প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান, বাগেরহাট

মসজিদের শহর বাগেরহাটMosque City of Bagerhat

সময় লাগে
সব দেখতে পুরো একদিন; মূল দুই গুচ্ছের জন্য এক সকাল।
সেরা মাস
নভে–ফেব্রু
খরচ
শুধু ষাট গম্বুজ মসজিদ ও জাদুঘরে প্রবেশমূল্য; সারা দিনের জন্য রিকশা রিজার্ভ কয়েকশ টাকা।

ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য খলিফাতাবাদ: পনেরো শতকের পরিকল্পিত নগরী, ইটের মসজিদ, সমাধি, রাস্তা আর দিঘি, ৫০ বর্গকিলোমিটার খেতজুড়ে ছড়ানো।

ভ্রমণের পরিকল্পনা

সেরা সময়
নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি; দিন শুরু হয় ঠান্ডায়, আলো থাকে নরম।

এক নজরে

বিশ্ব ঐতিহ্য
১৯৮৫ সালে তালিকাভুক্ত, মানদণ্ড iv
প্রতিষ্ঠা
১৪৪০-এর দশকে খান জাহান আলী; মৃত্যু ১৪৫৯
আয়তন
প্রায় ৫০ বর্গকিলোমিটার, মূল দুই গুচ্ছের দূরত্ব ৬.৫ কিলোমিটার

সম্পর্কে

১৯৮৫ সালের বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি কোনো একটি ভবনের জন্য নয়, পুরো হারানো শহরের জন্য, আর বেরোনোর আগে বিষয়টিকে সেভাবে ভাবলে সুবিধা হয়। ১৪৪০-এর দশকে বাংলার সুলতানের কর্মকর্তা উলুগ খান জাহান সুন্দরবনের ধারে বনভূমির জায়গির পান, তা কেটে পরিষ্কার করেন, আর ভৈরবের একটি মরা শাখার পাড়ে শহর সাজান: ইটের রাস্তা, সেতু, চৌবাচ্চা, মিঠা পানির বিশাল দিঘি, আর জনশ্রুতি অনুযায়ী ৩৬০টি মসজিদ। সুলতানের নামে এর নাম রাখেন খলিফাতাবাদ, আর ১৪৫৯ সালে মৃত্যু পর্যন্ত শাসন করেন। কয়েক প্রজন্মের মধ্যে নদী সরে যায়, শহর খালি হয়, আর জঙ্গল সব ঢেকে দেয়; ১৮৯৫ সালে ব্রিটিশ জরিপে ধীরে ধীরে উন্মোচন শুরু, আর আশির দশক থেকে ইউনেস্কোর কাজে তা সম্পূর্ণ হয়।

যা টিকে আছে তা প্রায় ছয় কিলোমিটার দূরত্বে দুটি গুচ্ছে। পশ্চিমে, ঘোড়া দিঘির চারপাশে, ষাট গম্বুজ মসজিদ, সঙ্গে সিঙ্গাইর, বিবি বেগনী ও চুনাখোলা। পূর্বে, ঠাকুর দিঘির চারপাশে, খান জাহানের মাজার, সঙ্গে নয় গম্বুজ, জিন্দা পীর, রেজা খোদা ও দশ গম্বুজ মসজিদ, আর দুইয়ের মাঝে রণবিজয়পুর। স্থাপত্যরীতিটি একেবারে নিজস্ব, প্রতিষ্ঠাতার নামে পরিচিত: পুরু ও ওপরে সরু দেয়াল, দুর্গের মতো গোল কোণার মিনার, নিচু গম্বুজ, খড়ের চাল থেকে ধার করা বাঁকা কার্নিশ, আর অলংকরণে পাথরের বদলে পোড়ামাটি। সবই পোড়া ইট, আর এ কারণেই লোনা বাতাস পাঁচ শতাব্দী ধরে একে ধীরে ধীরে খেয়ে চলেছে, আর সংরক্ষণের কাজ কখনো শেষ হয় না।

রিকশায় পুরোটা দেখতে এক দিনই যথেষ্ট; এক সকালে মূল দুই গুচ্ছ হয়ে যায়। প্রতিটি স্থাপনার বিস্তারিত তার নিজের পাতায়।

