Md Shehab Hossan · CC BY-SA 4.0২টির ১

দুর্গ ও জমিদারবাড়ি, মাগুরা

রাজা সীতারাম রায়ের প্রাসাদ-দুর্গRaja Sitaram Ray's Palace-Fort

সময় লাগে
প্রায় দেড় ঘণ্টা।
সেরা মাস
নভে–ফেব্রু

মুঘলদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো জমিদারের রাজধানীর ধ্বংসাবশেষ, মহম্মদপুরে: প্রাসাদ, শিবমন্দির, দশভুজা মন্দিরের ভিটা আর তলা পর্যন্ত ইটে বাঁধানো পুকুর।

এক নজরে

রাজধানী
১৬৯৭–৯৮
দুর্গ
চৌকো, প্রতি বাহু অন্তত ৪০০ মিটার, পরিখাঘেরা
দশভুজা মন্দির
১৬৯৯, শিলালিপি অনুযায়ী; সামান্য অবশিষ্ট
রক্ষণাবেক্ষণ
প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর

সম্পর্কে

সীতারাম রায় (১৬৫৮–১৭১৪) মুঘল রাজস্ব কর্মকর্তার পরিবার থেকে উঠে প্রথমে জমিদার, পরে ১৬৮৭–৮৮ সাল থেকে রাজা হন; নদীপথ থেকে মগ আর পর্তুগিজ দস্যুদের তাড়িয়েছিলেন। ১৬৯৭–৯৮ সালে তিনি মহম্মদপুরে রাজধানী গড়েন: চৌকো দুর্গ, প্রতিটি বাহু অন্তত ৪০০ মিটার, চারপাশে চওড়া পরিখা, যাকে এখানকার মানুষ আজও বলেন গড়; তিন দিকে বিল, এক দিকে মধুমতী। ভেতরে ছিল সেনাছাউনি, মন্দির আর জলাশয়। জনশ্রুতি আছে, এখানে তাঁর ঘোড়ার পা মাটিতে আটকে যায়, খুঁড়তেই মেলে লক্ষ্মীনারায়ণের মূর্তি, আর সেই শুভ লক্ষণেই জায়গাটি বেছে নেন। রাজস্ব দেওয়া বন্ধ করলে নবাবের বাহিনী তাঁকে পরাজিত করে, তাঁর রাজ্য ভাগ হয়ে যায় নাটোর, চাঁচড়া আর নলডাঙ্গার জমিদারদের মধ্যে। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তাঁর কাহিনি লিখেছেন উপন্যাস সীতারাম-এ।

আজ যা দেখবেন: প্রাসাদের এক অংশ প্রায় পুরোটাই ধসে গেছে, আর যে অংশ দাঁড়িয়ে আছে, সেটিও মাটিতে অনেকখানি দেবে গেছে। সামনের শিবমন্দিরটি অক্ষত। প্রাসাদের পূর্বে, লক্ষ্মীনারায়ণের পুকুরের পাড়ে, দশভুজা মন্দিরের সামান্যই অবশিষ্ট; সেখানে পাওয়া শিলালিপি অনুযায়ী এটি ১৬৯৯ সালের। সবচেয়ে বিস্ময়কর পুকুরটি নিজেই: উত্তর-দক্ষিণে লম্বা, পাড় ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত ইটে বাঁধানো, এমনকি তলাও পাকা; তলার সাত-আটটি কুয়া দিয়ে পানি উঠে পুকুর ভরা থাকে। দেয়াল দুই ধাপে উঠেছে, গায়ে সারি সারি কুলুঙ্গি, সীতারামের আমলে যেখানে প্রদীপ জ্বলত। আশপাশের অনেক জমি বেদখল হয়েছে, তবে স্থানটির দেখভাল এখন প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের।

যাওয়ার পথ: মাগুরা শহর থেকে প্রায় ২৮ কিলোমিটার। বাসে মহম্মদপুর; বাসস্ট্যান্ড থেকে আধা কিলোমিটারের মতো উত্তরে পাকা রাস্তার পাশে রাজবাড়ি, হেঁটে বা রিকশা-ভ্যানে যাওয়া যায়।

