যার জন্য পরিচিত
- ১
লালনের দেশ।
বাউল সাধক লালন শাহ এই কুষ্টিয়াতেই থেকেছেন, শিষ্যদের শিখিয়েছেন, আর শহরের কিনারে ছেউড়িয়ায় সমাহিত হয়েছেন। বছরে দুবার, দোলপূর্ণিমায় আর ১৮৯০ সালে তাঁর প্রয়াণ স্মরণে অক্টোবরের সমাবেশে, তাঁর আখড়া গায়ক আর ভক্তে ভরে ওঠে; প্রায় প্রতি সন্ধ্যাতেও সেখানে কেউ না কেউ তাঁর গান গাইছেন।
- ২
পদ্মাপারের রবীন্দ্রনাথ।
উনিশ শতকের নব্বইয়ের দশকে শিলাইদহের কুঠিবাড়ি থেকে রবীন্দ্রনাথ পারিবারিক জমিদারি দেখতেন, আর সেখানেই তাঁর অনেক শ্রেষ্ঠ লেখা। শহরে আজও আছে তাঁর ব্যবসার দপ্তর টেগর লজ। এর সঙ্গে লাহিনীপাড়ায় মীর মশাররফ হোসেনের বাড়ি আর ভেড়ামারায় পুরোনো হার্ডিঞ্জ রেলসেতু যোগ করলে সাহিত্য আর ব্রিটিশ আমলের একটি পূর্ণ সপ্তাহান্ত।
সেরা মৌসুম
ভালোমোটামুটিনভে–ফেব্রু
- লালন আখড়ায় দোলপূর্ণিমার সমাবেশ দোলপূর্ণিমা, ফেব্রুয়ারি বা মার্চ
- লালনের তিরোধান দিবস অক্টোবরের মাঝামাঝি, ১৭ অক্টোবরের কাছাকাছি (১ কার্তিক)
নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি শুকনো আর আরামদায়ক, শিলাইদহের পদ্মাপার আর লম্বা ঘোরাঘুরির সেরা সময়। গান তার পূর্ণ রূপে শুনতে চাইলে লালনের আখড়ায় যান দোলপূর্ণিমায় (ফেব্রুয়ারি বা মার্চ) কিংবা অক্টোবরের তিরোধান দিবসের সমাবেশে; দুটির জন্যই আগে থেকে থাকার জায়গা ঠিক করুন। এপ্রিল থেকে জুন খুব গরম; বর্ষায় পদ্মা আর গড়াই ভরে ওঠে।
কীভাবে যাবেন
বাস
ঢাকা
পদ্মা সেতু বা পাটুরিয়া হয়ে; কয়েকটি কোম্পানি
ট্রেন
ঢাকা
পশ্চিমাঞ্চলের পথে কুষ্টিয়া কোর্ট, পোড়াদহ বা ভেড়ামারা
ঘুরে বেড়ানো
কুষ্টিয়া শহর
ইজিবাইকে ছেউড়িয়া; সিএনজিতে শিলাইদহ আর ভেড়ামারা
ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু বা পাটুরিয়া হয়ে কুষ্টিয়ার বাস চলে, পথভেদে দিনের বড় অংশ লাগে। পশ্চিমাঞ্চলের রেলপথে পোড়াদহ আর ভেড়ামারায় ট্রেন থামে, আর ঢাকা থেকে কুষ্টিয়া কোর্ট স্টেশনে সরাসরি ট্রেনও আছে। শহরে ও আশপাশে ইজিবাইক আর রিকশায় ছেউড়িয়া; শিলাইদহ উত্তরে সিএনজিতে অল্প পথ।
স্থানীয় খাবার
তিলের খাজাঅবশ্যই চেখে দেখুন
কুষ্টিয়ার নিজস্ব তিলে মোড়া স্তরের মিষ্টি
কুলফি মালাই
শহরে বিক্রি হওয়া ঘন জমানো দুধের মিষ্টি