যাওয়ার পথ: স্থাপনাগুলো বাগেরহাট শহর থেকে খুলনা সড়ক ধরে ৩ থেকে ৬ কিলোমিটার পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিমে; প্রতিটি স্থাপনার নিজের পাতা দেখুন।

যা করতে পারেন

  • পশ্চিমের গুচ্ছ হেঁটে দেখুন: ষাট গম্বুজ, জাদুঘর, সিঙ্গাইর, তারপর ঘোড়া দিঘি ধরে বিবি বেগনী ও চুনাখোলা।
  • রণবিজয়পুর হয়ে পূর্বের গুচ্ছে যান: মাজার, কুমিরের দিঘি, নয় গম্বুজ, জিন্দা পীর ও রেজা খোদা।
  • বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সমাগমের সময় মাজারে শেষ করুন।

জেনে রাখা ভালো

  • ষাট গম্বুজের গেট থেকে সারা দিনের জন্য একটি ব্যাটারি রিকশা রিজার্ভ করুন; আগে দাম ও থামার জায়গা ঠিক করে নিন।
  • পানি সঙ্গে রাখুন; স্থাপনাগুলোর মাঝে ছায়া কম।

কীভাবে যাবেন

বাগেরহাট গাইড পড়ুন

কাছাকাছি

মসজিদ ও মাজারMuhtadir Zarif · CC BY-SA 4.0

রণবিজয়পুর মসজিদ

১ কিমি, বাগেরহাট

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় একক গম্বুজ, এগারো মিটার চওড়া, বর্গাকার ইটের হলের ওপরে, পীরের মাজারের দিকে বাঁক নেওয়া মোড়ে।

মসজিদ ও মাজারAtashi Das 112233 · CC BY-SA 4.0

রেজা খোদা মসজিদ

১ কিমি, বাগেরহাট

পীরের মাজারের কাছে ছয় গম্বুজের মসজিদের ধ্বংসাবশেষ: অষ্টভুজ কোণার মিনার, বিশাল মাঝের মিহরাব আর আকাশের নিচে খোলা দেয়াল।

মসজিদ ও মাজারDiego Tirira from Quito, Ecuador · CC BY-SA 2.0

জিন্দা পীর মসজিদ ও মাজার

১ কিমি, বাগেরহাট

খান জাহানের মাজারের পশ্চিমে ছোট প্রাচীরঘেরা দরগাহ: চার অষ্টভুজ মিনারের এক গম্বুজের মসজিদ, 'জীবিত পীরের' কবর, আর ২০০২ সালে মেরামত করা গম্বুজ।

জাদুঘরAminul joy · CC BY-SA 4.0

বাগেরহাট জাদুঘর

১ কিমি, বাগেরহাট

ষাট গম্বুজ মসজিদের পাশে ছোট প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর: তিনটি গ্যালারিতে শিলালিপি, মৃৎপাত্র, পোড়ামাটির নিদর্শন আর খলিফাতাবাদের গল্প।

মসজিদ ও মাজারNasir Khan Saiakt · CC BY-SA 3.0

সিঙ্গাইর মসজিদ

১ কিমি, বাগেরহাট

ষাট গম্বুজ মসজিদের উল্টো দিকে, মহাসড়কের ওপারে এক গম্বুজের ইটের মসজিদ; কোণার মিনার ও কার্নিশে এখনো পনেরো শতকের পোড়ামাটির নকশা।

মসজিদ ও মাজারMd.Mijanur Rahman1985 · CC BY-SA 4.0

খান জাহান আলীর মাজার

১ কিমি, বাগেরহাট

বাগেরহাটের প্রতিষ্ঠাতা পীরের এক গম্বুজের সমাধি, তাঁর কুমিরের দিঘির ওপরে উঁচু জমিতে; জীবন্ত এক দরগাহ, যেখানে সব ধর্মের মানুষ প্রার্থনা করতে ও মানত করতে আসেন।

অবস্থান

মসজিদের শহর বাগেরহাট, বাগেরহাট

সংশোধন জানান

সময়, ভাড়া আর খোলার সময় বদলায়। যাওয়ার আগে একবার যাচাই করে নিন।

গিয়েছেন? অ্যাপে চিহ্নিত করুন।

আপনার ঘুরে আসা জায়গা আর জেলা মানচিত্রে ভরে ওঠে, ব্যাজ অর্জন হয়, আর অফলাইনেও আপনার সঙ্গে থাকে।