যার জন্য পরিচিত
- ১
সাজেকের প্রবেশদ্বার।
বেশিরভাগ মানুষ খাগড়াছড়ি পার হন সাজেক ভ্যালির পথে, যা রাঙ্গামাটি জেলায় হলেও যাওয়া যায় শুধু এখান থেকে: চাঁদের গাড়ি দিনে দুবার সেনা এসকর্টের বহরে খাগড়াছড়ি শহর ছাড়ে। এক রাত থাকুন, শহরের নিজের পাহাড় আছে।
- ২
গুহা, ঝরনা আর লেক।
পাহাড়ের ভেতর দিয়ে আলুটিলার অন্ধকার সুড়ঙ্গ, তার নিচে রিছাং ঝরনা, পাহাড়চূড়ায় দেবতা পুকুর, হর্টিকালচার পার্কের ঝুলন্ত সেতু আর পানছড়ির মায়াবিনী লেক: সব শহর থেকে এক ঘণ্টার মধ্যে, চেঙ্গী উপত্যকার ত্রিপুরা, মারমা আর চাকমা গ্রামে।
সেরা মৌসুম
ভালোমোটামুটিঅক্টো–মার্চ
- বৈসাবি (বিজু, সাংগ্রাই, বৈসু) ১২–১৫ এপ্রিল, পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর নববর্ষ: নদীতে ফুল, জলখেলা, খোলা ঘর
অক্টোবর থেকে মার্চ পাহাড়ের মৌসুম: পরিষ্কার সকাল, সাজেকে ঠান্ডা রাত, শুকনো পথ। ঝরনা সবচেয়ে ভরা বর্ষায় আর তার ঠিক পরে (জুলাই থেকে অক্টোবর), তবে রাস্তা পিচ্ছিল আর জোঁক বেরোয়। এপ্রিল পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর বৈসাবি নববর্ষ (১২ থেকে ১৫ এপ্রিল), জেলার উৎসব দেখার সেরা সময়। যাওয়ার আগে পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাবাহিনীর ভ্রমণ নির্দেশনা দেখে নিন; বিদেশিদের আগে থেকে অনুমতি লাগে।
কীভাবে যাবেন
বাস
ঢাকা
৮ ঘণ্টা, ৳৭০০–১,৫০০
রাতে; শ্যামলী, সেন্ট মার্টিন, হানিফ, ইকোনো
বাস
চট্টগ্রাম
৩–৪ ঘণ্টা
অক্সিজেন স্ট্যান্ড থেকে
ঘুরে বেড়ানো
সাজেকে
২.৫–৩ ঘণ্টা, জিপ আসা-যাওয়া ৳৮,০০০–১২,০০০
শাপলা চত্বর থেকে এসকর্টের বহর সকাল প্রায় ১০টা আর বেলা আড়াইটায়
ঢাকা থেকে সরাসরি বাস (শ্যামলী, সেন্ট মার্টিন, হানিফ, ইকোনো, রাতে প্রায় ৮ ঘণ্টা) আর চট্টগ্রামের অক্সিজেন স্ট্যান্ড থেকে (৩ থেকে ৪ ঘণ্টা) খাগড়াছড়ি শহরে। সাজেকের জন্য জিপের বহর শহরের শাপলা চত্বর থেকে সকাল প্রায় ১০টা আর বেলা আড়াইটায় সেনা এসকর্টে ছাড়ে; আগের দিন জিপ বুক করুন। আলুটিলা, রিছাং আর পার্ক সিএনজিপথ; পানছড়ি উত্তরে এক ঘণ্টা।
স্থানীয় খাবার
ব্যাম্বু চিকেনঅবশ্যই চেখে দেখুন
কয়লায় বাঁশের চোঙে রান্না মুরগি
বাঁশকোড়লঅবশ্যই চেখে দেখুন
কচি কোড়ল, বর্ষার পরে মৌসুমে
ব্যাম্বু চিকেন আর বাঁশকোড়লের তরকারি, নাপ্পি (গাঁজানো মাছের পেস্ট) দিয়ে চাকমা আর মারমা ধাঁচে রান্না শূকর আর মাছ, বাঁশে বিন্নি চাল, আর শহরের সিস্টেম রেস্তোরাঁ, যে পাহাড়ি খাবারকে বিখ্যাত করেছে। বাজারে জুমের চাল আর মৌসুমের ফল, আনারস আর কাঁঠাল।
