Esha795 · CC BY-SA 3.0৪টির ১

গ্রাম ও জনপদ, নেত্রকোণা

বিরিশিরিBirishiri

সময় লাগে
আশপাশসহ পুরো দিন; ঠিকমতো দেখতে এক রাত।
সেরা মাস
নভে–ফেব্রু

দুর্গাপুর বাজারের ওপারে সোমেশ্বরী পেরিয়ে যে গ্রামের নামে ভ্রমণকারীরা পুরো এলাকাটাকে চেনে: গারো আর হাজং বাড়ি, ব্রিটিশ আমলের মিশন স্কুল, কালচারাল একাডেমি, আর নদী, সাদা মাটির পাহাড় ও রানীখং ঘোরার ঘাঁটি।

ভ্রমণের পরিকল্পনা

সেরা সময়
নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি; ডিসেম্বরের শুরুতে মণি সিংহ মেলা।

এক নজরে

মানুষ
প্রায় ৬০% গারো, সঙ্গে হাজং, বাঙালি মুসলিম ও হিন্দু পরিবার
থাকা
ওয়াইএমসিএ ও ওয়াইডব্লিউসিএ গেস্ট হাউস, দুর্গাপুর বাজারের হোটেল
ঢাকা থেকে
প্রায় ১৮০ কিলোমিটার; মহাখালী থেকে বাসে ৫–৬ ঘণ্টা

সম্পর্কে

বিরিশিরি কাগজে দুর্গাপুর পৌরসভার একটা ওয়ার্ড, কিন্তু সোমেশ্বরী দুটোকে আলাদা করেছে আর সবাই একে আলাদা জায়গা বলেই ধরে। এখানকার দশজনে প্রায় ছয়জন গারো, সঙ্গে হাজং, বাঙালি মুসলিম আর হিন্দু পরিবার, আর গ্রামটার চেহারা ব্রিটিশ আমলের মিশন বসতির মতো: শতবর্ষী বালক ও বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, গির্জা, বড় গাছের নিচে পরিপাটি গলি, আর মাঠের কিনারে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমি। বেশিরভাগ দর্শনার্থী রাত কাটান এখানকার ওয়াইএমসিএ আর ওয়াইডব্লিউসিএ গেস্ট হাউসে, আর বাসস্ট্যান্ডের কারণে গ্রামের নামটা সারা দেশে পরিচিত।

বিরিশিরি থেকে সবই কাছে। নদী কয়েক মিনিটের হাঁটা, শুকনো মাসে নুড়ির ওপর চওড়া আর অগভীর, বুক দিয়ে বিজয়পুরের দিকে বালুর রাস্তা; সাদা মাটির পাহাড়, টিলার ওপরের রানীখং মিশন আর দুর্গাপুরের সোমেশ্বর পাঠকের রাজবাড়ি প্রতিটি অল্প মোটরসাইকেল পথ। সাগর দিঘি আর কমলা রানীর দিঘি গ্রাম আর পাহাড়ের মাঝে।

সকালে হাঁটার জায়গা, যখন নদীর পেছনে গারো পাহাড় দেখা যায়, আর দিনের শেষে পানির ধারে বসার।

যাওয়ার পথ: মহাখালী থেকে বাসে দুর্গাপুর, বা ট্রেনে নেত্রকোণা হয়ে শেষ ৪০ কিলোমিটার বাস বা সিএনজিতে; দুর্গাপুর বাজার থেকে বালুর পথে অটোতে সোমেশ্বরী পার, বর্ষায় নৌকায়।

যা করতে পারেন

  • ভোরে সোমেশ্বরীতে হাঁটুন, পানির পেছনে গারো পাহাড় দেখুন।
  • মোটরসাইকেল ভাড়া করে এক চক্করে বিজয়পুর, রানীখং, রাজবাড়ি আর দিঘিগুলো।
  • কালচারাল একাডেমি দেখুন, পরের অনুষ্ঠান কবে জিজ্ঞেস করুন।