কুষ্টিয়ার নাম তিলের খাজার জন্য, তিলে মোড়া মচমচে স্তরের মিষ্টি, আর শহরের কুলফি মালাইয়ের জন্য। পদ্মা আর গড়াইয়ের নদীর মাছ, বিশেষ করে শীতে, প্রতিদিনের খাবার।
দেখার মতো জায়গা
নদী, হ্রদ ও হাওরAnup Sadi · CC BY-SA 4.0গড়াই নদী
দক্ষিণ-পশ্চিমে পদ্মার প্রধান শাখানদী, কুষ্টিয়া শহরের ঠিক নিচে বড় নদী থেকে বেরিয়ে শহরের পাশ দিয়ে বয়ে চলে: সূর্যাস্তে নদীপারে সহজ হাঁটা।
স্মৃতিস্তম্ভ ও স্মৃতিসৌধAzim Khan Ronnie · CC BY-SA 4.0হার্ডিঞ্জ ব্রিজ ও লালন শাহ সেতু
ভেড়ামারা আর পাকশীর মাঝে পদ্মার ওপর ১.৮ কিলোমিটারের ইস্পাতের রেলসেতু, ১৯১৫ সালে চালু, পাশেই লালন শাহের নামে সড়কসেতু।
মসজিদ ও মাজারমোঃ সাকিবুল হাসান · CC BY-SA 4.0ঝাউদিয়া শাহী মসজিদ
কুষ্টিয়া শহরের দক্ষিণ-পশ্চিমে ঝাউদিয়া গ্রামে গম্বুজওয়ালা পুরোনো মসজিদ, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে সংরক্ষিত; প্রতি শুক্রবার দর্শনার্থী আর ছোট মেলায় জমজমাট।
স্মৃতিস্তম্ভ ও স্মৃতিসৌধMd. Saiful Aziz Shamseer · CC BY-SA 3.0লালন শাহের মাজার
কুষ্টিয়া শহরের কিনারে ছেউড়িয়ায় বাউল সাধক লালন শাহের মাজার আর আখড়া: বাংলাদেশের বাউল গানের প্রাণকেন্দ্র, দোলপূর্ণিমা আর অক্টোবরে গায়কে ভরা।
স্মৃতিস্তম্ভ ও স্মৃতিসৌধZaheed Sarwer Khan · CC BY 4.0মীর মশাররফ হোসেনের বাস্তুভিটা
‘বিষাদ সিন্ধু’র লেখক মীর মশাররফ হোসেনের পৈতৃক ভিটা, কুমারখালীর লাহিনীপাড়ায়, পাশে গড়া পাঠাগার আর মিলনায়তন।
দুর্গ ও জমিদারবাড়িArmanaziz · CC BY-SA 3.0শিলাইদহ কুঠিবাড়ি
কুষ্টিয়া থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার উত্তরে শিলাইদহে পদ্মার ধারে ঠাকুর পরিবারের জমিদারি বাড়ি, যেখানে নব্বইয়ের দশকে রবীন্দ্রনাথ থেকেছেন ও লিখেছেন: এখন বাগান আর পুকুরঘেরা জাদুঘর।
জাদুঘরNazmin Sultana Smrity · CC BY-SA 4.0টেগর লজ
কুষ্টিয়া শহরের মিলপাড়ায় দোতলা ছোট বাড়ি, ১৮৯৫ সালে রবীন্দ্রনাথের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান টেগর অ্যান্ড কোম্পানির দপ্তর হিসেবে গড়া; সংস্কার করে এখন জাদুঘর।
সময়, ভাড়া আর খোলার সময় বদলায়। যাওয়ার আগে একবার যাচাই করে নিন।
এই গাইডটি অফলাইনে নিয়ে যান।
একই গাইড, প্রতিটি জায়গা আর ছবি, ইন্টারনেট ছাড়াই আপনার ফোনে। পৌঁছে জেলাটি চিহ্নিত করুন।
