Radman Siddiki · CC BY 4.0৬টির ১

মন্দির, শরীয়তপুর

রুদ্রকর মঠ ও জমিদার বাড়িRudrakar Math and Zamindar House

সময় লাগে
প্রায় এক ঘণ্টা।
সেরা মাস
নভে–ফেব্রু

প্রায় ২০ মিটার উঁচু মন্দির, কোণে ছোট মন্দির, সামনে বিশাল পুকুর; পাশে চক্রবর্তী জমিদারদের "বাবুর বাড়ি"র ধ্বংসাবশেষ।

এক নজরে

মন্দিরের উচ্চতা
প্রায় ২০ মিটার
জমিদার বাড়ি
১২–১৩ একর; ফটকে ১৮৯৮ বঙ্গাব্দ
শহর থেকে
প্রায় ৫ কিলোমিটার

সম্পর্কে

জমিদার নীলমণি চক্রবর্তীর পরিবার, যাঁরা স্থানীয়ভাবে 'বাবু' নামে পরিচিত, এখানে ১২–১৩ একর জমিতে বাড়ি গড়েন: আট-দশটি অট্টালিকা, দরবারকক্ষ, গুদাম, রান্নাঘর আর নৃত্যশালা; ফটকে খোদাই করা ১৮৯৮ বঙ্গাব্দের সংস্কারের তারিখ। পাশে গুরুচরণ চক্রবর্তী মায়ের স্মৃতিতে গড়েন মঠ। বড় মন্দিরটি প্রায় ২০ মিটার উঁচু, কোণে তিনটি ছোট মন্দির, দেয়ালে সূক্ষ্ম কারুকাজ আর দেবীমূর্তির অলংকরণ, সামনে বিশাল পুকুর। গল্প আছে, মঠের নিচে গোপন কুঠুরি ছিল, যা আজ বিলীন।

১৯৭১-এর যুদ্ধে মঠের তেমন ক্ষতি হয়নি, তবে পরিবারটি ভারতে চলে যাওয়ার পর রক্ষণাবেক্ষণ থেমে যায়। জমিদার বাড়ির অনেকটাই এখন ধসে পড়া, পরিত্যক্ত; মঠও ক্ষয়ে যাচ্ছে, আর এলাকাবাসী দুটিরই সংস্কার চান। মঠে টিয়া পাখির বাস, আর প্রতি বছর মঠে আজও পূজা আর কীর্তন হয়।

যাওয়ার পথ: শরীয়তপুর শহর থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার, ডামুড্যা সড়কের পাশে রুদ্রকর ইউনিয়ন পরিষদের উত্তরে; শহর থেকে অটো ও রিকশা যায়।

যা করতে পারেন

  • বড় মন্দির আর কোণের মন্দিরগুলো ঘুরে দেখুন, টিয়া পাখি খুঁজুন।
  • বাবুদের বাড়ির ধ্বংসাবশেষ আর খোদাই করা ফটক দেখুন।
  • বার্ষিক পূজা ও কীর্তনের সময় আসুন।

জেনে রাখা ভালো

  • জমিদার বাড়ি ধসে পড়ছে: বাইরে থেকে দেখুন।
  • মন্দিরে জুতা খুলুন।

কীভাবে যাবেন

শরীয়তপুর গাইড পড়ুন

কাছাকাছি

মন্দিরShuvajit BD · CC BY-SA 4.0

ধানুকার মনসা বাড়ি

২ কিমি, শরীয়তপুর

ধানুকায় ময়ূর ভট্টের বাড়ি, প্রচলিত মতে প্রায় ৬০০ বছরের পুরোনো সংরক্ষিত মন্দিরগুচ্ছ, যেখানে আছে সর্পদেবী মনসার পিতলের প্রাচীন মূর্তি।

মসজিদ ও মাজার

বুড়িরহাট জামে মসজিদ

৪ কিমি, শরীয়তপুর

১৯০৭ সালে ছন-গোলপাতায় শুরু, ১৯৩৫ সালে পাকা রূপ; টিপু সুলতান মসজিদের আদলে নকশা, ভেতরে রঙিন সিরামিকের লতাপাতা আর ৬০ ফুট উঁচু মিনার।

দুর্গ ও জমিদারবাড়ি

ছয়গাঁও জমিদার বাড়ি

৬ কিমি, শরীয়তপুর

ভেদরগঞ্জে দোতলা জমিদার বাড়ি, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের কয়েকজন নেতার বাসস্থান; ১৯৩০ থেকে ১৯৩৪ সাল পর্যন্ত এখানে ব্রিটিশ সেনাঘাঁটি ছিল।

নদী, হ্রদ ও হাওর

মহিষার ও দিগম্বরীর দিঘি

৯ কিমি, শরীয়তপুর

চাঁদ রায় ও কেদার রায়ের নির্দেশে পানীয় জলের জন্য খোঁড়া দুটি বিশাল দিঘি, দিগম্বরীর মন্দির, কাছে ভাঙা "ভিয়া বাড়ি", আর পহেলা বৈশাখ থেকে সপ্তাহব্যাপী মেলা।

প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান

ফতেজঙ্গপুর দুর্গ ও কেদার রায়ের বেড়

১১ কিমি, শরীয়তপুর

যেখানে মানসিংহের মুঘল বাহিনী কেদার রায়কে হারিয়ে শ্রীনগরের নাম রাখে ফতেজঙ্গপুর, আর কেদারপুরে কেদার রায়ের অসমাপ্ত নগরের পরিখা।

প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান

আউলিয়াপুর নীলকুঠি

১১ কিমি, মাদারীপুর

আউলিয়াপুরে ব্রিটিশ আমলের নীলকরদের কুঠির ধ্বংসাবশেষ, বাংলার নীল চাষের ইতিহাসের সাক্ষী।

অবস্থান

রুদ্রকর মঠ ও জমিদার বাড়ি, শরীয়তপুর

সংশোধন জানান

সময়, ভাড়া আর খোলার সময় বদলায়। যাওয়ার আগে একবার যাচাই করে নিন।

গিয়েছেন? অ্যাপে চিহ্নিত করুন।

আপনার ঘুরে আসা জায়গা আর জেলা মানচিত্রে ভরে ওঠে, ব্যাজ অর্জন হয়, আর অফলাইনেও আপনার সঙ্গে থাকে।