Francis Voon · CC BY 2.0৭টির ১

শহর ও ল্যান্ডমার্ক, বাগেরহাট

মোংলা ও পশুর নদীর তীরMongla and the Pasur riverfront

সময় লাগে
এক সন্ধ্যা, অথবা বনের ভ্রমণের ঘাঁটি হিসেবে এক রাত।
সেরা মাস
নভে–ফেব্রু
খরচ
নদীতে এক ঘণ্টার ইঞ্জিন নৌকা কয়েকশ টাকা; শহরে ঘর প্রায় ৳৮০০ থেকে, পর্যটন মোটেলে ৳২,৫০০–৩,৮০০।

বাংলাদেশের দ্বিতীয় সমুদ্রবন্দর, পশুর নদীর তীরে সীমান্ত-শহর, যেখানে পণ্যবাহী জাহাজ, মাছ ধরার নৌকা আর সুন্দরবনের লঞ্চ একই চওড়া বাদামি নদী ভাগ করে নেয়।

ভ্রমণের পরিকল্পনা

সেরা সময়
নদীতে গোধূলি; বনের ভ্রমণের জন্য নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি।

এক নজরে

বন্দর
১৯৫০ সালে চালনা নামে প্রতিষ্ঠিত; খুলনা থেকে ৪৮ কিলোমিটার দক্ষিণে
নদী
পশুর, বঙ্গোপসাগর থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার উজানে

সম্পর্কে

মোংলায় সড়ক শেষ, বন শুরু। ১৯৫০ সালে চালনা নামে প্রতিষ্ঠিত বন্দরটি ভাটিতে সরে বর্তমান জায়গায় আসে, আর এখন চট্টগ্রামের পরে দেশের সমুদ্রবাণিজ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম অংশ সামলায়; জাহাজগুলো নোঙর করে মাঝনদীতে, বঙ্গোপসাগর থেকে একশ কিলোমিটার উজানে, ওপারে সুন্দরবন। শহরটি ছোট আর কাজের: একটি ফেরিঘাট, একটি বাজার, কয়েকটি হোটেল, জলের ধারে পর্যটন মোটেল; এখানে আসার কারণ দুটির একটি: নৌকায় ওঠা, নয়তো নদী দেখা।

নদী দেখাটা সার্থক। ঘাট বা নদীতীরের পথ থেকে সমুদ্রগামী জাহাজ ডিঙি নৌকার জেলেদের পাশ দিয়ে যায়, জলের ওপারে এক কিলোমিটার দূরে বনের দেয়াল, আর গোধূলিতে সবকিছু তামাটে হয়ে ওঠে। সন্ধ্যায় পশুরে এক ঘণ্টার নৌকাভ্রমণই সুন্দরবনের সবচেয়ে সস্তা অভিজ্ঞতা। বনই মোংলার আসল কারবার: খুলনা থেকে প্রতিটি সুন্দরবন ক্রুজ এই পথে যায়, আর বেশিরভাগ দিনের ভ্রমণ শুরু হয় এই ঘাট থেকে; আধা ঘণ্টা ভাটিতে করমজল, প্রায় দুই ঘণ্টায় হাড়বাড়িয়া। শহরের প্রান্তে শেলাবুনিয়ায় সেন্ট পলস গির্জা ও স্কুল, ইতালীয় যাজক ফাদার মারিনো রিগনের কবর ও জীবনের কাজ, যিনি রবীন্দ্রনাথ অনুবাদ করেছিলেন আর ১৯৭১-এ মুক্তিযোদ্ধাদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।

যাওয়ার পথ: বাগেরহাট শহর থেকে ৫০ কিলোমিটার দক্ষিণে (বাসে প্রায় এক ঘণ্টা), খুলনা থেকে ৪৮ কিলোমিটার; ঢাকার সায়েদাবাদ থেকে সরাসরি বাসে ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা। ২০২৪ সালে খুলনা থেকে কমিউটার ট্রেন চালু হয়েছে; চলছে কি না জেনে নিন।

