জেলা গাইড

নেত্রকোণাNetrokona

ময়মনসিংহ বিভাগ

৮

জায়গা

নভে–ফেব্রু

সেরা মাস

নেত্রকোণা পর্যন্ত প্রায় ৫ ঘণ্টা

ঢাকা থেকে

যার জন্য পরিচিত

  1. ১

    সুসং দুর্গাপুর।

    জেলার উত্তরটা নিজের মতো একটা ছোট জগৎ: বালু আর নুড়ির বিছানার ওপর দিয়ে গারো পাহাড় থেকে বেরিয়ে আসা সোমেশ্বরী, নীলচে-সবুজ জলাসহ বিজয়পুরের সাদা মাটির পাহাড়, বিরিশিরির গারো আর হাজং গ্রাম, এক রাজবাড়ি আর টিলার ওপর এক মিশন। নেত্রকোণায় যাঁরা আসেন, বেশিরভাগ এর জন্যই।

  2. ২

    বর্ষায় হাওর।

    জুন থেকে অক্টোবর জেলার দক্ষিণ-পূর্ব পানির নিচে চলে যায়: ডিঙ্গাপোতা আর মোহনগঞ্জ, খালিয়াজুরী, মদনের হাওর হয়ে ওঠে দ্বীপের মতো গ্রামসহ এক ভেতরের সমুদ্র, পার হওয়ার উপায় শুধু নৌকা। শীতে সেই জমিই দিগন্ত পর্যন্ত ধানখেত।

  3. ৩

    সাতশ বছরের এক রাজ্য।

    প্রচলিত মতে ১২৮০ সালে সোমেশ্বর পাঠক নামে এক ব্রাহ্মণ গারো রাজা বৈশ্যকে হারিয়ে সুসং রাজ্য গড়েন, যা তাঁর বংশধররা রাজা আর পরে জমিদার হিসেবে ১৯৫০ পর্যন্ত শাসন করেন। নদী আর দুর্গাপুরের রাজবাড়ি তাঁর নাম বহন করে।

  4. ৪

    গারো, হাজং আর টঙ্ক আন্দোলন।

    দুর্গাপুর আর কলমাকান্দা ঘিরে গারো, হাজং, কোচ আর বানাইদের বাস; ১৯৪০-এর দশকে কমরেড মণি সিংহের নেতৃত্বে ফসলে খাজনার বিরুদ্ধে হাজং কৃষকদের টঙ্ক আন্দোলন প্রতি ডিসেম্বরে মণি সিংহ মেলায় স্মরণ করা হয়, আর বিরিশিরির কালচারাল একাডেমি ভাষা আর নাচ বাঁচিয়ে রাখে।

  5. ৫

    বেতাই নদীর ধারে পুরোনো দুর্গ।

    কেন্দুয়ার রোয়াইলবাড়িতে সুলতানি আমলের দুর্গের ছাদহীন ইটের ইমারত, ১৯৯০-এর দশকে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের খননে বেরোনো, জেলার একমাত্র আসল ধ্বংসাবশেষ।

  6. ৬

    বালিশ মিষ্টি।

    নেত্রকোণার বালিশ, মুঠোর মতো বড় ছানার মিষ্টি রসে ভিজিয়ে ওপরে ক্ষীর, শহরে একশ বছরের বেশি ধরে তৈরি আর ২০২৫ থেকে জিআই পণ্য।

সেরা মৌসুম

জানু
ফেব্রু
মার্চ
এপ্রি
মে
জুন
জুলা
আগ
সেপ্টে
অক্টো
নভে
ডিসে

ভালোমোটামুটিনভে–ফেব্রু

  • মণি সিংহ মেলা ডিসেম্বরের শুরুতে এক সপ্তাহ, দুর্গাপুরে, টঙ্ক আন্দোলনের স্মরণে
  • ওয়ানগালা গারোদের নবান্ন উৎসব, শরতে দুর্গাপুর ও কলমাকান্দার গ্রামে
  • চৈত্রসংক্রান্তির মেলা বাংলা বছরের শেষ দিন, মাঝ এপ্রিল, দুর্গাপুরে

দুর্গাপুরের জন্য নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি: সোমেশ্বরী তখন কম আর স্বচ্ছ, নদীর বুক দিয়ে বালুর রাস্তা খোলা, সাদা মাটির পাহাড় আর তার জলা সবচেয়ে উজ্জ্বল, আর পেছনের গারো পাহাড় সকালে স্পষ্ট। ডিসেম্বরের শুরুতে মণি সিংহ মেলা এক সপ্তাহ দুর্গাপুর ভরিয়ে রাখে।

