নদী, হ্রদ ও হাওর, নেত্রকোণা
সোমেশ্বরী নদীSomeshwari River
- সময় লাগে
- পাড়ে এক ঘণ্টা, নৌকাসহ দুই।
- সেরা মাস
- নভে–ফেব্রু
গারো পাহাড় থেকে রানীখং আর দুর্গাপুর ছুঁয়ে নেমে আসা নদী: শীতে নুড়ি আর বালুর ওপর স্বচ্ছ পানি, বর্ষায় খরস্রোত, নৌকা, কয়লা আর বালু তোলার মানুষ, আর পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা পাহাড়।
ভ্রমণের পরিকল্পনা
- সেরা সময়
- স্বচ্ছ পানি আর বালুর রাস্তার জন্য নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি; পাড় থেকে উছলে ওঠা দেখতে বর্ষা।
এক নজরে
- উৎস
- নকরেক পর্বতমালা, গারো পাহাড়, মেঘালয় (সিমসাং)
- বাংলাদেশে
- প্রায় ৫০ কিলোমিটার, রানীখং থেকে কংস পর্যন্ত
- নাম
- প্রচলিত মতে সুসং রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা সোমেশ্বর পাঠকের নামে
সম্পর্কে
গারোরা একে বলে সিমসাং; মেঘালয়ে এটা পাহাড়ের সবচেয়ে বড় নদী, নকরেক পর্বতমালা থেকে উঠে গারো পাহাড়কে দু-ভাগ করে রানীখং টিলার পাশ দিয়ে বাংলাদেশে নেমেছে। প্রচলিত মতে ১২৮০ সালে সোমেশ্বর পাঠক দেশটা নেওয়ার পর নদীর নাম বদলায়। বাংলাদেশে এটা প্রায় ৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ আর পূর্বে এঁকেবেঁকে দুর্গাপুর, কুমুদগঞ্জ, কলমাকান্দা হয়ে কংসে মিশেছে, শাখা গেছে সুনামগঞ্জের হাওরে।
দুর্গাপুরে নদীটাই গোটা দৃশ্য। শুকনো মাসে নদী সাদা বালু আর গোল পাথরের চওড়া বুকে কয়েকটা ধারায় নেমে আসে, আর বালুটাই রাস্তা: অটো, মোটরসাইকেল আর ট্রাক এর ওপর দিয়ে বিজয়পুরের দিকে যায়, গ্রামের মানুষ পাহাড় থেকে নেমে আসা কয়লা আর নুড়ি চালুনিতে তোলে, আর যেটুকু পানি থাকে তাতে নিচের পাথর দেখা যায়। মেঘালয়ে বৃষ্টি হলে ঘণ্টায় বাদামি বন্যায় ফুলে পারাপার ভাসিয়ে নেয়। যেভাবেই হোক, উজানে গারো পাহাড়ের প্রথম টিলা পর্যন্ত দৃশ্যটার জন্যই মানুষ পাড়ে দাঁড়ায়।
দুর্গাপুর ঘাটে এক ঘণ্টা ধীরে পানিতে ভাসার জন্য নৌকা ভাড়া পাওয়া যায়, আর বালুতে মাঝেমধ্যে পাওয়া পাথর হয়ে যাওয়া কাঠের জন্য ভূতত্ত্ববিদদের কাছেও এটা কৌতূহলের।
যাওয়ার পথ: দুর্গাপুর বাজার বা বিরিশিরি থেকে কয়েক মিনিটের হাঁটা; মূল ঘাট দুর্গাপুরের দিকে।
যা করতে পারেন
- শীতে বালুর বুকে নেমে উজানে পাহাড়ের দিকে তাকান।
- দুর্গাপুর ঘাট থেকে নৌকায় উঠুন।
- বালু আর কয়লা তোলার মানুষের কাজ দেখুন।
জেনে রাখা ভালো
- যেখানে বালু বা কয়লা তোলা হয়েছে সেখানে সাঁতার কাটবেন না; গর্ত গভীর, স্রোত টানে।
- রোদের দিনেও হঠাৎ বান আসতে পারে; পানি আর মেঘালয়ের আকাশে নজর রাখুন।