যা করতে পারেন

  • সূর্যাস্তে পশুরে এক ঘণ্টার নৌকাভ্রমণ করুন।
  • সকালে করমজলের জন্য নৌকা ভাড়া করুন।
  • শেলাবুনিয়ায় সেন্ট পলস ও ফাদার রিগনের কবর দেখে আসুন।
  • বাজারের হোটেলে নদীর মাছ খান; সকালে কী এসেছে জিজ্ঞেস করুন।

জেনে রাখা ভালো

  • নগদ টাকা রাখুন; মাঝি ও ছোট দোকানে কার্ড বা বিকাশ নির্ভরযোগ্য নয়।
  • নৌকায় ওঠার আগে ভাড়া ও পথ ঠিক করুন, লাইফ জ্যাকেট দেখে নিন।
  • সুন্দরবনের মধু কিনুন বন বিভাগের অফিস বা সমবায় থেকে, ঘাট থেকে নয়।

কীভাবে যাবেন

বাগেরহাট গাইড পড়ুন

কাছাকাছি

বনmohammad fahim · CC BY-SA 4.0

ঢাংমারি

৬ কিমি, বাগেরহাট

মোংলার ঠিক নিচে বনের কিনারের গ্রাম ও অভয়ারণ্য, যেখানে কাঠের নৌকায় নিঃশব্দে ম্যানগ্রোভের সরু খালে বইঠা বাওয়া যায়।

বন্যপ্রাণী ও জাতীয় উদ্যানUmme Saimum · CC BY-SA 4.0

করমজল

৭ কিমি, বাগেরহাট

মোংলা থেকে নৌকায় এক ঘণ্টায় সুন্দরবনে বন বিভাগের প্রবেশদ্বার: কুমির প্রজনন কেন্দ্র, হরিণ, বানর, ম্যানগ্রোভের ভেতর দিয়ে কাঠের পথ আর পর্যবেক্ষণ টাওয়ার।

বনHiroki Ogawa · CC BY 3.0

হাড়বাড়িয়া

২১ কিমি, বাগেরহাট

গভীর বনে দিনের ভ্রমণ: চাঁদপাই রেঞ্জে এক কিলোমিটার কাঠের পথের শেষে পর্যবেক্ষণ টাওয়ার, মোংলা থেকে পশুর ধরে দুই ঘণ্টা, অনুমতি ও সশস্ত্র গার্ডসহ।

পার্ক ও পিকনিক স্পটNayan Farmer · CC BY-SA 4.0

চন্দ্রমহল ইকো পার্ক

২১ কিমি, বাগেরহাট

রণজিতপুরে ৩৫ একরের ব্যক্তিগত পার্ক: হ্রদের ওপরে তাজমহলের আদলে প্রাসাদ, কাচের সুড়ঙ্গ দিয়ে যেতে হয়, প্রাচীন জিনিসের ভাণ্ডার, বাগান, মিনি চিড়িয়াখানা আর পিকনিকের মাঠ।

মসজিদ ও মাজারFaisal Photography · CC BY 4.0

নয় গম্বুজ মসজিদ

২৫ কিমি, বাগেরহাট

ঠাকুর দিঘির পশ্চিম পাড়ে বর্গাকার মসজিদ, আটটি ছোট গম্বুজে ঘেরা একটি বড় গম্বুজ, ভেতরে পোড়ামাটির ফুলের নকশা।

নদী, হ্রদ ও হাওরFaisal Photography · CC BY-SA 4.0

ঠাকুর দিঘি ও কুমির

২৫ কিমি, বাগেরহাট

নিজের শহরের খাবার পানির জন্য খান জাহানের খনন করা ২০০ একরের দিঘি, মাজারের নিচে; প্রায় ছয়শ বছর ধরে মিঠা পানির কুমিরের আবাস।

অবস্থান

মোংলা ও পশুর নদীর তীর, বাগেরহাট

সংশোধন জানান

সময়, ভাড়া আর খোলার সময় বদলায়। যাওয়ার আগে একবার যাচাই করে নিন।

গিয়েছেন? অ্যাপে চিহ্নিত করুন।

আপনার ঘুরে আসা জায়গা আর জেলা মানচিত্রে ভরে ওঠে, ব্যাজ অর্জন হয়, আর অফলাইনেও আপনার সঙ্গে থাকে।