মসজিদ ও মাজার, শরীয়তপুর

বুড়িরহাট জামে মসজিদBurirhat Jame Mosque

সময় লাগে
প্রায় আধা ঘণ্টা।
সেরা মাস
নভে–ফেব্রু

১৯০৭ সালে ছন-গোলপাতায় শুরু, ১৯৩৫ সালে পাকা রূপ; টিপু সুলতান মসজিদের আদলে নকশা, ভেতরে রঙিন সিরামিকের লতাপাতা আর ৬০ ফুট উঁচু মিনার।

এক নজরে

প্রতিষ্ঠা
১৯০৭; পাকা ভবন ১৯৩৫
গম্বুজ
৩০টি (৬টি বড়), ২০১৫ থেকে
মিনার
৬০ ফুট
ধারণক্ষমতা
প্রায় ১,০০০ মুসল্লি

সম্পর্কে

১৯০৭ সালে বুড়িরহাটের ব্যবসায়ী একাব্বর হোসেন হাওলাদার ছন আর গোলপাতা দিয়ে নামাজ ও কুরআন শিক্ষার জন্য ছোট একটি মসজিদ করেন। তাঁর ছেলে সেটিকে টিনের ঘর করেন, তারপর ধাপে ধাপে শুরু হয় পাকা নির্মাণ, আর ১৯৩৫ সালে মসজিদ পূর্ণ রূপ পায়। নকশা করেন আফতাব উদ্দিন মুন্সী, টিপু সুলতান মসজিদের আদলে; সিমেন্ট এসেছিল ইংল্যান্ড থেকে, অন্য উপকরণ কলকাতা থেকে, আর দেয়ালের কারুকাজ করেন চাঁদপুরের কারিগরেরা।

ভেতরের দেয়াল সিরামিক চূর্ণে আঁকা রঙিন লতাপাতায় ভরা, বাইরের দেয়ালে সিমেন্ট আর সিরামিকের টেরাকোটা ধাঁচের কাজ, তাতে মার্বেল পাথর; দেয়াল তিন ফুটেরও বেশি পুরু। পূর্ব ফটকের পাশে নব্বইয়ের দশকে তোলা ৬০ ফুটের একমাত্র মিনার, আর ২০১৫ সালের সম্প্রসারণের পর গম্বুজ ৩০টি, তার ছয়টি বড়। পাঁচ একর ওয়াকফ জমিতে ঈদগাহ আর পুকুরসহ মসজিদে প্রায় এক হাজার মুসল্লি নামাজ পড়তে পারেন; জেলা প্রশাসন একে জেলার সেরা মসজিদগুলোর একটি বলে।

যাওয়ার পথ: রুদ্রকর ইউনিয়নে বুড়িরহাট বাজারের দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তে, শরীয়তপুর–চাঁদপুর সড়কে; শহর থেকে বাস বা অটোতে।

যা করতে পারেন

  • ভেতরের দেয়ালে সিরামিক চূর্ণের লতাপাতা কাছ থেকে দেখুন।
  • পূর্ব ফটকের পাশে ৬০ ফুটের মিনার দেখুন।

জেনে রাখা ভালো

  • নামাজের সময়ের বাইরে যান, শালীন পোশাক পরুন, জুতা খুলুন।

কীভাবে যাবেন

শরীয়তপুর গাইড পড়ুন

কাছাকাছি

দুর্গ ও জমিদারবাড়ি

ছয়গাঁও জমিদার বাড়ি

২ কিমি, শরীয়তপুর

ভেদরগঞ্জে দোতলা জমিদার বাড়ি, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের কয়েকজন নেতার বাসস্থান; ১৯৩০ থেকে ১৯৩৪ সাল পর্যন্ত এখানে ব্রিটিশ সেনাঘাঁটি ছিল।

মন্দিরRadman Siddiki · CC BY 4.0

রুদ্রকর মঠ ও জমিদার বাড়ি

৪ কিমি, শরীয়তপুর

প্রায় ২০ মিটার উঁচু মন্দির, কোণে ছোট মন্দির, সামনে বিশাল পুকুর; পাশে চক্রবর্তী জমিদারদের "বাবুর বাড়ি"র ধ্বংসাবশেষ।

মন্দিরShuvajit BD · CC BY-SA 4.0

ধানুকার মনসা বাড়ি

৫ কিমি, শরীয়তপুর

ধানুকায় ময়ূর ভট্টের বাড়ি, প্রচলিত মতে প্রায় ৬০০ বছরের পুরোনো সংরক্ষিত মন্দিরগুচ্ছ, যেখানে আছে সর্পদেবী মনসার পিতলের প্রাচীন মূর্তি।

নদী, হ্রদ ও হাওর

মহিষার ও দিগম্বরীর দিঘি

৫ কিমি, শরীয়তপুর

চাঁদ রায় ও কেদার রায়ের নির্দেশে পানীয় জলের জন্য খোঁড়া দুটি বিশাল দিঘি, দিগম্বরীর মন্দির, কাছে ভাঙা "ভিয়া বাড়ি", আর পহেলা বৈশাখ থেকে সপ্তাহব্যাপী মেলা।

প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান

ফতেজঙ্গপুর দুর্গ ও কেদার রায়ের বেড়

৯ কিমি, শরীয়তপুর

যেখানে মানসিংহের মুঘল বাহিনী কেদার রায়কে হারিয়ে শ্রীনগরের নাম রাখে ফতেজঙ্গপুর, আর কেদারপুরে কেদার রায়ের অসমাপ্ত নগরের পরিখা।

মন্দির

ডিঙ্গামানিক: রামসাধুর আশ্রম ও রাম ঠাকুরের বাড়ি

১২ কিমি, শরীয়তপুর

নড়িয়ার ডিঙ্গামানিকে শত বছরের পুরোনো আশ্রম, শীতের শেষে তিন দিনের মেলা; এই গ্রামেই ১৮৬০ সালে সাধক শ্রী শ্রী রাম ঠাকুরের জন্ম।

অবস্থান

বুড়িরহাট জামে মসজিদ, শরীয়তপুর

সংশোধন জানান

সময়, ভাড়া আর খোলার সময় বদলায়। যাওয়ার আগে একবার যাচাই করে নিন।

গিয়েছেন? অ্যাপে চিহ্নিত করুন।

আপনার ঘুরে আসা জায়গা আর জেলা মানচিত্রে ভরে ওঠে, ব্যাজ অর্জন হয়, আর অফলাইনেও আপনার সঙ্গে থাকে।