর ধরে দুই ঘণ্টা, অনুমতি ও সশস্ত্র গার্ডসহ।
বন্যপ্রাণী ও জাতীয় উদ্যানUmme Saimum · CC BY-SA 4.0করমজল
মোংলা থেকে নৌকায় এক ঘণ্টায় সুন্দরবনে বন বিভাগের প্রবেশদ্বার: কুমির প্রজনন কেন্দ্র, হরিণ, বানর, ম্যানগ্রোভের ভেতর দিয়ে কাঠের পথ আর পর্যবেক্ষণ টাওয়ার।
সমুদ্রসৈকতMd. Rifat Hasan Jihan · CC BY-SA 4.0কটকা ও জামতলা সৈকত
সুন্দরবন পূর্ব অভয়ারণ্যের হৃদয়: একটি বন স্টেশন, হরিণের মাঠের ওপরে পর্যবেক্ষণ টাওয়ার, আর গাছের ভেতর দিয়ে হেঁটে বঙ্গোপসাগরের এক জনশূন্য সৈকত।
মসজিদ ও মাজারMd.Mijanur Rahman1985 · CC BY-SA 4.0খান জাহান আলীর মাজার
বাগেরহাটের প্রতিষ্ঠাতা পীরের এক গম্বুজের সমাধি, তাঁর কুমিরের দিঘির ওপরে উঁচু জমিতে; জীবন্ত এক দরগাহ, যেখানে সব ধর্মের মানুষ প্রার্থনা করতে ও মানত করতে আসেন।
সমুদ্রসৈকতমঈনুল · CC BY-SA 3.0কচিখালী
সুন্দরবনের পূর্বতম বন স্টেশন, কটকা থেকে কয়েক কিলোমিটার: একটি বিশ্রামাগার, বলেশ্বর যেখানে সাগরে মেশে সেই সৈকত, আর বনের সেরা বাঘের এলাকার কিছুটা।
মন্দিরsumon talukder · CC BY-SA 3.0কোদলা মঠ
অযোধ্যা গ্রামের খেতের ওপরে একা দাঁড়ানো সতেরো শতকের ১৮ মিটার পোড়ামাটির মিনার; কথিত, রাজা প্রতাপাদিত্য তাঁর গুরুর স্মরণে এটি তোলেন।
শহর ও ল্যান্ডমার্কFrancis Voon · CC BY 2.0মোংলা ও পশুর নদীর তীর
বাংলাদেশের দ্বিতীয় সমুদ্রবন্দর, পশুর নদীর তীরে সীমান্ত-শহর, যেখানে পণ্যবাহী জাহাজ, মাছ ধরার নৌকা আর সুন্দরবনের লঞ্চ একই চওড়া বাদামি নদী ভাগ করে নেয়।
দুর্গ ও জমিদারবাড়িBhoboghure · CC BY 4.0মোড়েলগঞ্জ কুঠিবাড়ি
১৮৪৯ সালের নীলকুঠির ধ্বংসাবশেষ, যা থেকে মোড়েলগঞ্জের নাম, আর এর বিরুদ্ধে বিদ্রোহে নিহত কৃষকনেতা রহিমুল্লাহর স্মৃতি।
প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানDr Amit Biswas · CC BY-SA 4.0মসজিদের শহর বাগেরহাট
ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য খলিফাতাবাদ: পনেরো শতকের পরিকল্পিত নগরী, ইটের মসজিদ, সমাধি, রাস্তা আর দিঘি, ৫০ বর্গকিলোমিটার খেতজুড়ে ছড়ানো।
মসজিদ ও মাজারFaisal Photography · CC BY 4.0নয় গম্বুজ মসজিদ
ঠাকুর দিঘির পশ্চিম পাড়ে বর্গাকার মসজিদ, আটটি ছোট গম্বুজে ঘেরা একটি বড় গম্বুজ, ভেতরে পোড়ামাটির ফুলের নকশা।
মসজিদ ও মাজারAtashi Das 112233 · CC BY-SA 4.0রেজা খোদা মসজিদ
পীরের মাজারের কাছে ছয় গম্বুজের মসজিদের ধ্বংসাবশেষ: অষ্টভুজ কোণার মিনার, বিশাল মাঝের মিহরাব আর আকাশের নিচে খোলা দেয়াল।
মসজিদ ও মাজারMuhtadir Zarif · CC BY-SA 4.0রণবিজয়পুর মসজিদ
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় একক গম্বুজ, এগারো মিটার চওড়া, বর্গাকার ইটের হলের ওপরে, পীরের মাজারের দিকে বাঁক নেওয়া মোড়ে।
মসজিদ ও মাজারNasir Khan Saiakt · CC BY-SA 3.0সিঙ্গাইর মসজিদ
ষাট গম্বুজ মসজিদের উল্টো দিকে, মহাসড়কের ওপারে এক গম্বুজের ইটের মসজিদ; কোণার মিনার ও কার্নিশে এখনো পনেরো শতকের পোড়ামাটির নকশা।
মসজিদ ও মাজারBelayet (User:Bellayet) · CC BY 3.0ষাট গম্বুজ মসজিদ
বাংলার সুলতানি আমলের সবচেয়ে বড় মসজিদ: ৮১টি গম্বুজের নিচে ৬০টি পাথরের স্তম্ভ, পনেরো শতকে খান জাহান আলীর তৈরি, ইউনেস্কো মসজিদ-নগরীর প্রাণকেন্দ্র।
প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানNeilok · CC BY-SA 4.0দশ গম্বুজ মসজিদ
পরবর্তী গ্রামের মসজিদের নিচে দশ গম্বুজের মসজিদের খনন করা ভিত; গ্রামবাসী নতুন মসজিদ গড়তে মাটি খুঁড়লে পাওয়া যায়, তারপর প্রত্নতত্ত্ববিদেরা আসেন।
নদী, হ্রদ ও হাওরFaisal Photography · CC BY-SA 4.0ঠাকুর দিঘি ও কুমির
নিজের শহরের খাবার পানির জন্য খান জাহানের খনন করা ২০০ একরের দিঘি, মাজারের নিচে; প্রায় ছয়শ বছর ধরে মিঠা পানির কুমিরের আবাস।
মসজিদ ও মাজারDiego Tirira from Quito, Ecuador · CC BY-SA 2.0জিন্দা পীর মসজিদ ও মাজার
খান জাহানের মাজারের পশ্চিমে ছোট প্রাচীরঘেরা দরগাহ: চার অষ্টভুজ মিনারের এক গম্বুজের মসজিদ, 'জীবিত পীরের' কবর, আর ২০০২ সালে মেরামত করা গম্বুজ।
সূত্র 18
সময়, ভাড়া আর খোলার সময় বদলায়। যাওয়ার আগে একবার যাচাই করে নিন।
এই গাইডটি অফলাইনে নিয়ে যান।
একই গাইড, প্রতিটি জায়গা আর ছবি, ইন্টারনেট ছাড়াই আপনার ফোনে। পৌঁছে জেলাটি চিহ্নিত করুন।
