যার জন্য পরিচিত
- ১
দেশের সবচেয়ে পুরোনো নগর।
বগুড়া শহর থেকে ১৩ কিলোমিটার উত্তরে করতোয়ার তীরে মহাস্থানগড়, প্রাচীরঘেরা পুণ্ড্রনগর, যেখানে অন্তত খ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয় শতক থেকে মানুষের বসতি। দুর্গের দেয়াল, জাদুঘর, নদীর বাঁকে গোবিন্দ ভিটা আর ভাসু বিহারের বৌদ্ধ বিহার মিলে পুরো একটা দিন।
- ২
কিংবদন্তি আর পুরোনো মসজিদ।
গোকুল মেধকে লোকমুখে বলা হয় বেহুলার বাসর ঘর, মনসামঙ্গলের কাহিনির সেই ঘর; দুর্গের ওপরে শাহ সুলতান বলখীর মাজার; আর শহরের দক্ষিণে শেরপুরে ১৫৮২ সাল থেকে দাঁড়িয়ে আছে খেরুয়া মসজিদ।
- ৩
দই আর যমুনা।
বগুড়ার দই সারা দেশে পরিচিত; শহরেই খেয়ে দেখুন। পূর্বে যমুনার তীরে সারিয়াকান্দি, বিস্তীর্ণ চর আর নৌকা।
সেরা মৌসুম
ভালোমোটামুটিনভে–ফেব্রু
নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি: শুকনো, ঠান্ডা দিন, মহাস্থানগড়ের খোলা ধ্বংসাবশেষে হাঁটার উপযোগী। গ্রীষ্মে ছায়াহীন ঢিবিতে গরম, আর বর্ষায় সারিয়াকান্দিতে যমুনা ভরা ও খরস্রোতা।
কীভাবে যাবেন
বাস
ঢাকা
৫–৬ ঘণ্টা
যমুনা সেতু হয়ে; অনেক কোম্পানি, দিনে ও রাতে
ট্রেন
ঢাকা
বগুড়া স্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেন; সময়সূচি দেখে নিন
ঘুরে বেড়ানো
বগুড়া শহর
মহাস্থানগড়ে ৩০ মিনিট
রংপুর সড়কে বাস বা সিএনজি
ঢাকা থেকে যমুনা সেতু হয়ে বগুড়া বাসে প্রায় ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা। উত্তরের রেলপথে বগুড়ায় স্টেশনও আছে। শহর থেকে রংপুর সড়কে বাস বা সিএনজিতে আধা ঘণ্টায় মহাস্থানগড়; শেরপুর দক্ষিণে ঢাকা সড়কে।
স্থানীয় খাবার
বগুড়ার দইঅবশ্যই চেখে দেখুন
মাটির পাত্রে মিষ্টি দই
কটকটি
মহাস্থানগড়ে বিক্রি হওয়া শক্ত ভাজা মিষ্টি
মাটির পাত্রে জমানো মিষ্টি দই, বগুড়ার দই, এখানে খাওয়ার আর বাড়ি নেওয়ার জিনিস। মহাস্থানগড়ে দোকানে মেলে কটকটি, এই জায়গার সঙ্গে জড়ানো শক্ত ভাজা মিষ্টি।
দেখার মতো জায়গা
প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানShahnoor Habib Munmun · CC BY 3.0গোকুল মেধ (বেহুলার বাসর ঘর)
মহাস্থানগড়ের দক্ষিণে উঁচু ধাপকাটা ইটের ঢিবি, লোকমুখে বেহুলার বাসর ঘর, মনসামঙ্গলের বেহুলা-লখিন্দরের সেই ঘর।
প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানShahnoor Habib Munmun · CC BY 3.0গোবিন্দ ভিটা
মহাস্থানগড়ের প্রাচীরের ঠিক উত্তরে করতোয়ার বাঁকে মন্দিরের ঢিবি, ১৯২৮–২৯ সালে খনন করা।
মসজিদ ও মাজারAsaduzzaman · CC BY-SA 4.0খেরুয়া মসজিদ
শেরপুরে ১৫৮২ সালে গড়া ছোট তিন গম্বুজের ইটের মসজিদ, যেখানে সুলতানি রীতির সঙ্গে প্রথম দিকের মুঘল রীতি মিলেছে।
জাদুঘরMasum-al-hasan · CC BY-SA 4.0মহাস্থান প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর
দুর্গের পাশে ১৯৬৭ সালে খোলা জাদুঘর, মহাস্থানগড় আর উত্তরের অন্যান্য প্রাচীন স্থানের পোড়ামাটির ফলক, মুদ্রা, ভাস্কর্য আর লিপি নিয়ে।
প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানZaheed Sarwer Khan · CC BY 4.0মহাস্থানগড়
করতোয়ার তীরে প্রাচীন পুণ্ড্রনগরের প্রাচীরঘেরা দুর্গ, বাংলাদেশে পাওয়া সবচেয়ে পুরোনো নগরের স্থান, অন্তত খ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয় শতক থেকে মধ্যযুগ পর্যন্ত বসতি।
নদী, হ্রদ ও হাওরIbrahim Husain Meraj · CC BY-SA 3.0সারিয়াকান্দিতে যমুনা
বগুড়ার পূর্ব প্রান্তে চওড়া যমুনা, বালুচর আর চর, সারিয়াকান্দির তীর থেকে নৌকা ভাড়া।
মসজিদ ও মাজারMasum-al-hasan · CC BY-SA 4.0শাহ সুলতান বলখীর মাজার
মহাস্থানগড় দুর্গের ওপরে সাধক শাহ সুলতান বলখী মাহিসওয়ারের মাজার, প্রতিদিন ভিড় টানা তীর্থস্থান।
বৌদ্ধ বিহার ও প্যাগোডাMahfuzcong · CC BY-SA 4.0ভাসু বিহার
মহাস্থানগড় থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার পশ্চিমে দুটি বৌদ্ধ বিহার আর একটি মন্দিরের খনন করা ধ্বংসাবশেষ, স্থানীয় নাম নরপতির ধাপ।
সময়, ভাড়া আর খোলার সময় বদলায়। যাওয়ার আগে একবার যাচাই করে নিন।
এই গাইডটি অফলাইনে নিয়ে যান।
একই গাইড, প্রতিটি জায়গা আর ছবি, ইন্টারনেট ছাড়াই আপনার ফোনে। পৌঁছে জেলাটি চিহ্নিত করুন।