জেনে রাখা ভালো

  • শীতের সপ্তাহান্তে ওয়াইএমসিএ বা ওয়াইডব্লিউসিএ আগে বুক করুন; দল এসে ভরে যায়।
  • এটা ঘরবাড়ি আর গির্জার গ্রাম: মানুষের ছবি তোলার আগে জিজ্ঞেস করুন, শালীন পোশাক পরুন।
  • মেঘালয়ে বৃষ্টি হলে নদী দ্রুত বাড়ে; বর্ষায় ওপারে দিন কাটানোর আগে পারাপারের খবর নিন।

কীভাবে যাবেন

নেত্রকোণা গাইড পড়ুন

কাছাকাছি

জাদুঘরBhoboghure · CC BY 4.0

ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমি, বিরিশিরি

০ কিমি, নেত্রকোণা

বৃহত্তর ময়মনসিংহের গারো, হাজং, কোচ, বানাই, ডালু ও মান্দিদের ভাষা, পোশাক, গান আর নাচ বাঁচিয়ে রাখতে ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠিত সরকারি একাডেমি; ছোট জাদুঘর, লাইব্রেরি আর তাঁদের উৎসবের মঞ্চ।

পাহাড়কুপি বাতি · CC BY-SA 4.0

বিজয়পুরের সাদা মাটির পাহাড়

১ কিমি, নেত্রকোণা

বিজয়পুরে সীমান্তের নিচু সাদা চীনামাটির পাহাড়, ১৯৫০-এর দশক থেকে দেশের সিরামিকের জন্য খোঁড়া; পুরোনো কাটা জায়গায় সাদা আর গোলাপি খাড়া পাড়ের নিচে নীলচে-সবুজ পানির জলা।

নদী, হ্রদ ও হাওরSaimon Chandra Shil · CC BY-SA 4.0

সোমেশ্বরী নদী

২ কিমি, নেত্রকোণা

গারো পাহাড় থেকে রানীখং আর দুর্গাপুর ছুঁয়ে নেমে আসা নদী: শীতে নুড়ি আর বালুর ওপর স্বচ্ছ পানি, বর্ষায় খরস্রোত, নৌকা, কয়লা আর বালু তোলার মানুষ, আর পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা পাহাড়।

দুর্গ ও জমিদারবাড়িSalim Khandoker · CC BY-SA 4.0

সুসং দুর্গাপুর রাজবাড়ি

২ কিমি, নেত্রকোণা

সুসং রাজাদের বাসস্থান, সোমেশ্বর পাঠকের বংশধর, যাঁরা ১২৮০ থেকে জমিদারি শেষ পর্যন্ত এই কোণ শাসন করেছেন; ১৮৯৭-এর ভূমিকম্পের পর নতুন করে গড়া, এখন চারটি ক্ষয়ে যাওয়া বাড়ি, একটিতে ম্যাজিস্ট্রেটের বাসভবন।

গির্জা

রানীখং মিশন

৮ কিমি, নেত্রকোণা

সোমেশ্বরী যেখানে বাংলাদেশে ঢুকেছে, তার ওপরের রানীখং টিলায় সাধু যোসেফের ক্যাথলিক ধর্মপল্লী: এ অঞ্চলের প্রথম গারো মিশন, ১৯১৫ থেকে এই টিলায়, গির্জার নিচে নদী আর পাহাড়।

স্মৃতিস্তম্ভ ও স্মৃতিসৌধ

সাত শহীদের মাজার, লেঙ্গুরা

১৪ কিমি, নেত্রকোণা

১৯৭১-এর ২৬ জুলাই নাজিরপুরে শহীদ সাত মুক্তিযোদ্ধার কবর, কলমাকান্দায় পাহাড়ের পাদদেশে লেঙ্গুরার ফুলবাড়িতে; সীমান্ত সড়কে স্মৃতিসৌধ।

অবস্থান

বিরিশিরি, নেত্রকোণা

সংশোধন জানান

সময়, ভাড়া আর খোলার সময় বদলায়। যাওয়ার আগে একবার যাচাই করে নিন।

গিয়েছেন? অ্যাপে চিহ্নিত করুন।

আপনার ঘুরে আসা জায়গা আর জেলা মানচিত্রে ভরে ওঠে, ব্যাজ অর্জন হয়, আর অফলাইনেও আপনার সঙ্গে থাকে।