দ্বীপ, কক্সবাজার

সেন্ট মার্টিন দ্বীপSaint Martin's Island

সময় লাগে
লম্বা একটি দিন (জাহাজে প্রতি পথে প্রায় ৫ ঘণ্টা), বা ডিসেম্বর–জানুয়ারিতে এক বা একাধিক রাত।
সেরা মাস
ডিসে–জানু
খরচ
গত মৌসুমে জাহাজের আসা-যাওয়ার ভাড়া ছিল আসনে প্রায় ৳৩,৫০০ থেকে আলাদা কেবিনে প্রায় ৳২০,০০০ পর্যন্ত; অক্টোবরের শেষেও ২০২৬–২৭ মৌসুমের ভাড়া প্রকাশ হয়নি। এর সঙ্গে জনপ্রতি ৳১০০ পরিবেশ সংরক্ষণ ফি।

দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ আর সবচেয়ে দক্ষিণের জনবসতি, টেকনাফের মাথা থেকে ৯ কিলোমিটার দূরে: স্বচ্ছ পানি, নারকেল গাছ আর কেয়াবন। পর্যটকদের জন্য খোলা শুধু নভেম্বর থেকে মার্চের মাঝামাঝি, কক্সবাজার শহর থেকে জাহাজে।

ভ্রমণের পরিকল্পনা

খোলা থাকে
২০২৬–২৭ মৌসুম: ১ নভেম্বর থেকে ১৫ মার্চ; বছরের বাকি সময় পর্যটকদের জন্য বন্ধ। নভেম্বর: শুধু দিনের ভ্রমণ। ১ ডিসেম্বর থেকে ৩১ জানুয়ারি: রাতে থাকা যাবে। ফেব্রুয়ারি থেকে ১৫ মার্চ: দিনের ভ্রমণ; রাতে থাকার নিয়ম স্পষ্ট নয়। দিনে প্রায় ৩,৫০০ জন।
সেরা সময়
ডিসেম্বর আর জানুয়ারি, কারণ শুধু এই দুই মাসেই রাতে থাকা নিশ্চিত; দিনের ভ্রমণে দ্বীপে থাকা যায় মাত্র কয়েক ঘণ্টা।

এক নজরে

মৌসুম ২০২৬–২৭
১ নভেম্বর – ১৫ মার্চ
রাত্রিযাপন
ডিসেম্বর আর জানুয়ারি
দৈনিক সীমা
প্রায় ৩,৫০০ জন
জাহাজ ছাড়ে
নুনিয়াছড়া জেটি, কক্সবাজার

সম্পর্কে

সেন্ট মার্টিন, যার আরেক নাম নারিকেল জিঞ্জিরা, প্রবাল পাথর আর বালুর ছোট, নিচু একটি দ্বীপ: একটি গ্রাম, তীরে টেনে তোলা মাছ ধরার নৌকা, আর মৌসুমে দর্শনার্থীদের ভিড়। উপকূলের আর কোথাও পানি এত স্বচ্ছ নয়। পশ্চিম আর উত্তরের সৈকত খোলা সাগর আর সূর্যাস্তের দিকে মুখ করা; জেটি আর গ্রাম পূর্ব দিকে; দক্ষিণ মাথার ওপারে ছেঁড়া দ্বীপ।

দ্বীপটি পরিবেশগতভাবে সংকটাপন্ন এলাকা। সাম্প্রতিক মৌসুমগুলোতে সরকার একে শুধু অল্প কয়েক মাসের জন্য, দৈনিক দর্শনার্থীর সীমা বেঁধে খুলছে। ২০২৬–২৭ মৌসুমে দ্বীপ খোলা ১ নভেম্বর থেকে ১৫ মার্চ। নভেম্বরে শুধু দিনে গিয়ে দিনেই ফিরতে হবে; ডিসেম্বর আর জানুয়ারিতে রাতে থাকা যাবে; ফেব্রুয়ারি থেকে ১৫ মার্চ দিনের ভ্রমণ চলবে, তবে রাতে থাকা নিয়ে সংবাদমাধ্যমের তথ্য মেলে না, তাই কক্ষ বুক করার আগে নিশ্চিত হয়ে নিন। প্রত্যেক দর্শনার্থীকে ৳১০০ পরিবেশ সংরক্ষণ ফি দিতে হয়।

দ্বীপের নিয়মগুলো কড়া, আর তা প্রবাল, সৈকতে ডিম পাড়তে আসা সামুদ্রিক কাছিম আর বালু ধরে রাখা কেয়াবনের জন্য: একবার ব্যবহারের প্লাস্টিক নয়; রাতে সৈকতে আলো জ্বালানো, উচ্চ শব্দে গান বা বারবিকিউ নয়; বালুর ওপর মোটরসাইকেল বা জেট স্কি নয়; কেয়াবনে ঢোকা নয়; আর প্রবাল, ঝিনুক বা কোনো সামুদ্রিক প্রাণী তুলে আনা নয়। বিদ্যুৎ সীমিত, মিঠা পানিও কম।

যাওয়ার পথ: অনুমোদিত পর্যটক জাহাজ ছাড়ে শুধু কক্সবাজার শহরের নুনিয়াছড়ার বিআইডব্লিউটিএ জেটি থেকে; টেকনাফ আর ইনানী হয়ে যাওয়া যায় না, ট্রলার বা স্পিডবোটও নয়। গত মৌসুমে জোয়ার-ভাটা মেনে জাহাজ ছাড়ত সকাল প্রায় ৭টা থেকে ১০টার মধ্যে, আর দ্বীপ থেকে ফিরতি যাত্রা শুরু হতো বিকেল প্রায় ৩টা থেকে ৬টার মধ্যে; প্রতি পথে সময় লাগে ৫ থেকে সাড়ে ৫ ঘণ্টা।