হাওরের জন্য জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর: ডিঙ্গাপোতা আর মোহনগঞ্জের হাওর তখন সবচেয়ে বিস্তৃত, আর নৌকাভ্রমণ কেবল তখনই সম্ভব। গরম আর ভেজা, খোলা পানিতে ঝড় হঠাৎ ওঠে।

বর্ষা উত্তরের জন্য কঠিন: মেঘালয়ে বৃষ্টি হলে সোমেশ্বরী ঘণ্টায় ফুলে ওঠে, পারাপার ভাসিয়ে নেয়, কখনো দুর্গাপুরের গলিও; তাই উছলে ওঠা নদী দেখতে না এলে জুন থেকে সেপ্টেম্বর পাহাড় এড়িয়ে চলুন।

কীভাবে যাবেন

ট্রেন

ঢাকা থেকে

নেত্রকোণা পর্যন্ত প্রায় ৫ ঘণ্টা

কমলাপুর থেকে হাওর এক্সপ্রেস বা মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস, হাওরের জন্য মোহনগঞ্জ পর্যন্ত।

বাস

ঢাকা থেকে

দুর্গাপুর পর্যন্ত ৫–৬ ঘণ্টা

মহাখালী থেকে নেত্রকোণা শহর, বা ময়মনসিংহ ও শ্যামগঞ্জ হয়ে সরাসরি দুর্গাপুর; এক দিনের ভ্রমণে রাতের কোচ।

ঘুরে বেড়ানো

দুর্গাপুর থেকে দর্শনীয় স্থানে

বালুর পথে বা নৌকায় সোমেশ্বরী পার হোন; বিজয়পুর, রানীখং আর রাজবাড়ির জন্য সারাদিন মোটরসাইকেল বা অটো ভাড়া করুন।

ট্রেনে হাওর এক্সপ্রেস আর মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ঢাকার কমলাপুর থেকে নেত্রকোণা শহর হয়ে মোহনগঞ্জ যায়, নেত্রকোণা পর্যন্ত প্রায় পাঁচ ঘণ্টা; হাওরের জন্য রেলের শেষ মাথা মোহনগঞ্জ।

বাসে ঢাকার মহাখালী থেকে নেত্রকোণা শহরের বাস, আর আলাদা করে ময়মনসিংহ ও শ্যামগঞ্জ হয়ে দুর্গাপুরের বাস; দুর্গাপুর প্রায় ১৮০ কিলোমিটার, পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা, এক দিনের ভ্রমণে রাতের কোচই চল। নেত্রকোণা শহর থেকে দুর্গাপুর (প্রায় ৪০ কিলোমিটার), কলমাকান্দা, কেন্দুয়া আর মোহনগঞ্জে বাস ও সিএনজি।

দুর্গাপুরে ঘোরা: বিরিশিরি দুর্গাপুর বাজারের ওপারে, সোমেশ্বরী পেরিয়ে। শুকনো মৌসুমে অটো আর মোটরসাইকেল নদীর বুকের বালুর পথে পার হয়, বর্ষায় নৌকায়; বিজয়পুর, রানীখং, রাজবাড়ি আর দিঘিগুলো এক চক্করে ঘুরতে সারাদিনের জন্য মোটরসাইকেল বা অটো ভাড়া করা হয়।

স্থানীয় খাবার

  • বালিশ মিষ্টিঅবশ্যই চেখে দেখুন

    নেত্রকোণা শহরের বালিশ মিষ্টি, ওপরে ক্ষীর; ২০২৫ থেকে জিআই পণ্য।

  • হাওরের মাছ ও শুঁটকি

    বর্ষায় হাওর থেকে টাটকা, শীতে শুকনো, মোহনগঞ্জ ও খালিয়াজুরীতে।

বালিশ মিষ্টি নেত্রকোণার নিজস্ব: ছানার বড় লম্বাটে মিষ্টি ভেজে রসে ভিজিয়ে ওপরে ঘন ক্ষীর। একশ বছরের বেশি আগে নেত্রকোণা শহরে গয়ানাথ ঘোষ প্রথম বানান, দোকান হাতবদল হয়ে যে পরিবার এখনো চালায় তাদের কাছে আসে; ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে জিআই স্বীকৃতি পায়। শহরের পুরোনো মিষ্টির দোকানে পিস হিসেবে কিনুন।

হাওরের মাছ অন্যটা: মোহনগঞ্জ আর খালিয়াজুরীতে পানি থেকে সরাসরি মিঠা পানির মাছ, আর শুকনো মাসে শুঁটকি।

