প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান, মাগুরা

শতখালীর চণ্ডীদাস ও রজকিনীর ঘাটChandidas and Rajakini's Ghat, Shatakhali

সময় লাগে
প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা।
সেরা মাস
নভে–ফেব্রু

স্থানীয় ঐতিহ্যে কবি চণ্ডীদাস আর রজকিনীর বসতভিটা: যে দহে তিনি মাছ ধরতেন, আর তার ওপারে ধোপাখালী, যেখানে মেলে পুরোনো মৃৎপাত্রের টুকরো।

এক নজরে

অবস্থান
শতখালী গ্রাম, শালিখা
মাগুরা থেকে
প্রায় ২২ কিলোমিটার

সম্পর্কে

মধ্যযুগের কবি চণ্ডীদাস আর ধোপার মেয়ে রজকিনীর প্রেম বাংলার সবচেয়ে প্রিয় কাহিনিগুলোর একটি। কবিকে নিয়ে একাধিক স্থানের দাবি আছে; ইতিহাসবিদেরা ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’-এর রচয়িতাকে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূমের নানুরের মানুষ বলে মনে করেন। শালিখার শতখালী ধরে রেখেছে নিজস্ব ঐতিহ্য, আর তা বেশ জীবন্ত।

এখানকার মানুষ আপনাকে দেখাবেন সেই দহ, যেখানে চণ্ডীদাস বড়শি দিয়ে মাছ ধরতেন বলে কথিত। এক পাড়ে বাস করেন এমন পরিবার, যাঁরা নিজেদের তাঁর বংশধর বলে মনে করেন। অন্য পাড়ের নাম ধোপাখালী পাড়া, রজকিনীর ধোপা পরিবারের নামে; সেখানকার মাটিতে আজও খুব পুরোনো মৃৎপাত্রের টুকরো মেলে। গল্প আর জলের টানে আসুন, আর টুকরোগুলো যেখানে আছে, সেখানেই রেখে যান।

যাওয়ার পথ: মাগুরা শহর থেকে প্রায় ২২ কিলোমিটার, শালিখার শতখালী ইউনিয়নে: শালিখার দিকে বাস, তারপর ভ্যানে শতখালী।

যা করতে পারেন

  • যে দহে চণ্ডীদাস মাছ ধরতেন বলে কথিত, সেটি দেখুন।
  • ধোপাখালী পাড়ায় গিয়ে গ্রামবাসীর মুখে কাহিনিটি শুনুন।

জেনে রাখা ভালো

  • মৃৎপাত্রের টুকরো স্থানটিরই অংশ: কিছু নেবেন না।
  • বৃষ্টির পর পাড় পিচ্ছিল থাকতে পারে।

কীভাবে যাবেন

মাগুরা গাইড পড়ুন

কাছাকাছি

মসজিদ ও মাজার

গোপালগ্রাম শাহি মসজিদ

৩ কিমি, মাগুরা

শালিখার গোপালগ্রামে মুঘল রীতির মসজিদ, টালি ইট আর মাটি-সুরকিতে গড়া, গায়ে ফুলের নকশা; এখনকার নাম বাইতুন নূর জামে মসজিদ, আজও নিয়মিত নামাজ হয়।

মন্দির

তালখড়ির গোপাল জিউ (রাধাকৃষ্ণ) মন্দির

৫ কিমি, মাগুরা

তালখড়ির সংরক্ষিত মন্দির, সাধক লোকনাথের জন্মস্থান হিসেবে স্মরণীয়; ১৯৭১-এ ক্ষতিগ্রস্ত, পরে সংস্কার করা, উৎসবে আজও পূজা হয়।

দুর্গ ও জমিদারবাড়িBhoboghure · CC BY 4.0

ছান্দড়া জমিদার বাড়ি

৫ কিমি, মাগুরা

শালিখায় ছান্দড়া জমিদার বাড়ির ধ্বংসাবশেষ, যেখান থেকে এ এলাকার খাজনা আদায় আর শাসন চলত; সীমাখালী বাজার থেকে ভ্যানে যেতে হয়।

বৌদ্ধ বিহার ও প্যাগোডা

ভাতের ভিটা বৌদ্ধবিহার

৬ কিমি, মাগুরা

ফটকী নদীর পাড়ে টিলা গ্রামের ঢিবি, কিংবদন্তিতে যার নাম ভাতের ভিটা; খননে বেরিয়েছে মৌর্য থেকে গুপ্ত যুগের মধ্যকার এক বৌদ্ধবিহার।

পার্ক ও পিকনিক স্পট

মল্লিকপুরের বটগাছ

১৫ কিমি, ঝিনাইদহ

কালীগঞ্জের কাছে একটি বটগাছ, যার ঝুরি নেমে নেমে কয়েক একর জুড়ে বন হয়ে গেছে; প্রায়ই এশিয়ার অন্যতম বড় বটগাছ বলা হয়।

স্মৃতিস্তম্ভ ও স্মৃতিসৌধ

পীর মোকাররম আলী শাহের দরগাহ ও হাজরাপুর নীলকুঠি

১৭ কিমি, মাগুরা

মাগুরা থেকে ৭ কিলোমিটার পশ্চিমে ইছাখাদায় নবগঙ্গার তীরে সুফি দরগাহ, পাশেই হাজরাপুরের নীলকুঠি, যাকে ঘিরে ১৮৫৬–৬০ সালের নীল বিদ্রোহ হয়েছিল।

অবস্থান

শতখালীর চণ্ডীদাস ও রজকিনীর ঘাট, মাগুরা

সংশোধন জানান

সময়, ভাড়া আর খোলার সময় বদলায়। যাওয়ার আগে একবার যাচাই করে নিন।

গিয়েছেন? অ্যাপে চিহ্নিত করুন।

আপনার ঘুরে আসা জায়গা আর জেলা মানচিত্রে ভরে ওঠে, ব্যাজ অর্জন হয়, আর অফলাইনেও আপনার সঙ্গে থাকে।