মন্দির, শরীয়তপুর

ধানুকার মনসা বাড়িDhanuka Manasa Bari

সময় লাগে
প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা।
সেরা মাস
নভে–ফেব্রু

ধানুকায় ময়ূর ভট্টের বাড়ি, প্রচলিত মতে প্রায় ৬০০ বছরের পুরোনো সংরক্ষিত মন্দিরগুচ্ছ, যেখানে আছে সর্পদেবী মনসার পিতলের প্রাচীন মূর্তি।

এক নজরে

প্রতিষ্ঠা
প্রচলিত মতে প্রায় ৬০০ বছর আগে
মূর্তি
মনসার পিতলের প্রাচীন মূর্তি
অবস্থা
সংরক্ষিত পুরাকীর্তি

সম্পর্কে

প্রচলিত মতে প্রায় ছয়শো বছর আগে ময়ূর ভট্ট নামে এক ধনাঢ্য ব্যক্তি ধানুকায় বাড়ি গড়েন, পরে সেই বাড়িতেই মনসা মন্দির। কাহিনি আছে, বাড়ির এক কিশোর ফুল কুড়াতে গিয়ে পরপর একটি সাপকে দেখত; তৃতীয় দিনে সাপটি তার পিছু পিছু বাড়ি এসে তাকে ঘিরে নাচতে থাকে, আর সে রাতে বাড়ির কর্তা স্বপ্নে দেখেন, মনসা তাঁকে মন্দির গড়ে পূজা করতে বলছেন। মন্দিরটি এত জনপ্রিয় হয় যে ভারত থেকেও পূজা দিতে লোক আসত, আর পুরো বাড়িটিই হয়ে ওঠে মনসা বাড়ি।

মন্দিরে আছে মনসার পিতলের প্রাচীন মূর্তি; কথিত আছে, একবার হারিয়ে গেলে জেলেরা খুঁজে এনে রেখে যান। ১৯৭১ সালে বাড়িটির ব্যাপক ক্ষতি হয়। এখন এটি সংরক্ষিত পুরাকীর্তি, কয়েকটি মন্দির মিলে একটি বাড়ি, দেখভাল করেন ময়ূর ভট্টের এক বংশধর; বিভিন্ন সময়ে এখান থেকে প্রাচীন পুঁথিও উদ্ধার হয়েছে। ধানুকা একসময় সংস্কৃত শিক্ষার কেন্দ্র আর কয়েকজন পণ্ডিতের জন্মস্থান ছিল। লোকে বলে, পূজার সময় আজও এখানে সাপের দেখা মেলে।

যাওয়ার পথ: শরীয়তপুর শহর থেকে রিকশায় অল্প পথ, ধানুকা।

যা করতে পারেন

  • মনসা মন্দির আর বাড়ির অন্য মন্দিরগুলো দেখুন।
  • সাপের কাহিনিটি পরিবারের মুখে শুনুন।

জেনে রাখা ভালো

  • এটি পরিবারের বাসস্থান ও উপাসনালয়: ঢোকার আগে অনুমতি নিন, জুতা খুলুন।

কীভাবে যাবেন

শরীয়তপুর গাইড পড়ুন

কাছাকাছি

মন্দিরRadman Siddiki · CC BY 4.0

রুদ্রকর মঠ ও জমিদার বাড়ি

২ কিমি, শরীয়তপুর

প্রায় ২০ মিটার উঁচু মন্দির, কোণে ছোট মন্দির, সামনে বিশাল পুকুর; পাশে চক্রবর্তী জমিদারদের "বাবুর বাড়ি"র ধ্বংসাবশেষ।

মসজিদ ও মাজার

বুড়িরহাট জামে মসজিদ

৫ কিমি, শরীয়তপুর

১৯০৭ সালে ছন-গোলপাতায় শুরু, ১৯৩৫ সালে পাকা রূপ; টিপু সুলতান মসজিদের আদলে নকশা, ভেতরে রঙিন সিরামিকের লতাপাতা আর ৬০ ফুট উঁচু মিনার।

দুর্গ ও জমিদারবাড়ি

ছয়গাঁও জমিদার বাড়ি

৬ কিমি, শরীয়তপুর

ভেদরগঞ্জে দোতলা জমিদার বাড়ি, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের কয়েকজন নেতার বাসস্থান; ১৯৩০ থেকে ১৯৩৪ সাল পর্যন্ত এখানে ব্রিটিশ সেনাঘাঁটি ছিল।

নদী, হ্রদ ও হাওর

মহিষার ও দিগম্বরীর দিঘি

৮ কিমি, শরীয়তপুর

চাঁদ রায় ও কেদার রায়ের নির্দেশে পানীয় জলের জন্য খোঁড়া দুটি বিশাল দিঘি, দিগম্বরীর মন্দির, কাছে ভাঙা "ভিয়া বাড়ি", আর পহেলা বৈশাখ থেকে সপ্তাহব্যাপী মেলা।

প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান

ফতেজঙ্গপুর দুর্গ ও কেদার রায়ের বেড়

৯ কিমি, শরীয়তপুর

যেখানে মানসিংহের মুঘল বাহিনী কেদার রায়কে হারিয়ে শ্রীনগরের নাম রাখে ফতেজঙ্গপুর, আর কেদারপুরে কেদার রায়ের অসমাপ্ত নগরের পরিখা।

প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান

আউলিয়াপুর নীলকুঠি

১১ কিমি, মাদারীপুর

আউলিয়াপুরে ব্রিটিশ আমলের নীলকরদের কুঠির ধ্বংসাবশেষ, বাংলার নীল চাষের ইতিহাসের সাক্ষী।

অবস্থান

ধানুকার মনসা বাড়ি, শরীয়তপুর

সংশোধন জানান

সময়, ভাড়া আর খোলার সময় বদলায়। যাওয়ার আগে একবার যাচাই করে নিন।

গিয়েছেন? অ্যাপে চিহ্নিত করুন।

আপনার ঘুরে আসা জায়গা আর জেলা মানচিত্রে ভরে ওঠে, ব্যাজ অর্জন হয়, আর অফলাইনেও আপনার সঙ্গে থাকে।