দুর্গাপুরে বাজারের আশপাশের হোটেলে ভাত, মাছ, ডাল; বিরিশিরিতে ছোট দু-একটা খাবারের জায়গা, আর ওয়াইএমসিএ ও ওয়াইডব্লিউসিএ গেস্ট হাউস অতিথিদের জন্য রান্না করে। গারো ঘরে চালের মদ আর বাঁশের কোঁড়লের রান্না হয়, গ্রামে আপ্যায়নে পেতে পারেন, রেস্তোরাঁয় পাবেন না।

দেখার মতো জায়গা

পাহাড়কুপি বাতি · CC BY-SA 4.0

বিজয়পুরের সাদা মাটির পাহাড়

বিজয়পুরে সীমান্তের নিচু সাদা চীনামাটির পাহাড়, ১৯৫০-এর দশক থেকে দেশের সিরামিকের জন্য খোঁড়া; পুরোনো কাটা জায়গায় সাদা আর গোলাপি খাড়া পাড়ের নিচে নীলচে-সবুজ পানির জলা।

গ্রাম ও জনপদEsha795 · CC BY-SA 3.0

বিরিশিরি

দুর্গাপুর বাজারের ওপারে সোমেশ্বরী পেরিয়ে যে গ্রামের নামে ভ্রমণকারীরা পুরো এলাকাটাকে চেনে: গারো আর হাজং বাড়ি, ব্রিটিশ আমলের মিশন স্কুল, কালচারাল একাডেমি, আর নদী, সাদা মাটির পাহাড় ও রানীখং ঘোরার ঘাঁটি।

জাদুঘরBhoboghure · CC BY 4.0

ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমি, বিরিশিরি

বৃহত্তর ময়মনসিংহের গারো, হাজং, কোচ, বানাই, ডালু ও মান্দিদের ভাষা, পোশাক, গান আর নাচ বাঁচিয়ে রাখতে ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠিত সরকারি একাডেমি; ছোট জাদুঘর, লাইব্রেরি আর তাঁদের উৎসবের মঞ্চ।

গির্জা

রানীখং মিশন

সোমেশ্বরী যেখানে বাংলাদেশে ঢুকেছে, তার ওপরের রানীখং টিলায় সাধু যোসেফের ক্যাথলিক ধর্মপল্লী: এ অঞ্চলের প্রথম গারো মিশন, ১৯১৫ থেকে এই টিলায়, গির্জার নিচে নদী আর পাহাড়।

প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানAnup Sadi · CC BY-SA 4.0

রোয়াইলবাড়ি দুর্গ

কেন্দুয়ায় বেতাই নদীর তীরে সুলতানি আমলের দুর্গের ছাদহীন ইটের ইমারত আর ঢিবি, কোটবাড়ি নামেও পরিচিত; ১৯৮০-র দশকে পাওয়া, ১৯৮৭-তে সংরক্ষিত, ১৯৯১–৯৩-এ খনন, নেত্রকোণার একমাত্র প্রত্নস্থল।

স্মৃতিস্তম্ভ ও স্মৃতিসৌধ

সাত শহীদের মাজার, লেঙ্গুরা

১৯৭১-এর ২৬ জুলাই নাজিরপুরে শহীদ সাত মুক্তিযোদ্ধার কবর, কলমাকান্দায় পাহাড়ের পাদদেশে লেঙ্গুরার ফুলবাড়িতে; সীমান্ত সড়কে স্মৃতিসৌধ।

নদী, হ্রদ ও হাওরSaimon Chandra Shil · CC BY-SA 4.0

সোমেশ্বরী নদী

গারো পাহাড় থেকে রানীখং আর দুর্গাপুর ছুঁয়ে নেমে আসা নদী: শীতে নুড়ি আর বালুর ওপর স্বচ্ছ পানি, বর্ষায় খরস্রোত, নৌকা, কয়লা আর বালু তোলার মানুষ, আর পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা পাহাড়।

দুর্গ ও জমিদারবাড়িSalim Khandoker · CC BY-SA 4.0

সুসং দুর্গাপুর রাজবাড়ি

সুসং রাজাদের বাসস্থান, সোমেশ্বর পাঠকের বংশধর, যাঁরা ১২৮০ থেকে জমিদারি শেষ পর্যন্ত এই কোণ শাসন করেছেন; ১৮৯৭-এর ভূমিকম্পের পর নতুন করে গড়া, এখন চারটি ক্ষয়ে যাওয়া বাড়ি, একটিতে ম্যাজিস্ট্রেটের বাসভবন।

সূত্র 13

সংশোধন জানান

সময়, ভাড়া আর খোলার সময় বদলায়। যাওয়ার আগে একবার যাচাই করে নিন।

এই গাইডটি অফলাইনে নিয়ে যান।

একই গাইড, প্রতিটি জায়গা আর ছবি, ইন্টারনেট ছাড়াই আপনার ফোনে। পৌঁছে জেলাটি চিহ্নিত করুন।