দেখার মতো জায়গা
পাহাড়Srashed · Public domainআলুটিলা গুহা
শহর থেকে ৮ কিলোমিটার দূরে মাটিরাঙ্গার আলুটিলা পাহাড়ের ভেতর দিয়ে প্রায় ১০০ মিটারের প্রাকৃতিক সুড়ঙ্গ, টর্চ নিয়ে অন্ধকারে, গোড়ালি ডোবা ছড়ায় হেঁটে; ওপরের চূড়ায় জেলার সেরা ভিউপয়েন্ট।
নদী, হ্রদ ও হাওরMahjuja Islam · CC BY 4.0দেবতা পুকুর
মহালছড়ির নুনছড়িতে পাহাড়চূড়ায় "দেবতার পুকুর", প্রায় ৩০০ মিটার উঁচুতে কখনও না শুকানো প্রাকৃতিক জলাশয়, ত্রিপুরাদের কাছে পবিত্র, রাস্তা থেকে দুই কিলোমিটার চড়াই।
হাতিমাথা (হাতিমুড়া)
শহরের কিনারে পেরাছড়ায় হাতির মাথার মতো পাহাড়, প্রায় ৩০০ ধাপের লম্বা লোহার সিঁড়িতে ওঠা, গ্রামবাসীরা যাকে "স্বর্গের সিঁড়ি" বলে: পুরো উপত্যকার দৃশ্যের জন্য দুই ঘণ্টার হাঁটা।
পার্ক ও পিকনিক স্পটMoheen Reeyad · CC BY-SA 4.0খাগড়াছড়ি হর্টিকালচার পার্ক
শহর থেকে ৩ কিলোমিটার দূরে ঝুলনে পাহাড়ের গায়ে পার্বত্য জেলা পরিষদের পার্ক: ঝুলন্ত সেতুসহ লেক, ফলবাগান, ভিউপয়েন্ট আর ক্যাফে; খাগড়াছড়ির সহজ সন্ধ্যার বেড়ানো।
মায়াবিনী লেক
শহর থেকে ১৮ কিলোমিটার উত্তরে পানছড়ির ভাইবোনছড়ায় পাহাড়ের মাঝে ১৫ একরের লেক, গ্রামের মৎস্য সমবায়ের গড়া আর দর্শনার্থীর জন্য খোলা: পানির ওপর বাঁশের কটেজ, নৌকা আর চারদিকে পাহাড়।
ঝরনাANKAN GHOSH DASTIDER · CC BY-SA 4.0রিছাং ঝরনা
শহর থেকে ১১ কিলোমিটার, আলুটিলার নিচের পাহাড়ে মসৃণ পাথরের গা বেয়ে ৩০ মিটারের ঝরনা: খাড়া সিঁড়িতে নামা, নিচে কুণ্ড আর প্রাকৃতিক পাথরের স্লাইড, যা সবাই চেষ্টা করে।
বৌদ্ধ বিহার ও প্যাগোডাAumit22 · CC BY-SA 4.0পানছড়ি শান্তিপুর অরণ্য কুটির
জেলার উত্তরে পানছড়িতে বনের বিহার, গাছে ঢাকা পাহাড়ে দেশের সবচেয়ে উঁচু বুদ্ধমূর্তি (প্রায় ৫০ ফুট): ধ্যানের জায়গা, নীরব, বৌদ্ধ পুণ্যদিনে অনেকে আসেন।
তৈদুছড়া ঝরনা
দীঘিনালার পাহাড়ে এক ছড়ায় দুটি ঝরনা, দীঘিনালা বাজার থেকে জুমের খেত আর ছড়ার বুক ধরে দুই ঘণ্টার হাঁটায়: বড়টা পাথরের দেয়াল বেয়ে চওড়া পাখার মতো নামে; হাঁটিয়েদের জন্য পুরো দিন।
সময়, ভাড়া আর খোলার সময় বদলায়। যাওয়ার আগে একবার যাচাই করে নিন।
এই গাইডটি অফলাইনে নিয়ে যান।
একই গাইড, প্রতিটি জায়গা আর ছবি, ইন্টারনেট ছাড়াই আপনার ফোনে। পৌঁছে জেলাটি চিহ্নিত করুন।
