দ্বীপ, বাগেরহাট
দুবলার চরDublar Char
- সময় লাগে
- ক্রুজের অংশ হিসেবে একদিন; মেলা বহরে তিন দিন।
- সেরা মাস
- নভে–ফেব্রু
- খরচ
- যেসব ক্রুজ যায় তার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত; মেলার বহরের ট্রলার মোংলা থেকে প্রতি বছর মাথাপিছু ভাড়ায়।
সুন্দরবনের সাগর-কিনারে জেলেদের দ্বীপ, বছরে পাঁচ মাস শুঁটকির শহর, আর রাসমেলার স্থান, যখন নভেম্বরের পূর্ণিমায় পুণ্যার্থীরা সাগরে স্নান করেন।
ভ্রমণের পরিকল্পনা
- সেরা সময়
- মেলার জন্য নভেম্বরে রাস পূর্ণিমার তিন দিন; জেলেদের শিবিরের জন্য নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি।
এক নজরে
- দ্বীপ
- প্রায় ১৫ কিলোমিটার লম্বা, ৬৬ বর্গকিলোমিটার
- মৌসুম
- অক্টোবর থেকে মার্চ, প্রায় ৩৫,০০০ জেলে
- রাসমেলা
- কার্তিকের পূর্ণিমায় (নভেম্বর) তিন দিন
সম্পর্কে
বনের দক্ষিণে, পশুরের পুরোনো মুখ যেখানে বঙ্গোপসাগরে মেশে, পনেরো কিলোমিটার লম্বা একটি নিচু দ্বীপ, যা বছরের অর্ধেক খালি আর বাকি অর্ধেক শহর। বর্ষার পর অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের প্রায় ৩৫,০০০ জেলে বন বিভাগের লাইসেন্সে দুবলার চরে তাঁবু ফেলেন, আর সৈকত হয়ে ওঠে সুন্দরবনের সবচেয়ে বড় শুঁটকির চাতাল: লইট্যা, ছুরি আর ছোট চিংড়ি বাঁশের মাচায় তিন থেকে পাঁচ দিন রোদে, তারপর চট্টগ্রামের আসাদগঞ্জ বাজারে চালান। অস্থায়ী বাজার, জেনারেটরের আলো, মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্ট আছে, ব্যাংক নেই; শুধু টেলিটকের নেটওয়ার্ক পৌঁছায়।
কার্তিকের রাস পূর্ণিমা, নভেম্বরের পূর্ণিমা, ঘিরে তিন দিন দ্বীপ ভরে যায় হিন্দু পুণ্যার্থীতে। রাসমেলার শুরু, জনশ্রুতি অনুযায়ী, ১৯২৩ সালে বনবাসী ভক্ত হরিভজনের হাতে, যদিও মানুষ একে দুইশ বছরের পুরোনো বলেন। ভক্তরা বন বিভাগের বহরে ট্রলারে আসেন, সারা রাত কীর্তন গান, আর ভোরে ফল হাতে সাগরে নেমে জলে ভাসিয়ে দেন। উৎসবের জন্য বন বিভাগ নির্ধারিত নৌপথ খুলে দেয়, অন্য সময় নয়; এর বাইরে দুবলার চরে যাওয়া যায় শুধু এটি অন্তর্ভুক্ত এমন ক্রুজে, সাধারণত কটকা থেকে। প্রত্যন্ত, উন্মুক্ত আর গরম, আর জেলেদের শিবির বা মেলার জন্য, ভোলার নয়।
যাওয়ার পথ: শুধু সমুদ্রপথে: মোংলা বা খুলনা থেকে এটি অন্তর্ভুক্ত এমন ক্রুজে, অথবা মোংলা থেকে বন বিভাগের রাসমেলার ট্রলার বহরে।
যা করতে পারেন
- ভোরে শুঁটকির চাতালে হাঁটুন, মাছ আসা দেখুন।
- মেলায় কীর্তনের জন্য জেগে থাকুন, সূর্যোদয়ে জলে নামুন।
- জেলেদের কাছ থেকেই শুঁটকি কিনুন; দেশের সবচেয়ে টাটকা।
জেনে রাখা ভালো
- শুধু বন বিভাগের বহর বা লাইসেন্সপ্রাপ্ত ক্রুজ নামতে পারে; নিজে যাওয়ার উপায় নেই।
- খাবার পানি, রোদের আড়াল আর নগদ টাকা আনুন; দ্বীপে এগুলোর বাড়তি নেই।
- ঘূর্ণিঝড়ের মৌসুম অক্টোবর ও মে; পূর্বাভাস দেখুন।