যা করতে পারেন

  • পশ্চিম সৈকত থেকে সূর্যাস্ত দেখুন, তারপর হেঁটে উত্তর সৈকতে যান।
  • গ্রামে টাটকা সামুদ্রিক মাছ খান, ডাবের পানি পান করুন।

জেনে রাখা ভালো

  • জাহাজের টিকিট কিনুন শুধু সরকারি অনলাইন ব্যবস্থায়: অনলাইন নিবন্ধন বা কিউআর কোডসহ ট্রাভেল পাস (travelpass.gov.bd, জাতীয় পরিচয়পত্র লাগে) ছাড়া টিকিট মেলে না, আর বৈধ কিউআর কোড ছাড়া টিকিট জাল বলে ধরা হয়। ছাপানো কপি সঙ্গে রাখুন।
  • একবার ব্যবহারের প্লাস্টিক সঙ্গে নেবেন না: দ্বীপে প্লাস্টিকের ব্যাগ আর ছোট পানির বোতল নিষিদ্ধ।
  • দিনের ভ্রমণে জাহাজ মাত্র কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করে; ফেরার ঘোষিত সময়ের বেশ আগেই জেটিতে ফিরে আসুন।
  • প্রবালের ওপর হাঁটবেন না, কেয়াবনে ঢুকবেন না বা কেয়া ছিঁড়বেন না, আর রাতে সৈকতে আলো জ্বালাবেন না: সেখানে কাছিম ডিম পাড়ে।

কীভাবে যাবেন

হেঁটেই। দ্বীপ এত ছোট যে এক দিনে হেঁটে পুরোটা ঘুরে আসা যায়, সৈকতগুলো বালু আর পায়ে চলা পথে জোড়া। সৈকতে মোটরসাইকেলসহ কোনো মোটরযান চলতে দেওয়া হয় না।

কক্সবাজার গাইড পড়ুন

কাছাকাছি

সমুদ্রসৈকতTanjeem Farhan · CC BY-SA 4.0

পশ্চিম সৈকত, সেন্ট মার্টিন

০ কিমি, কক্সবাজার

দ্বীপের লম্বা পশ্চিম তীর, খোলা বঙ্গোপসাগরের দিকে মুখ করা: বালুর মাঝে প্রবাল পাথর, পেছনে নারকেল গাছ আর কেয়াঝোপ, আর ঠিক সামনে সূর্যাস্ত।

স্মৃতিস্তম্ভ ও স্মৃতিসৌধFahad Faisal · CC BY-SA 3.0

সমুদ্র বিলাস, হুমায়ূন আহমেদের বাড়ি

১ কিমি, কক্সবাজার

দ্বীপের পশ্চিম সৈকতে কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের তৈরি সমুদ্রতীরের বাড়ি; এখন তাঁর পরিবারের চালানো ব্যক্তিগত অতিথিশালা, বেশিরভাগ দর্শনার্থী দেখেন বাইরে সৈকত থেকে।

সমুদ্রসৈকতMd. Rabiul Islam · CC BY 3.0

উত্তর সৈকত, সেন্ট মার্টিন

১ কিমি, কক্সবাজার

গ্রাম আর জেটির কাছের উত্তর তীর: সবচেয়ে সহজে পৌঁছানো যায় এমন সৈকত, মাছ ধরার নৌকা, ভাটায় প্রবালের চর, আর দিগন্তে মিয়ানমারের পাহাড়।

সমুদ্রসৈকতMuntasir du · Public domain

সেন্ট মার্টিন জেটি ও পূর্ব পাড়

১ কিমি, কক্সবাজার

দ্বীপের পূর্ব তীরে যেখানে জাহাজ ভেড়ে, গ্রামের পাশে: এখানেই আপনি নামবেন আর এখান থেকেই ফিরবেন।

দ্বীপNo machine-readable author provided. Shmunmun assumed (based on copyright claims). · Public domain

ছেঁড়া দ্বীপ

৫ কিমি, কক্সবাজার

সেন্ট মার্টিনের দক্ষিণ মাথার ওপারে কয়েকটি ছোট দ্বীপ, বাংলাদেশের মানচিত্রের শেষ ভূখণ্ড: প্রবাল পাথর, কেয়াঝোপ আর সরু বালুর রেখা। রক্ষার জন্য এখানে পর্যটকদের যাওয়া সীমিত।

সমুদ্রসৈকতMuntasir du · Public domain

ইনানী সৈকত

৭৩ কিমি, কক্সবাজার

শহর থেকে প্রায় ২৭ কিলোমিটার দক্ষিণে: প্রবাল পাথরের সৈকত, সবুজ পাহাড়ের নিচে পরিষ্কার বালুতে ছড়ানো কালো পাথর, শহরের পয়েন্টের চেয়ে অনেক নিরিবিলি।

অবস্থান

সেন্ট মার্টিন দ্বীপ, কক্সবাজার

সংশোধন জানান

সময়, ভাড়া আর খোলার সময় বদলায়। যাওয়ার আগে একবার যাচাই করে নিন।

গিয়েছেন? অ্যাপে চিহ্নিত করুন।

আপনার ঘুরে আসা জায়গা আর জেলা মানচিত্রে ভরে ওঠে, ব্যাজ অর্জন হয়, আর অফলাইনেও আপনার সঙ্গে থাকে।