যা করতে পারেন

  • প্রাসাদের ধ্বংসাবশেষ আর সামনের অক্ষত শিবমন্দির দেখুন।
  • লক্ষ্মীনারায়ণের পুকুর ঘুরে দেখুন, দেয়ালের প্রদীপের কুলুঙ্গি খুঁজুন।
  • দুর্গ ঘিরে পুরোনো পরিখা, *গড়*, খুঁজে দেখুন।

জেনে রাখা ভালো

  • ধ্বংসাবশেষের চারপাশে মানুষের বসতি আর চাষ: পথ ধরে চলুন, কারও উঠানে ঢোকার আগে অনুমতি নিন।
  • দেবে যাওয়া ও ভাঙা দেয়াল বিপজ্জনক হতে পারে: ওপরে উঠবেন না।

কীভাবে যাবেন

মাগুরা গাইড পড়ুন

কাছাকাছি

গ্রাম ও জনপদ

বাবুখালীর ঘোড়দৌড় ও মেলা

১১ কিমি, মাগুরা

মহম্মদপুরের বাবুখালীতে আনুমানিক ১৮৯৮ সাল থেকে ১৬ মাঘ অনুষ্ঠিত ঘোড়দৌড়, ঘিরে তিন দিনের মেলা, জারি আর সারি গান।

প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানRakibul Islam Biswas · CC BY-SA 4.0

মথুরাপুর দেউল

১৮ কিমি, ফরিদপুর

মধুখালীর মথুরাপুরে পোড়ামাটির কাজে ঢাকা উঁচু বহুকোণ ইটের চূড়া, ষোড়শ বা সপ্তদশ শতকে নির্মিত; সংরক্ষিত পুরাকীর্তি।

শহর ও ল্যান্ডমার্কFarabi Al Russell · CC BY-SA 4.0

মাগুরা শহর ও নবগঙ্গা

২০ কিমি, মাগুরা

নবগঙ্গার তীরে জেলা শহর: নদীর পাড়, নদীঘেঁষা আশ্রম ও মঠ, কাছেই আঠারো শতকের শিবমন্দির, আর নভেম্বরে কাত্যায়নী পূজার আলোকিত মণ্ডপ।

মন্দির

নলিয়া জোড় বাংলা মন্দির

২৩ কিমি, রাজবাড়ী

বালিয়াকান্দির নলিয়ায় পাশাপাশি দুটি মন্দির, ১৬৫৫ সালে রাজা সীতারাম রায় প্রতিষ্ঠা করেন; একটির চূড়া আছে, অন্যটির নেই।

বৌদ্ধ বিহার ও প্যাগোডা

ভাতের ভিটা বৌদ্ধবিহার

২৩ কিমি, মাগুরা

ফটকী নদীর পাড়ে টিলা গ্রামের ঢিবি, কিংবদন্তিতে যার নাম ভাতের ভিটা; খননে বেরিয়েছে মৌর্য থেকে গুপ্ত যুগের মধ্যকার এক বৌদ্ধবিহার।

মন্দির

আঠারখাদার সিদ্ধেশ্বরী মঠ

২৩ কিমি, মাগুরা

মাগুরা শহর থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার দূরে আঠারখাদায় নবগঙ্গার তীরে একটি মঠ, যে জায়গা একসময় কালিকাতলা শ্মশান নামে পরিচিত ছিল।

অবস্থান

রাজা সীতারাম রায়ের প্রাসাদ-দুর্গ, মাগুরা

সংশোধন জানান

সময়, ভাড়া আর খোলার সময় বদলায়। যাওয়ার আগে একবার যাচাই করে নিন।

গিয়েছেন? অ্যাপে চিহ্নিত করুন।

আপনার ঘুরে আসা জায়গা আর জেলা মানচিত্রে ভরে ওঠে, ব্যাজ অর্জন হয়, আর অফলাইনেও আপনার সঙ্গে থাকে।